November 14, 2018

মেয়ে ও বাবাকে বোকা বানিয়ে যেভাবে ১৭ লাখ টাকা নিল রুবী

93

স্টাফ রিপোর্টার,  ৮ এপ্রিল ২০১৬, কক্সবাজারে বিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন তারকা হোটেল সি-গালের মহাব্যবস্থাপক। দ্বিতীয় স্ত্রী ফেরদৌস আলী রুবী কৌশলে তার কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে ১৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এ অভিযোগে প্রতারকচক্রের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন মহাব্যবস্থাপক মো. আবুল হাশিম। একই সঙ্গে তিনি এক কোটি টাকার মানহানির অভিযোগও আনেন ওই মামলায়। গত ২৯শে মার্চ কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪-এ মামলাটি করা হয়। মামলা নং-এসটি ৩১৬/১৬। মামলায় দ্বিতীয় স্ত্রী ফেরদৌসী আলী রুবী ছাড়াও অন্য আসামিরা হলো তার মা, চট্টগ্রাম পাঁচলাইশ আমিন জুট মিলস এলাকার বাসিন্দা মৃত ডা. সেকান্দর হোসেনের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম ও আবু বক্কর ছিদ্দিক।

আসামি মা-মেয়ে দুজনই বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি-০৮৮৩০, ইজলিন, জুলিয়েট রোডের স্থানীয় বাসিন্দা। অন্যজন ঢাকার গুলশান-২ শাহজাদপুর ৩৮/এ দক্ষিণ বারিধারার বাসিন্দা আবদুল মান্নাফ মোল্লার ছেলে। তিন সদস্যের এ চক্রের দুজন দেশের বাইরে অবস্থান করে প্রতারণাকর্ম চালালেও কক্সবাজারে বসেই সিন্ডিকেটের কলকাঠি নাড়াচাড়া করেন আবু বক্কর সিদ্দীক। বর্তমানে তিনি হোটেল-মোটেল জোন এলাকার রিগ্যাল প্যালেসের পরিচালক হিসেবে রয়েছেন বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, দুই নারী ও এক পুরুষের সমন্বয়ে গঠিত এই শক্তিশালী চক্রটি ভিন্ন কৌশলে তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

বিশেষ করে ওই দুই নারী দেশ-বিদেশের বিভিন্ন এলাকায় বিয়ের প্রলোভনে ফেলে পুরুষদের সর্বস্ব খুইয়ে নিচ্ছে। মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন আদালতের বিচারক। প্রতারণার শিকার হোটেল সি-গালের মহাব্যবস্থাপক মো. আবুল হাশিম জানান, দশ বছর আগে স্ত্রী মারা গেলেও মেয়ে মাফরুহা হোসেন লিজার সংসারের দিকে চেয়ে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেননি। লিজা মাঝেমধ্যে বাবার কর্মস্থলে সপরিবারে বেড়াতে আসে। দূরে থাকলেও যথাসম্ভব বাবার সুখ-দুঃখের খোঁজখবর নেয়। একদিন বেড়াতে এসে হোটেলের সুইমিংপোলে ফেরদৌসী আলী রুবী নামে আমেরিকা প্রবাসী এক নারীর সঙ্গে লিজার পরিচয় হয়। ভাববিনিময় করে একে অপরের সঙ্গে। সে সুবাধে দুজনের মধ্যে সম্পর্ক হয়। দিন দিন বাড়তে থাকে তাদের মধ্যকার ঘনিষ্ঠতা ও হৃদ্যতা। তিনি বলেন, আমার মেয়ের মধ্যে বিশ্বাস জন্মে যে, ওই প্রবাসী নারীকে বিয়ে করলে আমাদের সংসার সুখী হবে। তা ছাড়া আবু বক্কর সিদ্দীক ওই নারীকে নিয়ে কাস্টমার সেজে বিভিন্ন সময় আমার হোটেল বার থেকে মাদকদ্রব্য নিয়ে যেত। এ সুবাধে তাদের সঙ্গে পরিচয় হয়।

সেই পরিচয় থেকে ওই নারীর বিভিন্ন স্ট্যাটাস ও গুণগান আমাকে বর্ণনা করেন আবু বক্কর সিদ্দীক। একসময় বিয়ের প্রস্তাবও আসে আমার কাছে। একদিকে মেয়ের আন্তরিকতা, অন্যদিকে তাদের প্ররোচনায় বিয়ে করতে রাজি হলাম। ২০১৩ সালের ২৬শে নভেম্বর আমাদের বিয়ে হয়। হাশিমের ভাষ্য মতে, আমার ‘স্ত্রী’ প্রস্তাব দেয় যে আমাদের আমেরিকায় বসবাসের ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য ‘স্পাউস’ ভিসা লাগবে। এতে কয়েক হাজার ডলার খরচ পড়বে। স্ত্রীর কথামতো আমি তিন দফায় তাকে ১৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা প্রদান করি। ইতিমধ্যে আমেরিকার নাগরিক হওয়ার সুবাধে আমার স্ত্রী দেশ ছেড়ে আমেরিকায় চলে যায়। কিন্তু এ টাকা পাওয়ার পর থেকে সে আমার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। শুনেছি, সে দেশে এসেছে। তবে আমার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি।’ মো. আবুল হাশিমের মেয়ে লিজা জানায়, ‘অনেকদিন আগে আমার মা মারা গেছেন। স্বাভাবিক কারণে ‘মা’ শব্দের প্রতি আমার দুর্বলতা তৈরি হয়। এ সুবাধে ফেরদৌসী আলী রুবী তাকে ‘মা’ হিসেবে সম্বোধন করতে বলে আমাকে।

চিন্তা করলাম কী করা যায়? ঠিক করলাম, তিনি বয়সে যেহেতু আমার মায়ের মতোই। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ‘মা’ ডাকা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় তাকে ‘মা’ হিসেবেই মেনে নিলাম। এখন থেকে সম্পর্ক হয় মা-মেয়ের। বিষয়টি বাবাকে জানালাম। বিভিন্ন লোকের অনুরোধ ও আমার আগ্রহের কথা বিবেচনা করেন আমার বাবা। কিন্তু বিয়ের ফাঁদে ফেলে যে বাবার টাকা-পয়সা এভাবে হাতিয়ে নেবে তা ভাবিনি। এদিকে অভিযোগের ব্যাপারে জানার জন্য অনেক চেষ্টা করেও অভিযুক্ত কারও সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মাহমুদ জানান, তদন্ত চলছে। তিনি মামলার গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। ইতিমধ্যে তিনি অনেক ক্লুও পেয়েছেন। কিন্তু তদন্তের স্বার্থে বেশি কিছু বলতে চাচ্ছেন না।

Related posts