November 20, 2018

মোহাম্মদ আলীর শৈশবের বাড়িঃ দেখে ও জেনে নিন

মুজতাহিদ ফারুকী: যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যের পশ্চিম লুইসভিলিতে অবস্থিত যে ছোট্ট বাড়িতে সাবেক হেভিওয়েট বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন মোহাম্মদ আলী বেড়ে উঠেছিলেন সেটি খুব শিগগিরই তার ভক্ত ও দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেয়া হবে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জনের আগে মোহাম্মদ আলীর জীবন কেমন ছিলো সে সম্পর্কে দর্শনার্থীরা কিছুটা ধারণা পাবেন। এই বাড়িতে আলীর পরিবার ৪০-এর দশক থেকে ৬০-এর দশকের সুচনা পর্যন্ত দীর্ঘ সময় বসবাস করেন।

দুই বেডরুম এবং এক বাথরুমের এই ছোট্ট গোলাপী রঙের বাড়ির সংস্কারের কাজ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। পেনসিলভেনিয়া রাজ্যের সাবেক বক্সিং কমিশনার এবং এই প্রকল্পের উদ্যোক্তা বলেন, বাড়িটিতে প্রবেশ করা যেন সেই সময়ে ফিরে যাওয়া যখন কেসিয়াস ক্লে নামে পরিচিত মোহাম্মদ আলী তার বাবা-মা এবং ভাইয়ের সঙ্গে এখানে বসবাস করতেন।

ফিলাডেলফিয়ার আইনজীবী জর্জ বোচেট্টো বলেন, “বাড়িটিতে প্রবেশ করার অর্থ যেন আপনি সেই ১৯৫৫ সালের ক্লে পরিবারের একেবারে অন্দরে প্রবেশ করছেন। আলীর দীর্ঘদিনের এই ভক্ত লা ভেগাসের রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগকারী জেয়ারড ওয়েইস-এর সঙ্গে যৌথভাবে এই বাড়িটির বর্তমান মালিক।

বোচেট্টো বলেন, তিন লাখ ডলারের বেশি অর্থ ব্যয় করে প্রায় নয় মাস ধরে সংস্কারের পর আগামী ১ মে বাড়িটি শুভ উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে পাশের আরেকটি বাড়ি কেনার খরচ যেটিকে অভ্যর্থনা কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহার করা হবে। এই মহল্লাতেই আলী মুষ্ঠিযোদ্ধা হবার স্বপ্ন নিয়ে তার প্রস্তুতি শুরু করেন।

১৯৬০ সালে অলিম্পিকে যোগদানের জন্য এই বাড়ি থেকেই আলী যাত্রা করেন। সেখানে স্বর্ণপদক অর্জনের মধ্য দিয়ে যে ক্যারিয়ারের সূচনা হয় তাই তাকে শেষ পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত ব্যক্তিত্বে পরিণত করে। মোহাম্মদ আলী পেশাদারী চুক্তি স্বাক্ষরের পর ক্লে পরিবার এই বাড়ি ছেড়ে যান।
বাড়ির ভেতরে বাইরে পুরনো ছবি ঝুলিয়ে দেয়ার মাধ্যমে এটিকে মোহাম্মদ আলীর অবস্থাকালের অবয়ব দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এমনকি এর বিভিন্ন ফিটিংস, শিল্পকর্ম, এবং এর বাইরের রঙ সবই করা হয়েছে আলী যখন এখানে ছিলেন সেই সময়ের মতো করে। বোচেট্টো বলেন, আমরা চেষ্টা করেছি, মোহাম্মদ আলী কভিাবে মোহাম্মদ আলী হয়ে উঠলেন সেটিই রূপায়নের চেষ্টা করেছি।

মোহাম্মদ আলীর ছোটভাই রহমান আলী বাড়ির সংস্কারে পরামর্শকের কাজ করেছেন। সংস্খারের পর মুগ্ধ রহমান আলী বলেন, এটি ঠিক আমার ছেলেবেলায় যেমন ছিলো তেমনই হয়েছে। শুধু একটিই অভাব রয়েছে, তা হলো আমার বাবা আর মা। তা ছাড়া এটি সর্বাঙ্গ নিখুঁত।
বৃহস্পতিবার থেকে রোববার পর্যন্ত আট ডলারের বিনিময়ে বাড়িটি পরিদর্শন করা যাবে। এখানে মোহাম্মদ আলীর শৈশব জীবনের ওপর নির্মিত ১৫ মিনিটের একটি প্রামাণ্যচিত্র, তিনটি ভিডিও ইত্যাদি থাকবে।

বর্তমানে ৭৪ বছর বয়সী আলী পারকিনসন্স রোগে ভুগছেন। পলে তিনি বা তার স্ত্রী এই বাড়ি পরিদর্শনে আসতে পারেননি। তবে তাদের জন্য যে কোনও সময় এই বাড়ি দেখতে আসার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

বোচেট্টো মনে করেন, এই বাড়িটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। কারণ তারা বুঝতে পারবে, কোনও বিশেষ বাড়িতে বা বিশেষ লোকালয়ে থাকার প্রয়োজন নেই, যে কোনও স্থানে থেকেই আপনি মহান হয়ে উঠতে পারেন। দ্য টেলিগ্রাফ

Related posts