December 17, 2018

যুক্তরাজ্যে নির্বাচনে হেরেছেন থেরেসা মে সরকারের ৮ মন্ত্রী

aইউরোপ ::

ব্রিটেনে সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে হেরেছেন থেরেসা মে সরকারের আট মন্ত্রী।

ব্রিটেনের এ সাধারণ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি পার্লামেন্টে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। আসন সংখ্যা আগের চেয়ে ১২টি কমে ৩১৮তে নেমে গেছে। এর মধ্যে থেরেসা মে সরকারের আট জন মন্ত্রীও রয়েছেন। জোট সরকার গঠনের প্রাক্কালে তাদের পরাজয়ে দুঃখপ্রকাশ করেছেন মে।

নিয়ম অনুযায়ী, এককভাবে সরকার গঠন করতে হলে কোনো দলকে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউজ অব কমন্সের ৬৫০টি আসনের মধ্যে ৩২৬টি আসনে জয় পেতে হয়। বুধবারের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি পেয়েছে ৩১৮টি আসন। তাই ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বাধ্য হয়ে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টিকে (ডিইউপি) নিয়ে জোট সরকার গড়ছেন থেরেসা মে।

নির্বাচনে পরাজিত মন্ত্রীদের তালিকায় আছেন আবাসন ও পরিকল্পনা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী গ্যাভিন বারওয়েল, সুশীল সমাজ বিষয়ক মন্ত্রী রব উইলসন, ট্রেজারি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জেন ইলিসন, জনস্বাস্থ্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নিকোলা ব্ল্যাকউডের মত প্রথম সারির রাজনীতিবিদ। এবারের নির্বাচনে হেরেছেন কনজারভেটিভ পার্টির নির্বাচনী ইশতেহারের রচয়িতা বেন গামারও। ডেভিড ক্যামেরন সরকারের সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী ও লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের নেতা নিক ক্লেগও পরাজিত হয়েছেন।

দল ও সরকারের প্রথম সারির বেশ কয়েকজন রাজনীতিকের পরাজয়ে দুঃখপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে।

তিনি বলেন, ‘তারা দল ও দেশের জন্য অনেক করেছেন। এবারের নির্বাচনের আগেও যথেষ্ট পরিশ্রম করেছেন। তাদের পরাজয়ে আমি দুঃখিত।’

এদিকে নতুন সরকার গঠনে উদ্যোগী হয়েছেন মে। শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি জানান, আগের সরকারের মন্ত্রিসভার অনেকেই স্বপদে বহাল থাকছেন। এ তালিকায় আছেন অর্থমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ড, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আম্বার রুড, পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইকেল ফ্যালন এবং ব্রেক্সিট বিষয়ক সেক্রেটারি ডেভিড ডেভিস।

তবে জোট সরকারের শরিক ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টি (ডিইউপি) থেকে কতজন কিংবা কে মন্ত্রী হচ্ছেন সেই বিষয়ে কোনো ঘোষণা আসেনি।

২০১৫ সালের নির্বাচনে এককভাবে সরকার গঠন করে রক্ষণশীল দল। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতা নেন ডেভিড ক্যামেরন। গত জুনে ব্রেক্সিট ইস্যুতে আয়োজিত গণভোটে ব্রিটিশ জনগণ ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে রায় দিলে পদত্যাগ করেন তিনি। এর পর যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পান মে। ২০১৯ সালে পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও মের ঘোষণা অনুযায়ী আগাম নির্বাচন হয়েছে। আর এ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় দলটি।

Related posts