September 25, 2018

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি কোথায় এসে দাঁড়িয়েছে?

নিজেস্ব সংবাদদাতাঃ  যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির স্টেট কমিটি গঠনের পক্রিয়া চলছে। ইতিপূর্বে গ্রেটার ওয়াশিংটন বিএনপিকে ভেঙ্গে ভার্জিনিয়া, মেরিল্যান্ড এবং ডিসি নামে তিনটি স্টেট কমিটি গঠন করা হয়। এছাড়াও নিউজার্সী, ফ্লোরিডাসহ আরো কয়েকটি স্টেটে বিএনপির স্টেট কমিটি গঠন করা হয়। সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক এহসানুল হক মিলনের তত্ত্বাবধানে এ সকল স্টেট কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া হয়েছে এবং চলছে। হাই কমান্ডের নির্দেশের কথা উল্লেখ করে জনাব এহসানুল হক মিলন বিভিন্ন স্টেটে বিএনটির স্টেট কমিটি গঠন করলেও কেন্দ্র থেকে মৌখিক ভাবে কয়েকটি স্টেট কমিটিকে কাজ চালিয়ে যেতে বলে এবং অন্যান্য স্টেট কমিটিগুলো কেন্দ্রে পরবর্তী পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছে যা মৌখিক অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

উল্লেখ্য যে, ইতিপূর্বে সকল কমিটি স্থানীয় সম্মেলনের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি নিয়ে মতবিরোধ, গ্রুপিং, দ্বন্দ্ব অনেক দিনের। ২০১১ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া যুক্তরাষ্ট্র সফর কালে ঘোষণা দিয়ে গিয়েছিলেন শীঘ্রই যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি দেয়া হবে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির ভিন্ন ভিন্ন গ্রুপের নেতা-কর্মীরা নিজ নিজ প্লাটফরম থেকে দলের কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

প্রতি বছরের বিভিন্ন মাসে কেন্দ্র থেকে নেতৃবৃন্দ এসে আশার বাণী শুনিয়ে যান। আদর-আপ্পায়ন, লবিং, নেতাদের পেছনে অর্থ-সময় ব্যয় করে বছরের পর বছর যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির বিভিন্ন গ্রুপের নেতারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সকল গ্রুপের চাহিদা কেন্দ্র যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি ঘোষণা করা হোক। সকলেই যে যার অবস্থান থেকে নিজের পজিশনের জন্যে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। যখনই আওয়ামী লীগ বিরোধী কিংবা শেখ হাসিনার যুক্তরাষ্ট্র সফরের বিষয় আসে তখন এ সকল নেতারা যে যার অবস্থান থেকে সরকার বিরোধী আন্দোলন করে আসছেন।

দেশের স্বার্থ বিরোধী সরকারের ভূমিকার বিরুদ্ধে তারা সোচ্চার ভূমিকা রেখেছেন এবং বিএনপির বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার ভূমিকার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। দেখা গেছে শেখ হাসিনার যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে বিমানবন্দরে, জাতিসংঘের সামনে, ওয়াশিংটনে ক্যাপিটল হিল এবং হোয়াইট হাউসের সামনে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি প্রতিবাদ সভা, বিক্ষোভ সমাবেশ, কালো পতাকা প্রদর্শন ইত্যাদি কর্মসূচি পালন করেছে। দলের ভেতরে গ্রুপি থাকলেও সরকার বিরোধী প্রতিবাদ সমাবেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির ছাউনিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিগত দিনে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি ঘোষণা করার দীর্ঘদিনের আশ্বাসকে পাশ কাটিয়ে হঠাৎ করে নতুন আওয়াজ শোনা গেল কেন্দ্রীয় নেতার কণ্ঠে- ‘আগে স্টেট কমিটি, পরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি দেয়া হবে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, হাই কমান্ড থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সকল গ্রুপকে নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়। এ নির্দেশের আলোকে ইতিপূর্বে যখনই কোন কেন্দ্রীয় নেতা যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন তাঁরা প্রায় সকলেই যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সকল গ্রুপকে নিয়ে বসেছেন। নেতা-কর্মীদের কথা শুনেছেন। ঐক্যবদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি গঠনের চেষ্টা করেছেন। ফলশ্রুতিতে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি গঠন করা না হলেও হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে সকল গ্রুপই ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন যে যার অবস্থান থেকে। কোন বৃহৎ কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির প্রায় সকল নেতৃবৃন্দকে দেখা গেছে মাঠে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি কি দাঁড়িয়েছে?

এ প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে নিবেদিতপ্রাণ যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির জনৈক সাবেক নেতা বলেন, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করলেও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি যে অবস্থানে গিয়ে পৌঁছেছে তাতে নিজেকে বিএনপির একজন মানুষ হিসেবে পরিচয় দিতে লজ্জবোধ হয়। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র গ্রুপিং বর্তমানে স্টেট কমিটি গঠনের ফলে বিভেদ স্টেট এবং শহর-এলাকা পর্যায়ে পৌঁছেছে। সাবেক ঐ নেতা বলেন, শুনেছি হাই কমান্ড থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যেন সকল গ্রুপকে নিয়ে স্টেট এবং ফেডারেল কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির একটি স্টেট কমিটিও নেই যেখানে নতুন কমিটি গঠনের ফলে পূর্বের গ্রুপিং কমেছে। বাস্তবতা হল এ সকল স্টেট কমিটির ফলে অনেক একটিভ নেতা-কর্মী বর্তমানে নিষ্ক্রিয় পড়ে বসে আছেন। দলের কর্মকান্ড নিস্তেজ হয়ে পড়েছে এলাকায় এলাকায়।

স্টেট ও ফেডারেল কমিটির দোলাচলে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি কোথায় এসে দাঁড়িয়েছে এবং এর ভবিষ্যত কি? এ প্রশ্ন এখন অনেকের।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি ৩০ জুন ২০১৬

Related posts