November 19, 2018

মেয়াদ বৃদ্ধি পাচ্ছে পাসপোর্টের ?

বেশ কিছু দিন এক মন্ত্রণালয় থেকে আরেক মন্ত্রণালয়ে চিঠি চালাচালি হয়েছে, পাসপোর্টের মেয়াদ কত দিনের হবে, তা ঠিক করার জন্য।

শেষ পর্যন্ত ঠিক হয়েছে, ১০ বছর মেয়াদিই হবে নতুন পাসপোর্ট। অর্থ মন্ত্রণালয়ও মেয়াদ দ্বিগুণ করার পক্ষে মত দিয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, যে বয়সেই করা হোক না কেন, ১০ বছরের জন্যই পাসপোর্ট দেওয়া হবে। এ সিদ্ধান্ত রেখেই পাসপোর্টের নতুন নীতিমালা করা হচ্ছে।

মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করা হলেও পাসপোর্টের ফি দ্বিগুণ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে অর্থ মন্ত্রণালয় ফি বাড়ানোর পক্ষে। দুই মন্ত্রণালয় একমত হতে না পারায় এখনো চূড়ান্ত হয়নি নীতিমালা। তবে শিগগিরই সেটি চূড়ান্ত করে মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, প্রথমে বয়স বিবেচনায় নেওয়ার চিন্তা করা হয়েছিল—শিশুদের জন্য পাঁচ বছরের ও ১৫ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য ১০ বছরের পাসপোর্ট। শেষ পর্যন্ত সবার জন্যই ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে পাঁচ বছর পর পাসপোর্ট নবায়ন করা যাবে। যদি কেউ পাঁচ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট করতে চায়, তাও করা যাবে।

এখন পাসপোর্টে যতগুলো পাতা রয়েছে ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্টেও ততগুলো পাতা থাকবে। তবে যারা (সাধারণত ব্যবসায়ী) ঘন ঘন বিদেশে যায়, তাদের রেকর্ড দেখে বেশি পাতার পাসপোর্ট দেওয়া হবে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘পাঁচ বছরের কোনো শিশুর নামে যদি ১০ বছরের পাসপোর্ট দেওয়া হয় তাহলে পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হতে হতে তার চেহারা পরিবর্তিত হয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকরাই পাঁচ বছর পর তার পাসপোর্ট নবায়ন করে নেবেন।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন বলেন, ‘পাসপোর্ট নীতিমালা প্রায় চূড়ান্ত। চূড়ান্ত করে সেটি কেবিনেটে পাঠানো হবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পাসপোর্টের ফি বাড়ানো হবে কি হবে না, সে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয়।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদেশ গিয়ে না ফেরার প্রবণতা বন্ধ করতে সরকারি পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিদেশ ভ্রমণের বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপিত হতে যাচ্ছে নতুন নীতিমালায়। সরকারি কাজে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী বিদেশে যাবেন, কেবল তাঁদেরই অফিশিয়াল পাসপোর্ট দেওয়ার নিয়ম করা হচ্ছে। এ পাসপোর্ট নিতে হবে বিদেশ ভ্রমণের জন্য সরকারি আদেশ (জিও) দেখিয়ে। জিও জারি করবে কেবল সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১১ সালে অফিশিয়াল পাসপোর্টের প্রাধিকারের গণ্ডি বাড়ানো হয়। এটি নিয়ে প্রতিবছর প্রায় দেড় লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী বিদেশে যান। কিন্তু তাঁদের একটি অংশ দেশে ফেরেন না। এতে বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এ কারণেই জিও দেখিয়ে অফিশিয়াল পাসপোর্ট সংগ্রহ করার নিয়ম করা হচ্ছে। ফলে জালিয়াতি করে অফিশিয়াল পাসপোর্ট নেওয়া বন্ধ হবে।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/মেহেদি/ডেরি

Related posts