November 22, 2018

LIVE: মিশরীয় বিমান ছিনতাই: সাইপ্রাসে অবতরন, অতঃপর…

29 Mar, 2016, নাজমুল হোসেন, লন্ডন থেকেঃ  ৫৫ জন আরোহী নিয়ে মিশরের একটি যাত্রীবাহী বিমান অস্ত্রের মুখে ছিনতাই করা হয়েছিল,  আলেকজান্দ্রিয়া থেকে কায়রো যাওয়ার পথে ইজিপ্টএয়ারের আভ্যন্তরীণ রুটের এই ফ্লাইটটি ছিনতাই এর কবলে পড়ে।

বর্তমান অবস্থাঃ 

অবশেষে মিশর থেকেহাইজ্যাক হওয়া প্লেনটি সাইপ্রাসের লারনাকা বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর বিমানটির সব যাত্রী ও ক্রু উদ্ধার হয়েছে কোন রক্তক্ষয়ী ঘটনা ছাড়া। সেই সাথে ছিনতাইকারীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।কর্মকর্তারা বলছেন, সংকটের অব্সান ঘটেছে।

ছিনতাইকারীকে বিমান থেকে বেরিয়ে হাত মাথার ওপর তুলে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দিকে হেঁটে যেতে দেখা গেছে।

ছিনতাইকারীর পরিচয়ঃ 

সাইপ্রাসের পররাষ্ট্র দফতর তার নাম জানিয়েছে সাইফ আল মোস্তফা। সে মিসরীয় নাগরিক। সে সাইপ্রাসের এক নাগরিককে বিয়ে করেছিল।মিসরীয় সেনাবাহিনীর প্রাক্তন সৈনিক।মিসরের বর্তমান প্রেসিডেন্ট সিসির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল বলে এক খবরে প্রকাশ।

প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল যে বিমানটির আরোহী এক মিশরীয় অধ্যাপকই ছিনতাইকারী। তবে পরে তিনি বিবিসিকে বলেন যে তিনি একজন যাত্রী মাত্র, এবং অন্যদের সাথে তিনি বিমান থেকে বেরিয়ে এসেছেন।

ছিনতাই এর কারনঃ 

আরো খবর পাওয়া যাচ্ছে যে ছিনতাইকারী ব্যক্তিটি তার সাবেক স্ত্রীর সাথে দেখা করতে চেয়েছে এবং সাইপ্রাসে আশ্রয় চেয়েছে।

সাইপ্রিয়ট প্রেসিডেন্ট নিকোস আনাস্তাসিয়াদেস বলেছেন, এই ছিনতাইয়ের ঘটনার সাথে সন্ত্রাসবাদের কোন সম্পর্ক নেই।এখন খবর পাওয়া যাচ্ছে যে সে তার সাইপ্রিয়ট সাবেক স্ত্রীর সাথে দেখা করতে চায়।

সাইপ্রিয়ট প্রেসিডেন্ট বলছেন, মনে হচ্ছে এটা একটা নারীঘটিত ব্যাপার।

কিন্তু এখন বলা হচ্ছে, ছিনতাইকারীর আসল দাবিটা কি তা নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে।

আরেক খবরে বলা হয়, ছিনতাইকারী মিশরের কাগারে থাকা মহিলা বন্দীদের মুক্তি দাবি করেছে।

ব্রেকিং নিউজঃ

শেসের ৭ জন জিম্মির সবাই বের হতে সক্ষম হয়েছে। একজন ছবিতে দেখা যাচ্ছে বিমানের ককপিট থেকে লাফ দিয়ে বের হচ্ছে।ছিনতাইকারীও গ্রেফতার হয়েছে।

Person exits the plane via the cockpit window

নীচের ছবিঃ ছিনতাইকারী গ্রেফতারের আগে প্লেন থেকে বের হয়েছিল।

Hijacker of EgyptAir plane

পূর্বের প্রাথিমিক বর্ণনাঃ

এর আগে, ছিনতাইকারীরা মিশর এয়ারলাইন্সের ওই বিমানটিকে সাইপ্রাসে নিয়ে গেছে বলে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে।  এছাড়া তারা কী কারণে বিমানটি ছিনতাই করেছে সে বিষয়েও কিছু জানা যায়নি।

কর্তৃপক্ষ ও এয়ারলাইন্স কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিবিসির খবরে আরো বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সকালে মিশরের অভ্যন্তরীণ রুটের আলেকজান্দ্রিয়া থেকে কায়রো যাওয়ার পথে বিমানটি ছিনতাই করা হয়। ছিনতাইয়ের পর দিক পরিবর্তন করে এটিকে সাইপ্রাসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এ সম্পর্কে ইউরোপীয় কমিশনের সাবেক কর্মকর্তা আনড্রুলা ভ্যাসিলিও এক টুইটার বার্তায় বলেছেন, মঙ্গলবার সকাল ৭টার কিছু আগে এটি সাইপ্রাসের লারনাকা বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এয়ারবাস এ-৩২০ ফ্লাইটটিতে মোট ৮২ জন আরোহী রয়েছে। পরে সাইপ্রাসের রাষ্ট্রীয় রেপিওতে এই সংখ্যা ৫৫ বলে উল্লেখ করা হয়।

তবে মিশরের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রী বলেছেন, এখনো সাতজন লোককে বিমানের ভেতর আটকে রাখা হয়েছে, তবে সেখানে কোন বোমা আছে কিনা তা স্পষ্ট নয়। ছিনতাইকারীর সাথে এখনো আলোচনা চলছে।

আনড্রুলা ভ্যাসিলিও’র বরাত দিয়ে দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকাটি আরো জানিয়েছেন, ছিনতাইকারীরা কয়েকজন যাত্রীকে ছেড়ে দিতে রাজি হয়েছে। তারা কেবল কয়েকজন নারী ও শিশুকে ছেড়ে দেবে বলে জানিয়েছে। এর আগে তারা গোটা বিমানবন্দর এলাকা থেকে সমস্ত পুলিশ সরিয়ে নেয়ারও দাবি করেছে।

 

Related posts