November 18, 2018

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী শক্তি আগামী নির্বাচনেও জয়লাভ করবে : মোহাম্মদ নাসিম

sআওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি বলেছেন, বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী শক্তি যেভাবে ঐক্যবদ্ধ রয়েছে তাতে আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবে।

তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের শক্তি যেভাবে ঐক্যবদ্ধ রয়েছে তাতে আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ জয় লাভ করবে।’

মোহাম্মদ নাসিম আজ শুক্রবার সকালে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট এই স্মরণসভার আয়োজন করে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিয়ে বিতর্ক তৈরি করে বিএনপি কোনো ফায়দা লুটতে পারবে না উল্লেখ করে বলেন, সরকারকে চাপে রাখতে বিএনপি ইসি নিয়ে বিতর্ক তৈরি করছে। এটা বিএনপির একটি রাজনৈতিক কৌশল।

জোটের সহ-সভাপতি সৈয়দ হাসান ইমামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এমপি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান।

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, মুহিবুর রহমান মানিক এমপি ও বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুন সরকার রানা।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ বঙ্গভবনে গিয়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিল। কোনো ধরনের টু শব্দটি পর্যন্ত হয়নি। তারপরও বিএনপি ২০০১ সালের নির্বাচনের সময় বিচারপতি লতিফুর রহমান এবং সিইসি এমএ সাঈদকে আওয়ামী লীগের লোক বলে প্রচার করেছিল। বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে পর্যন্ত যোগদান করেননি।

বিচারপতি লতিফুর রহমান ও এমএ সাঈদ কিভাবে বিএনপিকে ক্ষমতা আনতে সহায়তা করেছে তা দেশের মানুষের অজানা নয় উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, বিএনপি অতীতের মত আবারো ইসিকে বিতর্কিত করে ফায়দা হাসিল করতে চায়। তারা কোনো বিষয় সম্পর্কে প্রথমে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানায়। তারা হারলে কারচুপির অভিযোগ করে, আর জিতলে কোনো কথা বলে না।

প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নাসিম বলেন, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুতে দেশের সংসদীয় রাজনীতির যে ক্ষতি হয়েছে তা কখনো পূরণ হবে না। জাতি এত দক্ষ পার্লামেন্টেরিয়ান আর কখনো পাবে না।

অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি বলেন, নির্বাচনকালীন সরকারে বিএনপির অংশ গ্রহণের কোনো সুযোগ নেই। কারণ সংসদে প্রতিনিধিত্ব রয়েছে এমন দলগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে এ সরকার গঠিত হবে।

তিনি বলেন, ইসি নির্বাচন পরিচালনা করবে, আর নির্বাচনকালীন সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে। আর আগামী নির্বাচনে বিএনপির অংশ গ্রহণ করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে অনুকরণ ও অনুসরণ করার জন্য নবীন সংসদ সদস্যদের প্রতি আহবান জানান।

শাজাহান খান বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, দেশে যারা জঙ্গিবাদ তৈরি করে গণহত্যার মাধ্যমে দেশে বিপ্লব করতে চায় তাদের সম্পর্কে সকলকে সচেতন থাকতে হবে।

তিনি বলেন, আদর্শিকভাবে জঙ্গিবাদকে মোকাবেলা করার জন্য দেশের মানুষের মননশীলতাকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শাণিত করতে হবে। আর এ লড়াইয়ে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মতো অসাম্প্রদায়িক ও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ খুবই প্রয়োজন ছিল।

Related posts