November 17, 2018

যুক্তরাষ্ট্র, দ. কোরিয়া ও জাপানের যৌথ মহড়া শুরু

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কঃ  আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কয়েক মাস ধরেই মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে যাচ্ছে উত্তর কোরিয়া। এসব পরীক্ষার বেশির ভাগ ব্যর্থ হলেও গত সপ্তাহে পরিচালিত সফল পরীক্ষাটি গোটা অঞ্চলকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। এর প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ে যৌথ মিসাইল-ট্র্যাকিং ড্রিল শুরু করেছে দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান।

বিবিসি জানিয়েছে, এই প্রথমবারের মতো দেশ তিনটি কোনো যৌথ মহড়ায় অংশ নিল, যা উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলের সম্পর্ক আরেক দফা বৈরী করে তুলেছে। এদিকে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সামরিকভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করতেই এসব মহড়া পরিচালনা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, উত্তর কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্র ছাড়াও চারটি পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো জানায়, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য ‘শত্রু বাহিনী’ উত্তর কোরিয়ার নিরাপত্তার ওপর অব্যাহতভাবে হুমকি সৃষ্টি করে যাচ্ছে। যৌথ মহড়ায় ভীত না হয়ে নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা আরো জোরদারের অঙ্গীকার করেছে দেশটি।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিভাগ জানায়, ‘প্যাসিফিক ড্রাগন’ নামের যৌথ মহড়াটি এরই মধ্যে অংশগ্রহণকারী তিন দেশের সম্পর্ক আরো মজবুত করেছে। তবে এ মহড়া থেকে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়নি। তবে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দেশ এজিস মহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির যোগাযোগ ও তথ্য সংগ্রহ সক্ষমতা পরীক্ষা করেছে।

এজিস সিস্টেমের মাধ্যমে যুদ্ধজাহাজ থেকে শত্রুপক্ষের ব্যালিস্টিক মিসাইল গুলি করে ভূপাতিত করা যায়। এক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতির কোনো ঝুঁকি তৈরির আগেই এ পদক্ষেপ নেয়া যায়। জাতিসংঘের রেজ্যুলেশন অনুযায়ী, ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রযুক্তি ব্যবহার উত্তর কোরিয়ার জন্য নিষিদ্ধ। এরপরও ২২ জুন কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দুবার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে দেশটি।

দুটি পরীক্ষাই মধ্যমাত্রার মোসোডান মিসাইল। তিন হাজার কিলোমিটার বেগের এ ক্ষেপণাস্ত্র দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের যুক্তরাষ্ট্রের অঞ্চলের মধ্যে আঘাত হানতে যথেষ্ট। পিয়ংইয়ংয়ের এ পদক্ষেপকে দেশটির অস্ত্র কর্মসূচির বেশ অগ্রগতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। জাপান একে মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখছে।

Related posts