April 20, 2019

মোদিকে ‘খোঁচা’ মারলেন শত্রুঘ্ন সিনহা

166

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কথায় ‘খোঁচা’ মেরেছেন দেশটির সংসদ সদস্য ও অভিনেতা শত্রুঘ্ন সিনহা। তিনি বলেন, “আমি ‘মন কি বাত‌’ বলি না, সেটা অন্য কেউ (নরেন্দ্র মোদি) বলেন। আমি ‘দিল কি বাত’ বলি। এর জন্য অনেকের চক্ষুশূল হয়েছি।”

গতকাল রোববার কলকাতার একটি সাহিত্য উৎসবে এমন মন্তব্য করেন শত্রুঘ্ন সিনহা।

বিজেপির এই রাজনীতিবিদ অনেকটা ক্ষোভ নিয়ে বলেন, ‘রাজনীতিতে অনেক সময় মনের কথা বলতে নেই। তাতে অনেক কিছু হারাতে হয়। এক সময় আবেগতাড়িত হয়ে অনেক কথা বলে পরে বুঝতে পেরেছি রাজনীতিতে সব কথা সবসময় বলা উচিত নয়।’

রাজনীতি নিয়ে নিজের মূল্যায়ন করতে গিয়ে নানা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন শত্রুঘ্ন।

সম্প্রতি তাঁর প্রকাশিত এক বইতে শত্রুঘ্ন বলেছেন, “বাড়িতে নিজের স্ত্রীর সামনেই একমাত্র তিনি ‘খামোশ’ (চুপ করে থাকা) থাকেন। আর রাজনীতিতে তিনি যখন বলেন, তখন ‘খামোশ’ হয়ে যান অন্য লোকেরা।”

ভারতে বিজেপি নেতা অটল বিহারি বাজপেয়ী সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার মন্ত্রী ছিলেন শত্রুঘ্ন সিনহা। তিনি বলেন, অনেক ঘটনা ঘটেছে, যা দেখে রাজনীতি ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত বলে মনে হয়েছে।

লালকৃষ্ণ আদবানি ছিলেন শত্রুঘ্নের পথ প্রদর্শক, পরামর্শদাতা ও কাছের মানুষ।

স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে শত্রুঘ্ন বলেন, ‘আদবানি আমাকে বলেছিলেন, জীবনে চলার পথে সবসময় মহাত্মা গান্ধীর একটা কথা মনে রাখা উচিত। তা হলো, প্রথমে মানুষ তোমাকে উপেক্ষা করবে। তারপর উপহাস করবে। তারপর তোমার সঙ্গে লড়াই করবে। সবশেষে তুমিই জিতবে। শুধু এই লড়াই করে জেতার পথটা একটু কঠিন হবে।’

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বিহার বিধানসভা নির্বাচনে কার্যত নীরব ছিলেন বিজেপি নেতা শত্রুঘ্ন। এর পর থেকে দলের সঙ্গে একটু একটু করে দূরত্ব বেড়েছে। গত বছর বিহার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রচারে বলা হয় বিহারে ‘জঙ্গলরাজ’ চলছে, যা শত্রুঘ্ন নৈতিকভাবে সমর্থন করেননি।

শত্রুঘ্ন বলেন, ‘কোথাও জঙ্গলরাজ চলছে বলা মানে, সবাইকে জংলি বলার সমান। অথচ বিহারে সব রাজনৈতিক দলের সমর্থকরা বসবাস করেন।’

দলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হলেও শত্রুঘ্ন সিনহার আশা, দল ঠিকই আছে। কিন্তু দলের একাংশ অপপ্রচারে নেমেছিল। দলের ওই অংশের চিন্তাভাবনায় শিগগিরই পরিবর্তন আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts