September 22, 2018

মৃত্যুঘণ্টা বেজে গেছে স্টেথোস্কোপের

২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চিহ্নিত করে এসেছে বহু প্রাণঘাতী অসুখ, বাঁচিয়েছে বহু রোগীর প্রাণ। অবশেষে নিজেই কি ক্রমশ মৃত্যুর দিকে এগোচ্ছে স্টেথোস্কোপ? প্রযুক্তিগত উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে স্টেথোস্কোপের প্রয়োজনীয়তা ফিকে হচ্ছে বলে জানাচ্ছেন চিকিত্‍সকরা। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেথোস্কোপ এখন ‘বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি’র মধ্যে পড়ছে বলে জানাচ্ছেন সেখানকার চিকিত্‍সকরা।

ডাক্তার মানেই গলায় স্টেথোস্কোপ। ছবিটা আমাদের মনেই গেঁথে আছে। হার্ট, ফুসফুস, শিরা-উপশিরা, পেট – শরীরের বিভিন্ন অংশের সমস্যা জানতে স্টেথোস্কোপে কান রাখাই ভরসা ডাক্তারদের। কিন্তু ছবিটা ক্রমশ বদলাচ্ছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রাচীন এই চিকিত্‍সাপদ্ধতি ক্রমশ তার উপযোগিতা হারাচ্ছে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন চিকিত্‍সক জগত্‍ নারুলা জানাচ্ছেন, “স্টেথোস্কোপ এখন মৃত। স্টেথোস্কোপের সময় চলে গিয়েছে। আধুনিক চিকিত্‍সা পদ্ধতিতে এর আর কোনও জায়গা নেই।”

শরীরের শব্দ শুনে রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতির বদলে এখন মার্কিন মুলুকে সেল ফোনের সাইজেই আলট্রাসাউন্ড যন্ত্র থাকছে ডাক্তারদের সঙ্গে। তার সাহায্যে শরীরের ভেতরের ছবি চট করে ফুটে উঠছে সঙ্গের স্ক্রিনে। শরীররে ভেতরের কোথায় কী গোলমাল, তা সহজেই চট করে বুঝে যাচ্ছেন ডাক্তাররা। আমেরিকার মাউন্ট সিনাই মেডিক্যাল স্কুল তার পড়ুয়াদের বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই স্টেথোস্কোপের বদলে এই পকেট আলট্রাসাউন্ড যন্ত্র দিচ্ছে। অন্য মেডিক্যাল কলেজগুলিও সম্প্রতি একই পথে হাঁটছে।

১৮১৬-তে ফরাসি ডাক্তার রেনে ল্যানেক স্টেথোস্কোপ উদ্ভাবন করেন। প্রায় দুই শতাব্দী চিকিত্‍সাশাস্ত্রের অঙ্গ থাকার পর অবশেষে কি ছুটি মিলবে স্টেথোস্কোপের? ঠিক যেভাবে প্রযুক্তিগত উন্নতির ফলে প্রায় হারিয়ে গিয়েছে ক্যালকুলেটর, ডিজিটাল ডায়রি, ল্যান্ড ফোনের মতো একসময়ের জরুরি প্রয়োজনীয় জিনিসগুলি, সেই পথেই হাঁটা এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা স্টেথোস্কোপের।

সূত্র: এই সময়
দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts