November 16, 2018

মিথ্যা পরিচয়ে বিয়ে : পুলিশের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

চট্টগ্রাম: মুসলমান যুবক হিসেবে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে বিয়ে এবং যৌতুকের দাবিতে মারধর করার ঘটনায় চট্টগ্রামে এক পুলিশ কনেস্টেবলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। ওই পুলিশ কনেস্টেবলের নাম মো. শিশির (প্রকৃত নাম শিশির কুমার ঘোষ)। তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে কর্মরত। তার আইডি নং বিপি ৯৪১৩১৬৩১৫৪।

ফরিদা ইয়াসমিনের দায়ের করা মামলায় চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন বিশেষ আদালত-৩ এর উপস্থিত বিচারক মো. সেলিম মিয়া বুধবার এ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ আবু তাহের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালত সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, বাদী ফরিদা ইয়াছমিন নগরীর ইপিজেডে একটি গার্মেন্টেসে এ চাকরিকালীন শিশিরের সঙ্গে পরিচয় হয়। এর সূত্র ধরে উভয়ের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে শিশির তাকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে চট্টগ্রাম ও সিলেটের বিভিন্ন স্থানে বেড়াতে যায় এবং পরস্পর ঘনিষ্ট হয়।

এক পর্যায়ে শিশিরকে বিয়ের জন্য চাপাচাপি করলে সে টালবাহানা করে। সে মুসলিম পরিচয়ে প্রেমের অভিনয় করলেও পরে ফরিদা ইয়াছমিন জানতে পারেন শিশির একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী।

শিশিরের মিথ্যা পরিচয় ফাঁস হয়ে পড়লে ফরিদা তাকে কেন প্রতারণা করেছেন অভিযোগ করলে সে সাদা কাগজে লিখিতভাবে জানায়, যে ইসলাম ধর্মগ্রহণ করেছে এবং দশ লাখ টাকা কাবিন সম্পাদনে বিয়ে করবে।

এভাবে দীর্ঘদিন অবাধ মেলামেশার পরও শিশির বিয়ে করতে গড়িমশি করতে থাকলে ফরিদা এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বরাবরে অভিযোগ করেন।

পুলিশ কর্মকর্তাদের তদন্তে ঘটনা প্রমাণিত হলে সে তড়িঘড়ি গত ৩ জানুয়ারি চট্টগ্রামের নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে হলফনামা সম্পাদনে ধর্মান্তরিত হয়ে ৩১নং আলকরণ ওয়ার্ড কাজী অফিসে ইসলামী শরিয়া মোতাবেক বিয়ে সম্পন্ন করে।

বাদী ফরিদা অভিযোগ করেন, শিশির লোক দেখানোর জন্য বিয়ে করলেও প্রকৃতপক্ষে তাকে ভালোবেসে বিয়ে করেনি। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য নানান বাহানা দিয়ে আমাকে মারধর শুরু করে এবং পূর্বপরিকল্পিতভাবে চলতি বছরের ৭ জুন পাঁচ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে বেদমভাবে নির্যাতন করে আহত করে।

এ নিয়ে ২১ জুন তিনি চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন বিশেষ ট্রাইবুন্যাল-৩ এ মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য আকবর শাহ থানার ওসিকে নির্দেশ দিলে থানার এসআই মাহবুব বিষয়টি তদন্ত করে বাদীর অভিযোগের সমস্ত বিষয় প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত মর্মে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। কিন্তু যৌতুকের দাবির বিষয়ে চাক্ষুস প্রমাণ নেই মর্মে উল্লেখ করেন।

এতে বাদী ফরিদা ওই পুলিশ প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি প্রদান করলে আদালত সার্বিক বিবেচনায় পুলিশ কনস্টেবল শিশিরের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

Related posts