September 25, 2018

“ যারা ফেরাউন ও তাদের বান্ধবী ”

মীর্জা শ. হাসান।

“ প্রিয় বান্ধবী, নিজের ঘরে বউকে রেখে যারা অপর নারীদের সাথে কথা বলে, শারীরিক সম্পর্ক করে, তারা তো পাপী। তাদের জন্য আললাহ্ আমাদের আযাব দেন, প্রচন্ড গরমে অনাবৃষ্টি হয়। আর তাদের সাথে দিনদিন পাপ করেছো। ভূলে গেলে তোমার অস্তিত্ব ,  পরিচয়। আমার দেশের মাটিতে যেনো তোমাদের স্থান না হয়। আমার দেশ সহীদদের রক্তের জন্য, কাজী নজরুলের,কবি গুরুর.. সুফিয়া কামালের। ”

একটি নারীর সাথে আমার দেবাৎক্রমে পরিচয় হয়েছিলো। তবে হওয়াটা স্বাভাবিক ছিলো বেশ। ধমধবে সাদাসিদে হিজাবী। সুমিস্ট ভাষিনী; যদি বন্ধুত্বের উপড় নবেল পুরস্কার দেয়া হতো তবে সে নারী হয়তো প্রথম পুরস্কার পেতো। তবে এটা আমার প্রথম দিককার অনুভূতি। নিদারূন গভীর দৃষ্টি, কেমন যেনো অনুসন্ধানী ভাবে এদিক সেদিক দৃস্টি ছিলো তার। মনে হতো ক্ষুর্ধাত কাক পানি খুজে বেরাচ্ছে। তবে এটা আমার কাছে প্রথমে তুচ্ছ মনে হতো। জাতে পুরুষ বলে হয়তো নারীকে ছাড় দিলাম। চলছিলো পরিচয়, প্রায় থেকে বেশ বন্ধুত্ব। সাথে সামান্য অন্ধত্ব।

প্রথমে বলেছিলাম , “বন্ধুত্বের উপড় নবেল পুরস্কার দেয়া হতো তবে সে নারী হয়তো প্রথম পুরস্কার পেতো ” । একবার কোন এক কারনে কোন এক স্থানে কিছু বখাটে যুবকের মাঝে পড়লাম। আমাদের জোড় র্পূবক একটি বাড়ীর ছাদে নিয়ে গেলো। তবে তার আগে খুব অল্প সময়ের একটি সুযোগ ছিলো তার সেখান থেকে কেটে পড়ার। এটা তার মাথায় ছিলো কিনা জানিনা তবে হয়তো কেনো যেনো সে গেলো না। সে বিশাল কাহিনী।

… .. । অবশেষে তার হাতে, কানে আর গলায় যা ছিলো যুবকদের দিয়ে রক্ষা পেলাম দু’জনে। তাতে আমাদের বন্ধুত্ব আরো গাড়ো হলো এবং বরাবর পবিত্র। তবে আমি তাকে একটু সীমাবদ্ধতায় ফেলে দিয়েছিলাম। যেমন, রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে .. সকালে উঠতে .. শুধু চাকুরী সংসার আর পরিবার নিয়ে থাকতে … সবার সাথে আড্ডা না দিতে … আত্ম সম্মানবোধ বাড়াতে … ইত্যাদি- ব্যাপারে বেশ বন্ধুত্বে অধিকার মেটাতাম। সে শুনতো; মনে হতো কঠিন খাবার ইচ্ছে না থাকাতেও থেতে হবে বলে চিবিয়ে খাচ্ছে। পবিত্র এবং জান্নাতী বন্ধুত্ব ছিলো। ( হয়তোবা )

মনে হচ্ছিলো বন্ধ্বু বলতে যা বুঝি তার সবকটি পেলাম। কোন সৎ  কর্মের ফল সু-বন্ধুত্ব। তবে সে যে কোনকোন ব্যাপারে একটি শ্রেষ্ঠ মানবী তা সত্য। আমাদের সমাজে একটি ক্যান্সার আছে, তা হলো মোবাইল আসক্ত। এ রোগটি কোন বয়স মানছে না। যাকে তাকে ধরে আসক্ত করছে। কারও সংসার আর কারও বন্ধুত্ব ভেঙ্গে দিচ্ছে । সন্তানের মা হয়েও মায়া ত্যাগ করে সংসার ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে এ রোগের কারনে। আমার বন্ধুটি একা ছিলো আর দু:ক্ষীতো বটেই। কেননা, এমন সুন্দর র্স্মাট, দায়িত্ববোধ সম্পন্ন মেয়েকে যে ছেলে ছেড়ে দেই সে নিতান্ত বোকা। নাকি মেয়েটি বোকা….?

যদি কোন ছেলে বাহিরে থেকে এসে দেখে তার স্ত্রী কারও সাথে র্দিঘক্ষণ কথা বলছে বা সংসার, সম্মান, খ্যাতি, ক্ষমতা আর সন্তান নিয়ে শান্ত নয়। তার অমক বন্ধু – সে আড্ডা – সে ছেলে – কই আছে, খবর নিতে সারা দিন কেটে দেয় তো স্বামী কি ভাবে নেবেন কে জানে..। একেন জন মানুষ ব্যপারটা একেক ভাবে নেবে। হুম, অবশেষে তাদের মাঝে মারামারি, ঝগড়া পরিণতি ছাড়াছাড়ি। সে বিশার কাহিনী। কি প্রয়োজন ছিলো…। তার পর শুরু হলো এলোমেলো জীবন । এদিক সেদিক। যোগ্যতার তুলনায় খুব ছোট্ট একটি চাকুরী নিলেন আর কটি টিউশনি। রাজরাণী এবার রাস্তায় হেটে হেটে আয় রোজগার শুরু করতে লাগলেন। ঘরে একটি সন্তান আর মা-বাবা। সেখানেও শান্তি নেই। প্রতিটা কলিক, বান্ধবীর স্বামী, বান্ধবীর বন্ধু, সম্পকের মামা-রা একের পর এক মোবাইলে ফোন দিতে থাকে। এভাবে একটি বৎসর…। সারা রাত্র সারা দিন কথা আর দেখা আর কথা। লেখকের সাথে মানে আমার সাথে পরিচয় হলো এমেন এটি সময়ে। এটা সেটা ওটা …  ইত্যাদি।

-তোমাকে বন্ধু হিসেবে চাই।

— কেনো..?

-মানষিক ভাবে বাধা থাকতে চাই, আমি ভালো থাকতে চাই
— তাহলে আমার কিছু সপথ আছে করতে হবে, কোরআন ছূয়ে
– কি ?

— কোন বাজে কাজ করা যাবে না, বাজে জীবনে আর ফেরৎ যাওয়া যাবে না, শুধু সন্তান চাকুরী আর পড়াশোনা নিয়ে থাকতে হবে, … ইত্যাদি

সে শপথ করেছিলো। যাযা বল্লাম তাই তাই করবে। কিন্তু স্বভাব নাকি কয়লার মতো। যতো হোক কালো রং যাবে না, প্রয়োজনে নিজেকে পুড়োটাই শেষ করে দেবে…!! সেই মিথ্যাচার, মোবাইল আসক্ত, সারারাত্র ছেলেদের সাতে আলাপন, অসুস্থ বাবাকে হাসপাতালে রেখে … ..

না, আমি তোমাকে আমার লেখার উপকরণ হিসেবে নিইনি। আমার একটি স্বপ্ন ছিলো। পৃথিবীর সবাই তোমাকে দেখবে, সেল্যূট দেবে, তুমি কবিতা আবৃতি করবে। সবাই হাত তালি দেবে…। হলো না। আমি র্ব্যথ একজন বন্ধু তোমার। জান্নাতের পথে রাখতেই পারলাম না। তুমি নিজে গেলে নম্বই বাগ আমি ছেড়ে দিলাম তোমার হাত। কেননা, তোমার শরীকে রাজাকারদের ঘামের র্দূগন্ধ, তোমার মুখে রাজাকার মরা লাশের বাজে গন্ধ। তোমাকে দেখলেই আমার বমি আছে, সারা রাত নির্ঘূম ছটফট্ করি। তুমি যে কোনদিন আমার বন্ধু ছিলে ভাবতেই দিশে হারিয়ে ফেলি। তুমি হতে পারতে বিশ্বজয়ী। তুমি হতে পারতে মমতাময়ী। তুমি যাদের সাথে কথা বলো ওরা তো কারও স্বামী, নিজের ঘরে বউকে রেখে যারা অপর নারীদের সাথে কথা বলে, শারীরিক সর্ম্পক করে, তারা তো পাপী। তাদের জন্য আল্লাহ্ আমাদের আযাব দেন, প্রচন্ড গরমে অনাবৃষ্টি হয়। আর তাদের সাতে দিনদিন পাপ করেছো। ভূলে গেলে তোমার অস্তিত্ব, পরিচয়। আমার দেশে মাটিতে যেনো তোমাদের স্থান না হয়। আমার দেশ সহীদদের রক্তের জন্য, কাজী নজরুলের,সুফিয়া কামালের।

তুমি যদি কালকে পাপ না করো, পরশু অনেক পাপ হবার নুযোগ পাবে না। কেনো বারবার পাপ করো? কি সুক পাও জানিনা। একটি ব্যাগ হাতে নিয়ে মাঝেমাঝে বান্দবরি বাসায় যেতো। সেখানে চলতো পাপের আড্ডা, কারও বাবা, কারও সন্তানরা এসে টাকা নস্ট করে।
ওহ সৃষ্টি কর্তা আমাদের দয়া করো, পাপের সুযোগ তেকে রক্সা করো।।

লেখক পরিচিতি: প্রকৌশলী মীর্জা শামীম হাসান।জাতীয় আইন কলেজ, ঢাকা।

Related posts