September 25, 2018

ময়মনসিংহ অঞ্চলে অবাধে চলছে অতিথি পাখি নিধনের মহোৎসব

mymen-bird-pic

মোঃ আজিজুর রহমান ভূঞা বাবুল, ময়মনসিংহ ব্যুরো :: নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ময়মনসিংহ অঞ্চলে অবাধে চলছে অতিথি পাখি নিধনের মহোৎসব। প্রকাশ্যে শিকার ও বিক্রি হচ্ছে দেশী-বিদেশী বিভিন্ন প্রজাতির পাখি।

ময়মনসিংহ অঞ্চলের নেত্রকোনার পুর্বধলা, কলমাকান্দা, ধোবাউড়া ও ময়মনসিংহের গৌরীপুর, ফুলপুর, হালুয়াঘাট থেকে শতাধিক শিকারি এবসব পাখি নিয়ে হাজির হন হাটে। বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত আর শীতে জমে উঠে এ পাখির বাজার।

অনুসদ্ধানে জানা যায়, দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির পাখি শিকার করে বিক্রি করতে আসেন পাখি শিকারিরা। এরমধ্যে প্রতি জোড়া ঘুঘু পাখি ১৪০ টাকা, ওয়াডা পাখি ১২০টাকা, বিভিন্ন প্রজাতির বক জোড়া ১৬০ টাকা, কাইম ছোট পাখি ৮০০’শ টাকা, এছাড়াও ছোট আকৃতির বিভিন্ন পাখি বিক্রি হচ্ছে জোড়া ১০০ টাকা দরে।

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার শ্যামগঞ্জ বাজারে চলছে অবাধে চলছে পাখি বিক্রি। শিকারিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দেশী প্রজাতির এসব পাখির প্রচুর ক্রেতা রয়েছে। তাই তারা বাড়তি আয়ের আশায় পাখি শিকার করছেন। দিনভর পাখি শিকারের পর সেগুলো বিক্রির জন্য হাটে আনা হয়েছে।

পাখি শিকার অপরাধ এটা জেনেও অধিকাংশ শিকারিই বলেন, অপরাধ তো জানি, কিন্তু পেটের দায়ে করতে হয়।
পুর্বধলার শিকারি আব্দুর রহিম জানান, যেখানেই পাখি দেখি, সেখানেই ছুটে যাই। পাখি শিকারের জন্য রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এমনটি উত্তরবঙ্গে যেতে হয়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রচলিত আইন অমান্য করে শ্যামগঞ্জ বাজারে বিভিন্ন বন-জঙ্গল ও জলাশয় থেকে জাঙ্গি, বিষটোপ, বড়শি ও ছিটফাঁদ দিয়ে ওয়াডা, ঘুঘু, শালিক, বক, জালালি কবুতর, পানকৌড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি শিকার করা হয়। পাখি শিকারের এ চিত্র নতুন নয়। গ্রামের সাধারণ শিকারি থেকে শহরের শিক্ষিত লোকজন পর্যন্ত আসেন পাখি শিকার করতে। তবে শীত ও বর্ষায় সৌখিন শিকারিদের আনাগোনা আরও বেড়ে যায়।

পাখি নিধন বন্ধে প্রশাসনিক কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায় না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা পাখির শিকার বন্ধের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন।

গৌরীপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. সাদিকুর রহমান বলেন, অবাধে পাখি নিধনের ফলে পরিবেশ ভারসাম্য নষ্টের পাশাপাশি ও ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। কারণ পাখিরা ফসলের জন্য ক্ষতিকারক পোকা-মাকর খেয়ে ফসলকে রক্ষা করে। অবাধে নিরীহ পাখি নিধন করা হলে  ফসলের ক্ষতির পাশাপাশি প্রকৃতির খাদ্যশৃঙ্খলের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে।’

Related posts