April 19, 2019

যেভাবে উদ্ধার করা হলো শাহনাজের বাইক

শাহনাজের কথা সবাই জানে, জানে তার সাহসীকতার কথা। তিনি এক সাহসী নারী বাইকার।

14155787দ্যা গ্লোবালনিউজ২৪ :: রাইড শেয়ারিংয়ে তিনি নারী-পুরুষ সবাইকেই পাশে বসাতেন। কিন্তু হঠাৎ করেই তার বাইকটি চুরি হয়ে যায়। মঙ্গলবার দুপুরে চাকরি দেওয়ার কথা বলে রাজধানীর খামারবাড়ি থেকে স্কুটি বাইকটি নিয়ে পালিয়ে যায় জনি নামের ওই যুবক। পরে ওই ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন শাহনাজ। জিডি নম্বর ৯১১।জিডিতে উল্লেখ করা হয়, জনি (২৭) নামে এক পাঠাওচালকের সঙ্গে পরিচয় হলে সে তাকে (শাহনাজ আক্তার) চাকরি দেওয়ার কথা বলে। মঙ্গলবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে খামারবাড়িতে চাকরির জন্য আসতে বলে। তবে চাকরির জন্য যার সাথে দেখা করানোর কথা ছিল সে আসেনি।

জনি তার (শাহনাজ আক্তার) সঙ্গে স্কুটিতে করে এয়ারপোর্টসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরে শেরেবাংলা নগর থানার রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তায় চা পান করতে যায়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শাহনাজের ক্রন্দনরত ছবি ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই শাহনাজের সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে চায়। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী রাতেই ঘোষণা দেন, তারা বাইকটি উদ্ধারের চেষ্টা করবেন। না পেলে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে সেইম মডেলের বাইক কিনে দেয়া হবে। এছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই শাহনাজকে সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসেন।

শেষ পর্যন্ত বাইকটি উদ্ধার করা হয়েছে। তেজগাঁও জোনের সহকারী কমিশনার আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেনের নেতৃত্বে গত রাতে অভিযান চালিয়ে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকা থেকে স্কুটি মোটরবাইকটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় প্রতারক জনিকে আটক করা হয়েছে।   চুরি হওয়া স্কুটি মোটরবাইক ও আটক জনিকে ঢাকা এনে শেরেবাংলা নগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

তেজগাঁও জোনের সহকারী কমিশনার আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, ‘আমার ডিসি বিপ্লব সরকার স্যার গতকাল রাতে বলেন, শাহনাজ নামের এক নারীর মোটরবাইক চুরি হয়েছে যেভাবে হোক উদ্ধার করতে হবে; এটা সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ ভাইরাল হয়েছে। আমি তার নির্দেশনা মোতাবেক অপারেশনে নামি। ‘

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথমেই প্রযুক্তির মাধ্যমে জনির অবস্থান শনাক্ত করি। বুঝতে পারি যে সে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় অবস্থান করছে। এরপর রাত তিনটায় আমরা লোকাল থানার সহায়তা নিয়ে সাড়ে তিনটার দিকে জনিকে আটক করতে সক্ষম হই। আমার সঙ্গে থাকা ইনসপেক্টর (তদন্ত) আজাদ ও ইনসপেক্টর (অপারেশন) আহাদ আমাকে বিশেষ সহযোগিতা করেন। এছাড়াও ডিসি স্যার আমাকে নির্দেশনা দিয়ে গেছেন যে কারণে আমরা সহজেই চুরি যাওয়া বাইক ও চোরকে ধরতে পেরেছি। ‘

গত এক মাস ধরে মোবাইল স্মার্টফোনের অ্যাপভিত্তিক ট্যাক্সি-সেবার নেটওয়ার্ক উবারের মাধ্যমে মোটরবাইক চালাচ্ছেন শাহনাজ আক্তার। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের কল্যাণে তিনি অনেকটাই পরিচিত হয়ে উঠেছেন।

Related posts