November 21, 2018

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ছোট ভাই’ হয়েই থাকবে না ফিলিপাইন!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পারফেক্টো ইয়াসায় বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ‘ছোট ভাই’ হয়েই থাকবে না ফিলিপাইন।’ ফিলিপাইনের ‘বন্দুকভক্ত’ প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুয়ার্তের ‘মাদকবিরোধী যুদ্ধে’ মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমালোচনা করার বিপরীতেই তিনি মার্কিন কর্তৃপক্ষকে এসব কথা বলেন।

১৯৪৬ সালের ৪ জুলাই পর্যন্ত ফিলিপাইনে মার্কিন উপনিবেশ কায়েম ছিল। ৭১০৭টি ছোট ছোট দ্বীপ নিয়ে এ দেশটি। প্রথমে এ দেশটি শাসিত হতো মেক্সিকো থেকে। পরে এর শাসনভার চলে আসে মাদ্রিদে। তারও পরে এক চুক্তির মাধ্যমে স্প্যানিশরা ২০ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে কিউবা, পুয়ার্তেরিকো ও গুয়ামের পাশাপাশি ফিলিপাইনের কর্তৃত্বও আমেরিকার কাছে ছেড়ে দেয়। তারপরই সেখানে শুরু হয় মার্কিন শাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। কিন্তু ১৯৪৬ সালে ফিলিপাইনকে স্বাধীনতা দেওয়া হলেও তার ক্লার্ক বিমানবন্দর এলাকাটি আমেরিকার হাতে রেখে দেওয়া হয়। সে অঞ্চলটি আমেরিকা তাদের সুবিধা মতো ব্যবহার করে। তবে মার্কিন উপনিবেশ আমলে ‘ছোট ভাই’ কথাটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতো। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটি বহুদিন ধরেই ওয়াশিংটনের ‘নির্ভরশীল বন্ধু’ ছিল। বিশেষত চীনের বিপরীতে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ছিল দেশটির ওই নির্ভরশীলতার একটা বড় দিক। রদ্রিগো দুয়ার্তে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ফিলিপাইনের দৃশ্যপট কিছুটা বদলাতে শুরু করেছে। বিশেষ করে দেশটির পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন সূচিত হতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি নমনীয় মনোভাবেও আসছে পরিবর্তন। সম্ভবত দেশটিকে এখন পুরোপুরিভাবেই বিদেশ মুক্ত করতে চায় দুয়ার্তে।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র সফররত ইয়াসায় ওয়াশিংটনের ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’-এ বলেন, ‘আমাদের সমাজে বিচারবহির্ভুত হত্যাকা-ের কোনও স্থান নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সবসময়ই যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বস্ত মিত্র বলে মনে করি। কিন্তু সবসময় যুক্তরাষ্ট্রের ‘ছোট ভাই’ হয়েই থাকবে না ফিলিপাইন।’

ইয়াসায় আরও বলেন, ‘ফিলিপাইনে না গিয়ে এখানে বসে উন্নয়নের তালিকা করে আর মানবাধিকারের বুলি আওড়ে গেলে কিছুই হবে না।’

গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে ‘মা তুলে গালি’ দেওয়ার জন্য দুয়ার্তের সঙ্গে বৈঠক বাতিল করেছিল মার্কিন কর্তৃপক্ষ। এরপরই দুয়ার্তে একটি এলাকার নাম উল্লেখ করে বলেছেন, সেখান থেকে মার্কিন বিশেষ সেনা বাহিনীকে সরে যেতেই হবে। তার বক্তব্যের সপক্ষে তিনি যে যুক্তি দেখিয়েছেন, সেটা হলো সে অঞ্চলে সন্ত্রাসী কর্মকা- এমনই প্রাবল্য লাভ করেছে যে যেকোনো সময় মার্কিন বাহিনীর দু’একজন সদস্যকে সন্ত্রাসীরা জিম্মি করে ফেলতে পারে। তার দায় দেশটি নেবে না। অথচ মার্কিন সেনা সদস্যরা সেখানে ফিলিপাইনের সেনা বাহিনীকেই প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।

চলতি বছরের মে মাসে ক্ষমতায় আসার পরপরই রক্তাক্ত মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করেন দুয়ার্তে। কর্তৃপক্ষের হিসেব অনুসারে, এতে ১ জুলাই পর্যন্ত অন্তত তিন হাজার ৫২৬ জন নিহত হয়েছেন। পুলিশি অভিযানে এক হাজার ৪৯১ জন এবং দুই হাজার ৩৫ জন বিভিন্ন সশস্ত্র গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে অন্তত ১৬ হাজার ৫০০ জন সন্দেহভাজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আরও সাত লাখ ১০ হাজার ৯৬১ জন আত্মসমর্পণ করেছেন।

Related posts