March 23, 2019

মুশফিকের দিনে চিটাগাংয়ের হ্যাটট্রিক জয়

ব্যাট হাতে ৩৩ বলে অনবদ্য ৫২ রান করার পাশাপাশি ফিল্ডিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দুই ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে ফেরানোতে বিশেষ অবদান রাখেন মুশফিকুর রহিম। সবমিলিয়ে মুশফিকের দিন তো বলাই যায়। তার ব্যাটিং, ফিল্ডিং এবং অধিনায়কত্বে হ্যাটট্রিক জয় পেল চিটাগাং ভাইকিংস। এ নিয়ে টানা তিন ম্যাচে জয় পেল মুশফিকবাহিনী।

বিপিএলের চলমান ষষ্ঠ আসরে পাঁচ ম্যাচে চার জয়ে ৮ পয়েন্ট পেয়েছে চিটাগাং ভাইকিংস।

শনিবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে ৪ উইকেটে ২১৪ রানের পাহাড় গড়ে চিটাগাং। জবাবে খেলতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৮ রান করতে সমর্থ হয় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের নেতৃত্বাধীন খুলনা টাইটানস। চিটাগাংয়ের বিশাল রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ১৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়েই মূলত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় খুলনা টাইটাস।

তবে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের আশাজাগানিয়া ব্যাটিংয়ে এক সময় ম্যাচে ফিরে আসে খুলনা। কিন্তু মাহমুদউল্লাহর বিদায়ের পর আর কেউ ম্যাচ জেতানো ব্যাটিং করতে পারেননি।

এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বিপিএল থেকে প্রায় ছিটকে গেল খুলনা টাইটানস। নিজের সাত খেলায় ৬টিতে হেরে যায় খুলনা। এ হারের ফলে কঠিন সমীকরণে পড়ে গেল মাহমুদউল্লাহরা।

খুলনার ইনিংসের শুরুতেই হার্ডহিটার ওপেনার পল স্টারলিংয়ের উইকেট তুলে নেন আবু জায়েদ চোধুরী রাহীর। এরপর তিন নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নামা আল-আমিনকেও ফেরান আবু জায়েদ। অন্য ওপেনার জুনায়েদ সিদ্দিকী ফেরেন খালিদ হাসানের শিকার হয়ে।

১৮ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়ে যাওয়া দলকে খেলায় ফেরান অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। চতুর্থ উইকেটে ব্রান্ডন টেইলরকে সঙ্গে নিয়ে ৬৮ রানের জুটি গড়েন মাহমুদউল্লাহ।

১৬ বলে ২৮ রান করে নাঈম হাসানের ঘূর্ণি বলে বিভ্রান্ত টেইলর। তার বিদায়ের পর দলের পরাজয় এড়াতে আরিফুলকে সঙ্গে নিয়ে লড়াই করেন রিয়াদ। ২৫ বলে তিন চার ও চারটি দৃষ্টিনন্দন ছক্কায় অর্ধশত রান পূর্ণ করে ক্যামেরন ডেলপোর্টের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন মাহমুদউল্লাহ।

এরপর বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে ডেলপোর্টের বলে দাসুন শানাকার দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হন আরিফুল হক। শেষ দিকে ডেভিড ওয়াইজ এবং তাইজুল ইসলামের ব্যাটিং কেবল দলের পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছে।

খুলনার বিপক্ষে চিটাগাংয়ের রানের পাহাড়

মুশফিকুর রহিমের ঝড়ো ব্যাটিং আর ইয়াসির আলীর কার্যকর ইনিংসে ২১৪ রানের পাহাড় গড়েছে চিটাগাং ভাইকিংস। এছাড়াও লংকান ব্যাটসম্যান দাসুন শানাকা এবং মোহাম্মদ শেহজাদের টর্নেডো ব্যাটিং চিটাগাং ভাইকিংসকে বড় স্কোর গড়তে বিশেষ সহায়ক হয়েছে।

শনিবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিপিএলের ২২তম ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন খুলনা টাইটানসের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে মাত্র ৪ ‍উইকেট হারিয়ে ২১৪ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে মুশফিকবাহিনী। বিপিএলের চলমান এ আসরে এটিই দলীয় সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড।

মুশফিক ৩৩ বলে ৫২ রান করেন। তার ইনিংসটি ছিল ৮টি চার ও একটি দৃষ্টিনন্দন ছক্কায় সাজানো। ১৭ বলে ৪২ রান করে অপরাজিত থাকেন শানাকা। তার ইনিংসটি ছিল ৪টি ছক্কা ও তিনটি চারে সাজানো।

তবে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতে নামা শেহজাদই মূলত এ বিশাল স্কোরের ইঙ্গিত দেন। তাইজুলকে পরপর দুটি বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে শেষ পর্যন্ত ১৭ বলে ৩৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন আফগান এ ব্যাটসম্যান।

তিন নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নামা ইয়াসির আলীকে সঙ্গে নিয়ে ব্যাটিং তাণ্ডব চালান চিটাগাংয়ের আফগানিস্তানের ওপেনার মোহাম্মদ শেহজাদ। প্রথম ৯ বলে তিন রান করা এই ওপেনার, চতুর্থ ওভারে শরিফুলের বলে দুটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান।

এরপর পঞ্চম ওভারে এক বল খেলার সুযোগ পেয়ে বাউন্ডারি হাঁকান শুভাশীষ রায়কে। ঠিক পরের ওভারে তাইজুল ইসলামকে পরপর দুই ছক্কা হাঁকান শেহজাদ। ঠিক পরের বলে উইকেটকিপার ব্রান্ডন টেইলরের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন চিটাগাংয়ের এই ওপেনার। সাজঘরে ফেরার আগে ১৭ বলে তিন চার ও সমান ছক্কায় ৩৩ রান করেন শেহজাদ।

চার নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে ইয়াসির আলীকে সঙ্গে নিয়ে তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৮৩ রানের জুটি গড়েন মুশফিকুর রহিম।

৩৬ বলে পাঁচ চার ও তিন ছক্কায় ৫৪ রান করে ডেভিড ওয়াইজের বলে ক্যাচ তুলে ফেরেন ইয়াসির। এর আগে দুই ম্যাচ খেলে ৪১ ও ৪ রান করেন চিটাগাংয়ের এই স্থানীয় ক্রিকেটার।

তার বিদায়ের পর দুর্দান্ত খেলতে থাকা মুশফিকুর রহিম ২৯ বলে ফিফটি তুলে নেয়ার পর উইকেট হারান। ডেভিড ওয়াইজের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হওয়ার আগে ৩৩ বলে আট চার ও এক ছক্কায় ৫২ রান করেন মুশফিকুর রহিম। এর আগের ম্যাচে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে ম্যাচ জয়ী ৭৫ রানের ইনিংস খেলেন মুশফিকুর রহিম।

ইনিংসের শেষ দিকে ব্যাটিং তাণ্ডব চালিয়ে দলকে চ্যালেঞ্জিং স্কোর উপহার দেন দাসুন শানাকা। মাত্র ১৭ বলে তিন চার ও চার ছক্কায় ৪২ রান করে অপরাজিত থাকনে চিটাগাংয়ের এই শ্রীলংকান। ৫ বলে ১৬ রান করেন নজিবুল্লাহ জাদরান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

চিটাগাং ভাইকিংস: ২০ ওভারে ২১৪/৪ (ইয়াসির ৫৪, মুশফিক ৫২, শানাকা ৪২*, শেহজাদ ৩৩, জাদরান ১৬*)।

খুলনা টাইটানস: ২০ ওভারে ১৮৮/৮ (মাহমুদউল্লাহ ৫০, ডেভিড ওয়াইজ ৪০ টেইলর ২৮, তাইজুল ২২*)।

ফল: চিটাগাং ভাইকিংস ২৬ রানে জয়ী।

Related posts