November 19, 2018

মিথুন এবং স্পিনারদের কাছেই হেরেছে বরিশাল

255147

চট্টগ্রামে রংপুর রাইডার্স ও বরিশাল বুলসের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে ১২ রানে জিতেছে রংপুর রাইডার্স। মূলত রংপুর রাইদার্সের ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ মিথুন এবং দলীয় স্পিনারদের কাছেই হেরেছে মুশফিক বাহিনী। বিপিএল এর এবারের আসরে এটা নিয়ে তৃতীয় জয়ের সাধ উপভোগ করলো রংপুর।
ম্যাচের পরিস্থিতি প্রতিক্ষণেই পরিবর্তিত হয়েছে। একবার ম্যাচ রংপুরের দিকে ঝুঁকলে কিছুক্ষণ পর আবার দেখা যায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বরিশালের হাতে। তবে সব কিছু ছাপিয়ে শেষপর্যন্ত জয়ের হাসি হেসেছে রংপুর রাইডার্সই। শেষ ওভারে মীমাংসা হয় ম্যাচের।

রংপুর রাইডার্সের দেয়া ১৭৬ রানে খেলতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় মুশফিক বাহিনী। ইনিংসের প্রথম বলেই দিলশান মুনাবিরার উইকেট হারায় বরিশাল। গাজির বল মুনাবিরার গ্লাভস স্পর্শ করে জমা পড়ে উইকেটরক্ষক শাহজাদের হাতে। দারুণ ছন্দে থাকা বরিশালের এবারের আসরের সেরা ব্যাটসম্যান শাহরিয়ার নাফিস ইঙ্গিত দেন বড় ইনিংস খেলার। সেনানায়েকের ওভারের শেষ দুই বলে চার ও ছক্কা হাঁকান তিনি। তবে পরের ওভারে গাজীর দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন তিনি। ফ্রন্টফুটে ডিফেন্স করতে গিয়ে বল মিস হয় নাফিসের। আর সেই সুযোগ দারুণভাবে কাজে লাগিয়ে নাফিসকে স্টাম্পিং করেন শাহজাদ। ১২ রান করে আউট হন নাফিস।

জীবন মেন্ডিস ও মুশফিকুর রহিম ৩০ রান যোগ করেন। অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম বড় ইনিংস গড়তে  পারেননি। ডসনের বলে সুইপ খেলতে যান মুশফিক। কিন্তু ব্যাটে বলে হয়নি। মুশফিকের পা ক্রিজের সামান্য বাইরে ছিলো। অসাধারণভাবে স্টাম্পিং করেন শাহজাদ। দলীয় ৪৮ রানে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে বরিশাল বুলস। তবে এরপর নাদিফ চৌধুরী এবং জীবন মেন্ডিসের ব্যাটে আবারো ম্যাচে ফিরে দলটি। দুজনে মিলে রানের চাকা সচল রাখলেও ম্যাচ রংপুরের দিকেই হেলে ছিলো। তবে ১৪ তম ওভারেই বেড়ে যায় উত্তেজনা। এক ওভারে ২৪ রান নেন নাদিফ। সেনানায়েকের করা ঐ ওভারে তিনটি ছক্কা হাঁকান তিনি। পরের ওভারে রুবেলকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে আউট হতে পারতেন মেন্ডিস, তবে ক্যাচ হাতছাড়া করেন আরাফাত সানি। ঐ ওভারেই মিড উইকেটের উপর দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে বরিশালের আশা জিইয়ে রাখে জীবন মেন্ডিস।

শেষ পাঁচ ওভারে বরিশালের চাই ৫৫ রান। বোলিংয়ে এসে মাত্র ৩ রান দিয়ে নাদিফ চৌধুরিকে ফেরান আফ্রিদি। পরের ওভারে ১০ রান এলেও বরিশালের জন্য জয়ের পথ দুর্গম হয়ে যায়। ১৮তম ওভারে আরও ১৩ রান এলে কিছুটা আশা বেঁচে থাকে বরিশালের। শেষ ওভারে ২০ রান দরকার ছিলো তাদের, হাতে ৩ উইকেট। প্রথম বলেই রান আউট হন কামরুল ইসলাম রাব্বি। তাইজুল ইসলাম ব্যাটিংয়ে নেমেই ছক্কা মেরে বরিশালকে খেলায় টিকিয়ে রাখেন। কিন্তু পরের বলে আবারও এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে স্টাম্পিং হন তাইজুল। শেষপর্যন্ত ১৬৩ রানে অলআউট হয়ে মাঠে ছাড়ে বরিশাল।

এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে রংপুর রাইডার্সের দুই ওপেনার মোহাম্মদ শাহজাদ আর সৌম্য সরকার ২১ রানের জুটি গড়েন। তাইজুল ইসলামের বলে আউট হন সৌম্য। ৯ বলে ১৪ রান করে স্টাম্পিং হন তিনি। তারপর হাল ধরেন মোহাম্মদ মিথুন। মিথুনের ব্যাটে বড় স্কোরের স্বপ্ন দেখে রংপুর রাইডার্স। মিথুন-ডসনের ৭৮ রানের জুটি ভাঙেন থিসারা পেরেরা। দলীয় ১২৪ রানের মাথায় পেরেরার বলে বড় শট খেলতে যান মিথুন কিন্তু ব্যাটে বলে না হওয়ায় বোল্ড হতে হয়। শেষপর্যন্ত ছয় উইকেট হারিয়ে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে বরিশাল ১৭৫ রান তুলতে সমর্থ হয়। দুইটি করে উইকেট শিকার করেন তাইজুল ইসলাম ও থিসারা পেরেরা।

স্কোরবোর্ডঃ

রংপুর রাইডার্সঃ ১৭৫/ ৬ (মিঠুন ৬২, ডসন ৪৬, তাইজুল ২-২৭); বরিশাল বুলস ১৬৩ (মেন্ডিস ৫৭,নাদিফ ৪১, গাজী ৩-১৯)

ফলাফলঃ  রংপুর রাইডার্স ১২ রানে জয়ী

ম্যাচসেরাঃ মোহাম্মদ মিথুন

Related posts