September 24, 2018

মুক্ত দিল্লি গণধর্ষণকাণ্ডের সেই নাবালক ধর্ষক

 

Delhi rape case prematured youth

নয়াদিল্লি: তিন বছর হোমে কাটিয়েই ছাড়া পেয়ে গেল দিল্লি গণধর্ষণকাণ্ডের নাবালক অপরাধী। পাঠানো হল স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কাছে। বিক্ষোভ-প্রতিবাদে উত্তাল রাজধানী। সবার চোখ এখন সোমবার সুপ্রিমকোর্টে হওয়া শুনানির দিকে।

প্রতিবাদ-বিক্ষোভ-আর্জির মধ্যেই ছাড়া পেয়ে গেল দিল্লি গণধর্ষণকাণ্ডের নাবালক ধর্ষক। রিমান্ড হোমের তরফে তাকে তুলে দেওয়া হল একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার হাতে! মুক্ত সে!

২০১২-র ১৬ ডিসেম্বরের দিনটা ভারতের বুকে একটি দগদগে ঘায়ের মতো চিরদিন থেকে যাবে! বন্ধুর সঙ্গে ‘লাইফ অব পাই’ সিনেমা দেখে বাসে করে ফিরছিলেন প্যারামেডিক্যালের ছাত্রীটি। সেদিন হিংস্র ৬ জন ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তার উপর। ধর্ষণের পর রড দিয়ে আঘাত করে তাঁর দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পর্যন্ত বার করে দিয়েছিল ধর্ষক-খুনিরা। সেদিন ৬ জনের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছিল এই নাবালক! সে আজ সাবালক! মাত্র তিন বছর হোমে কাটিয়েই এই নৃশংস অপরাধী আজ মুক্ত!

চরম অপরাধের জন্য এই সামান্য সাজা! ক্ষোভে ফেটে পড়ছে সমাজ! আইনজ্ঞদের একাংশ বলছেন, আইনে যা বলা আছে তাই তো হবে! কিন্তু সাধারণ মানুষ কি আর সেকথা শোনে, মন কি মানে! রবিবার গভীর রাতে চেষ্টা চালিয়েও দিল্লি মহিলা কমিশন পারল না নাবালক ধর্ষকের মুক্তি রুখতে! কিন্তু কেন?

বর্তমান নাবালক বিচার আইন অনুযায়ী, দিল্লিতে চলন্ত বাসে ডাক্তারির ছাত্রীর উপর পাশবিক অত্যাচার চালানোর সময় তার বয়স ১৮-র কম হওয়ায়, তিন বছরের বেশি বন্দি রাখা যাবে না তাকে। সেই মতোই, আইনের ফাঁক গলে এদিন মুক্তি পেয়ে গেল অধুনা ২১-এর এই ছেলেটি! বিফলে গেল শনিবার মধ্যরাতে দিল্লি মহিলা কমিশনের দৌঁড়ঝাঁপও। সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে গিয়ে, নাবালকের মুক্তি রুখতে দায়ের করা বিশেষ আবেদনও।

যে আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি আদেশ কুমার গোয়েল এবং বিচারপতি উদয় ললিতের অবকাশকালীন বেঞ্চের কাছে বিষয়টি পাঠিয়ে দেন প্রধান বিচারপতি। তাঁরা অবশ্য, সোমবার শুনানির সিদ্ধান্ত নেন। মুক্তির উপর কোনও স্থগিতাদেশও দেননি। ফলে, মুক্তি রোখা যায়নি। এই পরিস্থিতিতে দিল্লি মহিলা কমিশনের শেষমুহূর্তের এই তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জ্যোতির মা। একই প্রশ্ন তুলেছেন দিল্লি মহিলা কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারপার্সন থেকে আইনজীবী অনেকেই! দিল্লি মহিলা কমিশনের অবশ্য বক্তব্য, তাঁরা এই আবেদন লোক দেখাতে করেননি!
বিতর্ক চলছেই। কিন্তু, এসবের মাঝে সত্যি একটাই। মুক্তি পেয়ে গেল নাবালক ধর্ষক।

এমবিফয়েজ/ভারত-ব্যুরো-চীপ/১৫

Related posts