September 21, 2018

মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি নিয়েই মুত্যুবরণ করতে চায় আমিনুল

zakir photo

তোফায়েল হোসেন জাকির, গাইবান্ধা: দেশের জন্য লাল সূর্য ছিনিয়ে আনতে জীবনের মায়া ত্যাগ করে অস্ত্র হাতে নিয়ে ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মোহাম্মদ আমিনুল আহসান। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস! সেই দেশ স্বাধীনের ৪৫ বছরেও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভূক্ত হয়নি তিনি।

গাইবান্ধার পলাশবাড়ি উপজেলার পার আমলাগাছি গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আমিনুল আহসান। তিনি জানান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন। ভারতের মানকাচরের কাকড়ি পাড়া মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে গিয়ে ভর্তি হন। পলিটিক্যাল মটিভেটর হিসেবে ৬নং সেক্টরে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হলে ১১নং সেক্টরে চলে আসেন এবং সুবেদার মেজর আলতাফ হোসেনের নেতৃত্বে যুদ্ধে অংশগ্রহন করেন।

১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হলে গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার পলাশবাড়ি উপজেলার পার আমলাগাছি থেকে ঢাকায় চলে যান। তখন পূর্ত মন্ত্রণালয়ে তার চাকরি হয়। মন্ত্রণালয়ে বঙ্গবন্ধুর একজন অতিভক্ত হিসেবে পরিচিত ছিল। ১৫ আগস্টের পরে মিথ্যা অভিযোগ এনে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। চাকরির মেয়াদ ৩ বছর না হওয়ায় বরখাস্তে বিরুদ্ধে তিনি আদালতে যেতে পারেননি।

এদিকে খবর পত্রে লেখা-লেখির অভিজ্ঞতা থাকায় ঢাকার দৈনিক সমাচারে যোগদান করেন। এ পত্রিকায় তিনি ২৭ বছর বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগে কাজ করেন। এসময় মালিক পরে যথেষ্ট সহযোগীতাও তিনি পেয়েছেন।

আমিনুল আহসান আরও জানান, পত্রিকায় কমরত থাকা অবস্থায় তিনি হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। সে সময় চিকিৎসা বাবদ তার অনেক টাকা খরচ হয়। তদুপরি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকায় নাম না থাকায় সেখানেও তিনি বঞ্চিত হয়েছেন। তিনি এখনও আওয়ামী লীগের একজন কর্মী। পলাশবাড়ি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আব্দুর রহমান সরকারের প্রত্যয়ন পত্রসহ তিনি আবারও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে তালিকাভূক্তির জন্য আবেদন করেছেন।

কিন্তু এখনও সাড়া মেলেনি। অসুস্থ এই মুক্তিযোদ্ধা এখন শুধু একটিই স্বপ্ন। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি নিয়েই তিনি মৃত্যু বরণ করতে চান। এব্যাপারে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহৃদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

Related posts