September 18, 2018

মোবাইল ফোনে ‘স্পুফিং’ দিয়ে প্রতারণা!

মোবাইল ফোনে ‘স্পুফিং’ দিয়ে প্রতারণা

স্টাফ রিপোর্টারঃ     মোবাইল ফোনে ‘স্পুফিং’ প্রযুক্তি দিয়ে প্রতারণা মাথা ব্যাথ্যার নতুন কারণ হিসেবে ধরা পড়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কমিশন (বিটিআরসি)’র কাছে। এ প্রযুক্তি বিশ্বে পরিচিত ফান সফটওয়্যার হিসেবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মন্ত্রী, এমপি, সচিব, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের কর্মকর্তা, পুলিশ প্রধানসহ রাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মোবাইল নম্বর ‘স্পুফিং’ করে চাঁদাবাজি, তদবির, টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতি করা হচ্ছে। যা রাষ্ট্রের জন্য বড় হুমকি বলে মনে করেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ‘স্পুফিং’ মূলত একটি মজা করার (ফান সফটওয়্যার) প্রযুক্তি। বন্ধু-বান্ধব বা প্রিয়জনকে আচমকা ভড়কে দিয়ে স্রেফ মজা করার জন্যই এটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এর মাধ্যমে যে কোনো ব্যক্তির মোবাইল নম্বর হুবহু নকল করে কাউকে ফোন করা যায়। যার কাছে মোবাইলে ফোনটি আসছে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতেই পারবেন না ফোনটি আসল ব্যক্তি করেছেন না ‘স্পুফিং’ করে অন্য কেউ করেছেন। ই-মেইল ঠিকানাও স্পুফিং করা হচ্ছে।

বিটিআরসির দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা বলেন, অস্বাভাবিক ফোনকল এলে বিচলিত না হয়ে স্বাভাবিক থাকতে হবে। এরপর কলটি শেষ করে ওই নম্বরেই কল করে বিষয়টি যাচাই করে নিতে হবে। অথবা কল কেটে দিয়ে কল ব্যাক করতে হবে। যেহেতু এ পদ্ধতিতে ফোনকলটি প্রযুক্তি সহায়তায় করা হয়, তাই স্বাভাবিকভাবেই ফিরতি কলে ওই নম্বর বন্ধ পাওয়া যাবে। এমন হলে বিষয়টি দ্রুত পুলিশকে জানাতে হবে। প্রয়োজনে জিডিও করা যেতে পারে। ই-মেইলের ক্ষেত্রেও একই কাজগুলো অনুসরণ করা উচিৎ।

‘স্পুফিং’ বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর গত সেপ্টেম্বরে সব মোবাইল ফোন অপারেটরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিটিআরসির কর্মকর্তারা।

সর্বশেষ গতকাল বুধবার রাজধানীর বাড্ডা থেকে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র এবং একজন মাদ্রাসা অধ্যক্ষের মোবাইল ফোন নম্বর স্পুফিং করে দেশের বিশিষ্ট নাগরিক ও রাজনীতিবিদদের হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগে ডিবি আটক করেছে জিহাদী জন পরিচয়ে অনলাইনে প্রচারকারী একজন শিবিরকর্মীকে।

ডিবি সূত্রের খবর, জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় আটক করা ব্যক্তি পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এই তিন ব্যক্তিকে ফাঁসানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে এই কাজ করছে।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, অধ্যাপক অ্যামিরেটাস আনিসুজ্জামান, মুহম্মদ জাফর ইকবাল এবং মুনতাসির মামুনসহ বিশিষ্ট ১৫৩ নাগরিককে হত্যার হুমকি দিয়ে মোবাইল ফোনে পাঠানো মেসেজ এর সূত্র ধরে তদন্তে নেমে ডিবি তার সন্ধান পায়।

কয়েকটি সূত্রের খবর, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের নম্বর ‘স্পুফিং’ করে চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে এক জায়গায় ফোন করে তদবির করা হয়। শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু এবং তার এপিএসও একই ঘটনার শিকার হন। তাদের মোবাইল নম্বর ‘স্পুফিং’ করে করিমগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে কল করে বিভিন্ন তদবির করে একটি চক্র। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তাও এ ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তিনি বিষয়টি শেরে বাংলা নগর থানায় জিডি করলে পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করে। গত আগস্ট মাসে পুলিশের আইজি শহীদুল হকের মোবাইল নম্বর ‘স্পুফিং’ করে ডিএমপির একজন ওসিকে ফোন করে প্রতারণার মামলার একজন আসামিকে ছাড়িয়ে নেয়া হয়। রেল সচিব ফিরোজ সালাউদ্দিনের নম্বর ‘স্পুফিং’ করে চট্টগ্রামের একজন রেল কর্মকর্তার কাছে তদবির করা হয়েছে। গত আগস্ট মাসে টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবদুল বাতেনের মোবাইল ফোন নম্বর ‘স্পুফিং’ করে স্থানীয় নাগরপুর ও দেলদুয়ারের সব ইউপি চেয়ারম্যানকে ফোন করা হয়। পরে পুলিশি তদন্তে জানা যায় প্রতারণার বিষয়।

জুলাই মাসেই সচিবালয়ের একজন সিনিয়র পাবলিক রিলেশন অফিসারকে চট্টগ্রাম দুদকের একজন কর্মকর্তার মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে ১০ হাজার টাকা ঘুষ চাওয়া হয়। অন্যথায় দুর্নীতির মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার ভয় দেখানো হয়। এ ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন ভোলার এমপি নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন ও গোপালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জালাল উদ্দীন। তাদের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে একইভাবে ইউপি চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে টাকা চাওয়া হয়েছে। ৫ আগস্ট এ ধরনের আরেকটি প্রতারণার শিকার হন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত) মুনসুর আহমদ। তার গ্রামীণফোনের মোবাইল নম্বর থেকে বিভিন্ন সরকারি উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মোবাইলে অশ্লীল বার্তা পাঠানো হয়। তবে তিনি হতবাক হন যখন তার মোবাইল নম্বর দিয়ে তাকেই হুমকি সংবলিত এসএমএস পাঠানো হয়। এ ঘটনার পর তিনি উত্তরা পূর্ব থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts