September 24, 2018

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে সতর্ক মহানগর গোয়েন্দা

ঢাকাঃ  মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে সতর্ক ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী সেপ্টেম্বরে ওই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। গত দুই বছর প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজবের পরিপ্রেক্ষিতে তারা ওই সতর্কতা অবলম্বন করেছেন। ডিবি প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজবকারী ব্যক্তি, কোচিং সেন্টার এবং কলেজের চিহ্নিত কিছু শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে নজরদারিতে রাখবেন। এছাড়াও ডিবির পক্ষ থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজবে কেউ যেন পাত্তা না দেন এবং মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভেঙে না পড়েন এজন্য ইন্টারনেটের বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সচেতনতা মূলক কার্যক্রমের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের ওই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এডিসি (পশ্চিম) মো. মাহেদুজ্জামান জানান, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। দুর্বৃত্ত চক্রের কে বা কারা গত বছর প্রশ্ন ফাঁসের গুজব ছড়িয়েছিল। এতে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তিনি আরো জানান, এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ আন্দোলন করেছিল। প্রশ্ন ফাঁসের গুজব রোধে ডিবি পুলিশ আগাম সতর্ক রয়েছে।

ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভর্তি পরীক্ষার প্রায় ৩ মাস আগে থেকে ঢাকায় বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে কোচিং শুরু হয়। ভালো কোচিংয়ের আশায় সারাদেশ থেকে ঢাকায় মেধাবী শিক্ষার্থীরা কোচিং করতে আসেন। তাদের লক্ষ্য থাকে, ভালো কোচিংয়ে শিক্ষকদের গাইড লাইনের মাধ্যমে মেডিকেল ভর্তি যুদ্ধে অবত্তীর্ণ হওয়া। কেউ ভর্তিযুদ্ধে অবত্তীর্ণ হন, কেউ হন না। আবার পরের বছর পরীক্ষা দেয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু গত দুই বছর ধরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ওঠে।

এবার যেন সেই পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় এজন্য ডিবি পুলিশ আগাম সতর্ক রয়েছে। সূত্র জানায়, গত দুই বছর যারা প্রশ্ন ফাঁসের গুজব তৈরি করেছে তারা মূলত ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরীক্ষার আগের রাতে গুজব ছড়িয়েছে। ওই দুর্বৃত্ত চক্র বিভিন্ন ভুয়া লিংক দিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে বলে জোর প্রমাণের চেষ্টা করেছে। ওই চক্রকে এবার চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে ডিবি পুলিশ।

গত বছর ভর্তি পরীক্ষার রাতের বেলায় একাধিক নামকরা কোচিং থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব তৈরি হয়েছে বলে ডিবি পুলিশের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে ওই কোচিংগুলোর একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, ইন্টারনেটে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী চক্রের দুর্বৃত্তরা সক্রিয় থাকে। তারা সাধারণ ছাত্রীদের প্রফাইলে ঢুকে হুবুহু প্রশ্ন দেয়ার ম্যাসেজ দিয়ে থাকে। কেউ আবার লিংক দেয়ার লোভনীয় প্রস্তাব দেয়। ওই দুর্বৃত্তরা অনেকেই তাদের সেখানে সংক্ষিপ্ত ঠিকানা, ইমেইল ও মোবাইল নম্বর দেয়। তারা শিক্ষার্থীদের ওই ঠিকানায় যোগাযোগ করার জন্য পরামর্শ দেয়।

সেপ্টেম্বরে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এমন ঘোষণা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আসার পরই ওই চক্র সক্রিয় হয়ে উঠছে। ওইসব দুর্বৃত্তের ব্যক্তিগত ওই পেজগুলো তালিকা করেছে ডিবি পুলিশ। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরী কমিশন এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে ডিবি পুলিশ নজরদারিতে রাখবেন। পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের চলাচল, যাতায়াতসহ সব কিছু নজরদারিতে রাখা হবে। ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজবে যেন কেউ কান দেন এজন্য ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে কাউন্টার প্রচার-প্রচারণা চালানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের যেমন সচেতন করবেন তেমন পাশাপাশি গুজব সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করে দেয়ার জন্য ভর্তিচ্ছু ছাত্রদের সহযোগিতার আহ্বান জানানো হবে।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি ২৪ জুন ২০১৬

Related posts