September 19, 2018

মৌসুম ছাড়াই প্রচুর ইলিশ; ৫০ বছরেও দেখা মেলেনি!

191
এ কে আজাদ,চাঁদপুরঃ  ইলিশের রাজধানী খ্যাত চাঁদপুরে মৌসুম ছাড়াই প্রচুর ইলিশ আমদানি হচ্ছে। তবে ইলিশের আকার একটু ছোট। অন্য সময়ের চাইতে গত কয়েক দিন ধরে কয়েক গুণ বেশি ইলিশ ধরা পড়ছে জেলেদের জালে ।

চাঁদপুরে ইলিশ আমদানির কারণে কর্মচ ল ও ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন আড়ৎগুলোর মালিকসহ শ্রমিকরা । জেলে, মৎস্য ব্যবসায়ী, দাদনদার ও শ্রমিকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে। ইলিশের যে দাম হাকা হয়েছে, তা সহনিয় পর্যায়ে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে ।

চাঁদপুর মৎস্য আড়তের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, দক্ষিণা লের নিম্না ল থেকে যেমন ভোলা, চরফ্যাশন, দৌলতখান, হাতিয়া, রামগঞ্জ ও নোয়খালী জেলা থেকে প্রতিদিন চাঁদপুরের আড়ৎগুলোতে সহস্রাধিক মণ ইলিশ মাছ আসছে।

আর এসব ইলিশ বরফের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত করে কোল্ড বাক্সের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের মাওয়া, ঝিনাইদহ, যশোর, এবং ঢাকা, গাজীপুর, সিলেট, জামালপুর, ময়মনসিংহ, শেরপুর, নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশা-পাশী কিছুমাছ চোরাই পথে ভারতও যাচ্ছে।
192
মৎস্য ব্যবসায়ী আলহাজ্ব মিজানুর রহমান (কালু) ভুইয়া জানান,চাঁদপুরের লোকাল নদীতে ইলিশ তেমন পাওয়া যাচ্ছেনা। আমদানিকৃত ইলিশ আসছে দক্ষিণা ল থেকে। তিনি এও যানান, ইলিশের মৌসুম ছাড়া বর্তমান এই সমটিতে যে ইলিশ ধরা পরছে এটা আমাদের ব্যবসায়ীদের জন্য বড় পাওয়া।

মৎস্য ব্যবসায়ী আলী আকবর প্রধানিয়া জানান, দক্ষিণা ল থেকে ইলিশ আমদানি হলেও চাঁদপুর নৌ-সীমানার পদ্মা-মেঘনা নদীতে তেমন ইলিশ ধরা পড়ছে না। আর ছোট আকারের যে সব ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে, সেসব ইলিশ চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।

অপর ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন খান জানান, ইলিশের প্রকৃত মৌসুম হচ্ছে বাংলা বৈশাখ মাস থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত কিন্তু ওই সময়টিতে কাঙ্খিত ইলিশ পাওয়া যায়নি। জেলে, আড়তদার ও দাদনদাররা ইলিশ মৌসুমে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে নদীতে ও সমুদ্রে ইলিশ ধরতে গিয়ে খালি হাতে ফিরেছেন ওই সময়ে। তবে মৌসুম না হলেও বর্তমানে প্রাকৃতিক ভাবেই ইলিশ ধরা পড়ছে। তবে মৌসুমী ইলিশে যে স্বাদ পাওয়া যেতো বর্তমানে আমদানি হওয়া ইলিশে সেই স্বাদ অনেকটা কম হবে।

ব্যবসায়ীরা এখন ইলিশ আমদানির কারণে তাদের সেই সময়ের খরচ অনেকটা পুষিয়ে নিতে পারছেন বলে মৎস্য  ব্যবসায়ী জানান।

ভরা মৌসুমে প্রতি কেজি বড় সাইজের ইলিশ চার/পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর এখন এক কেজি ওজনের ইলিশ দাম কমে তার অর্ধেক হয়েছে।

পুরনো মৎস্য ব্যবসায়ী সিরাজ চোকদার জানান, ৫০ বছরের জীবনে শীত মৌসুমে এ ধরনের ইলিশ নদীতে ধরা পরছে তা দেখিনি। এ সময় প্রচুর ইলিশ আমদানি হচ্ছে, দামও তুলনামূলক অনেক কম। তবে ইলিশ আকারে একটু ছোট। ২শ’ থেকে ৫শ’ গ্রামের ইলিশেরই আমদানিই বেশি।
190
মৎস্য ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিন জমাদার (বাবুল হাজী) জানান, এ বছর শীতে যে ইলিশ ধরা পড়ছে, তা ছোট হওয়ায় প্রতি কেজিতে পাঁচটি থেকে তিনটি পাওয়া যাচ্ছে। তিনশ’ গ্রাম ওজনের ইলিশের মণ ১৪ হাজার, পাঁচ-ছয়শ’ গ্রাম ২৪ হাজার, সাত-আটশ’ গ্রাম ৩৫ হাজার, এক কেজি ইলিশ ৬০-৬৫ হাজার টাকা। প্রতিদিন ৪৫টি আড়তে এসব সাইজের ইলিশ আমদানি হচ্ছে ১২ থেকে ১৫শ’ মণ। অন্য সময় আমদানি হতো চার-পাঁচশ’ মণ।

চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ইলিশ গবেষক ড.মো.আনিছুর রহমান বলেন, সরকার জাটকা নিধন প্রতিরোধে যে প্রচেষ্টায় জাটকা নিধন নিয়ন্ত্রণ করেছেন তারই ফল  মৌসুম ছাড়াই এসব ইলিশ পাওয়া।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts