December 13, 2018

‘মূল হোতা’ জানালেন রিজার্ভ চুরির বৃত্তান্ত

29 Mar, 2016, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হওয়ার পর দুই চীনা ব্যবসায়ী ফিলিপাইনের ব্যাংকে প্রবেশ করায় বলে অভিযোগ করেছেন ঘটনার ‘মূল হোতা’ হিসেবে এরই মধ্যে পরিচিত হওয়া কিম ওং। চীনের ওই দুই ব্যবসায়ী হলেন শুহুয়া গাও, আর ডিং ঝিজে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি যাওয়া অর্থ উদ্ধারে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে ফিলিপাইনের সিনেটের ব্লু রিবন কমিটি। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দুপুরে এই কমিটির চলমান কার্যক্রমের শুনানিতে ওই দুই ব্যবসায়ীর নাম উল্লেখ করেন চীনা ব্যবসায়ী কাম সিন ওং। তিনি কিম ওং নামে পরিচিত।
শুনানি চলাকালে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান কিম ওং। তিনি বলেন, ‘দুই বিদেশি ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনে নিয়ে গেছেন। এর মধ্যে একজনের ফিলিপাইনে চলাচল রয়েছে। তিনি জাংকেট এজেন্ট বা জুয়ারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি। তিনি নিজেও বড় জুয়ারি। তদন্তকারী দলকে সহায়তা করতে আমি তাঁদের নাম, পাসপোর্টের অনুলিপি একটি সিলগালা খামে করে কমিটিকে দেব।’
তবে সিনেটের পর্যবেক্ষক দলের নেতা জুয়ান পঞ্চে এনরাইলের বলেন, এই দুজন হচ্ছেন গাও ও ডিং। তাঁরা রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনে (আরসিবিসি) তহবিল নেন।
কিম ওং বলেন, গাও আট বছর ধরে জুয়ারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। আর ডিং একজন ব্যবসায়ী। চিনের ম্যাকাও শহরে ডিংকে পরিচয় করিয়ে দেন গাও।
ওং বলেন, ফিলিপাইনের সোলেয়ার ক্যাসিনোতে জুয়া খেলে বড় ধরনের লোকসানের পর গাও তাঁর কাছ থেকে ৪৫ কোটি পেসো ধার নেন। একই সময়ে আরসিবিসির মাকাতির জুপিটার স্ট্রিট শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোস দেগুইতো ওই ব্যাংকে একটি হিসাব খোলার জন্য তাঁকে প্রস্তাব দেন। তখন তিনি গাওকে দেগুইতোর কাছে পাঠান।
২০১৫ সালের মে মাসে মাইডাস হোটেলে দেগুইতোর সঙ্গে দেখা করেন গাও ও কিম। এ সময়ে গাও একটি ডলারের হিসাব খোলার জন্য দেগুইতোর কাছে প্রস্তাব দেন। কিন্তু দেগুইতো বলেন, কোম্পানির জন্য হিসাব খুলতে পাঁচ ব্যক্তিকে প্রয়োজন হবে।
‘তাহলে তো আমাদের পক্ষে একটি হিসাব খোলা কঠিন হবে বলে উল্লেখ করেন গাও। তবে দেগুইতো দায়িত্ব নিতে চান। দেগুইতো আমাদের সাহায্য করার আশ্বাস দেন,’ বলেন কিম ওং।
এর দুই তিন পর দুই হাজার ৫০০ ডলারের একটি হিসাব খোলার জন্য তাঁদের বলেন দেগুইতো।
গত ৪ ফেব্রুয়ারি গাও ও ডিং মিলে ম্যাকাউয়ের ক্যাসিনো থেকে গুটিয়ে ম্যানিলায় বিনিয়োগ করার কথা ওংকে জানান।

ওং বলেন, ৫ ফেব্রুয়ারি গাও ও ডিংয়ের সাথে সোলেয়ার হোটেলে সাক্ষাৎ করেন দেগুইতো। ওই পাঁচটি ব্যাংক হিসাবের ব্যাপারে দেগুইতোকে জিজ্ঞেস করেন তাঁরা। এর পর ওইদিনই স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে দেগুইতো তাঁদের ডেকে পাঠান। দেগুইতো তাঁদের জানান, ওই হিসাবগুলোতে মোট ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার জমা হয়েছে। পরে দেগুইতোকে ওই অর্থ নিয়ে হোটেলে যাওয়ার জন্য বলেন কিম ওং।

স্থানীয় সময় ৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টার দিকে দেগুইতোর অনুরোধের ভিত্তিতে ফিলরেম সার্ভিসেস করপোরেশনের প্রধান মাইকেল বাতিস্তাকে ৮ কোটি পেসো রাখা হয়।
কিম ওং বলেন, ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্য থেকে ৬ কোটি ৩০ লাখ ডলার মাইডাস ও সোলেয়ার ক্যাসিনোতে যায়। আর এক কোটি ৭০ লাখ ডলার ফিলরেমে যায়।

Related posts