September 19, 2018

মৃত্যুর আগে ছেলের সন্ধান চান আনসারের মা

Photo_Ansar_Family_Biswanath_Sylhet_17.04_মো. আবুল কাশেম, বিশ্বনাথ থেকে :: তিন বছরের চাঁদনী যখন বাবা ডাকতে শিখলো, তখনই ‘নিখোঁজ’ হন তার পিতা আনসার আলী। তিনি নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলীর ব্যক্তিগত গাড়িচালক ছিলেন। ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল মধ্যরাতে ইলিয়াস আলী ও তাকে ঢাকার বনানী এলাকা থেকে কে বা কারা উঠিয়ে নিয়ে যায়। এরপর থেকে দীর্ঘ পাঁচ বছরেও তাদের আর কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে অনেক আশ্বাস, বক্তব্য, পাল্টা বক্তব্য হয়েছে, কিন্তু ফিরে আসেনি তারা পরিবারের কাছে। আট বছরের চাঁদনী এখন বাবার দেয়া খেলনাগুলো কোলে নিয়ে নীরবে সময় কাটায়। মা ও দাদুর কাছে কেবলই জানতে চায়, ফিরবে কবে বাবা?

আনসারের গ্রাম সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চি ইউনিয়নের গুমরাগুলে গেলে পাওয়া যায় আনসারের মা নূরজাহান বেগমকে। সাংবাদকর্মীদের দেখে শিশুর মতো কান্না জুড়ে দেন তিনি।

”আমার ছেলের কোন খবর তোমাদের কাছে আছে নি?” বলেই কাঁদতে থাকেন। তিনি বলেন, পাঁচ পাঁচটি বছরেও ছেলের খোঁজ পেলাম না। আমাদের অচল সংসার। অকালেই নিভে গেল আমার আশার প্রদীপ। মনের ব্যথা ভর করেছে শরীরে। ডায়াবেটিস, শ্বাসকষ্ট ও হার্টের অসুখে ভুগছি আমি। মৃত্যুর আগে ছেলের খোঁজ পেয়ে মরতে চাই।

স্বামী নিখোঁজের দূর্বিসহ যন্ত্রনা বুকে নিয়ে সংসারের হাল ধরেছেন আনসারের স্ত্রী মুক্তা বেগম। স্থানীয় একাডেমীতে এখন শিক্ষকতা করেন তিনি। ওই একাডেমীতে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে চাঁদনী।

তিনি বলেন, চাঁদনী সব সময় তার বাবা সম্পর্কে জানতে চায়। উত্তরে চোখের জল ফেলা ছাড়া আমাদের আর কিছুই বলার থাকে না। দেশবাসীর কাছে আমাদের প্রশ্ন- এভাবে আর কতো দিন অতিবাহিত করব আমরা? কী অপরাধ আমার? কী অপরাধ নিষ্পাপ শিশুটির?

Related posts