December 12, 2018

মে’দিবস (অনুগল্প)

ময়ূখ ব্যানার্জী: ১লা মে। রাত ৮টা বাজে ঘড়িতে। চা-ওয়ালা প্রভু ১২ বছরের কেষ্টাকে ধমকাচ্ছে, “আজ তোর মাইনে থেকে ২০ টাকা কেটে নিয়ে ২০ টাকাই দেব দেখে নিস। রোজ রোজ এতো চিৎকার করতে হয়। আজ এসেছিসও দেরী করে। বলি সকাল সাতটায় আসতে, আসিস ৮টা বাজলে। তোকে দিয়ে হবে না আর। আর কতক্ষন লাগবে শুনি তোর এই সামান্য বাসন কটা মাজতে?”

“আরে বিপ্লব দা এতো দেরী আজ?”, প্রভু প্রশ্ন করল বিপ্লব বাবুকে ঢুকতে দেখে।

“আর বলিস না। আজ মে’দিবস জন্য অনেক মিটিং-ইটিং করে এলাম। এবার একটা কড়া করে চা দে দেখি।”

এমন সময় এক তরুণ ছেলের প্রবেশ, সাথে একটা প্রশ্ন উড়ে এল কেষ্টার মুখ থেকে, চোখে অবাক দৃষ্টি, “মে’দিবস কী বাবু?”

“মে’দিবস অনেক বড়ো ব্যাপার রে ছেলে। এটার বিরাট ইতিহাস। এখানেই তো দেখি তোকে রাতদিন, স্কুলেও যাস না বোধহয়! এসব তোকে বলে বোঝানো যাবে না। বড় হলে নিজেই বুঝবি।”, উত্তর দিলেন বিপ্লব বাবু।

চা শেষের পথে। হঠাৎ সেই তরুণ প্রশ্ন করল বিপ্লব বাবুকে, “আপনি এখানেই থাকেন?”

“আরে ওনাকে চেনো না! উনি বিপ্লব বনিক, এখানের লাল পার্টির বড়ো নেতা, ওনার বিল্ডিং-এর ব্যবসা। ছেলে বিলেতে থাকে। এই পাড়ার সবচেয়ে বড়ো বাড়িটাও ওনার। তুমি কি পাড়ায় নতুন নাকি?”, বিপ্লব বাবুর হয়ে উত্তর দিল প্রভু। সেই শুনে একটা গর্বের হাসি খেলে গেল বিপ্লব বাবুর মুখে।

“আমি এ পাড়ারই ছেলে। পাশের গলিতে বাড়ি। বিদেশে থাকতাম। এবার চিরদিনের জন্য দেশে ফিরে এলাম। আমার নাম, বিবেক।”, কেষ্টার পাশে বসে নিজের চা-এর কাপটা ধুতে ধুতে উত্তর দিল সে।

ময়ূখ ব্যানার্জী, কোচ বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত। 

 

Related posts