September 24, 2018

মিতু হত্যা নিয়ে সিএমপির নতুন ভেল্কিবাজি!

নিউজ ডেস্ক:মিতু হত্যাকাণ্ড নিয়ে নতুন আরেক ভেল্কিবাজি শুরু করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজন ৫ খুনির বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। অথচ এই ৫ জনের মধ্যে অন্তত ৪ জন পুলিশের কাছে আটক রয়েছে বলে দাবি করেছেন তাদের পরিবারের লোকজন।

পুলিশের কাছে হেফাজতে থাকা সত্ত্বেও পলাতক উল্লেখ করে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। অনেকেই উত্তর খুজঁছেন পুলিশের এই ভেল্কিবাজির কারণ কী? আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তাহলে কি তাদের গুম করে ফেলা হয়েছে?

পরিবারের স্বজনদের দাবি, তারা যদি মিতু হত্যায় জড়িত থাকে তাহলে দেশের প্রচলিত আইনে তাদের বিচার হোক। বিচারের কাঠগড়ায় তাদের না তুলে গুম করা হবে কেন? এতে পুলিশের কৃতিত্ব দেখানোর মতো কি কোন ফন্দি আছে। নাকি তাদের ক্রসফায়ারে মারা হবে। নাকি মূল খুনিকে রক্ষায় তাদের গুম করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ গত বুধবার মিতু হত্যায় নেতৃত্বদানকারী মুছা সিকদার, রাশেদ, শাহজাহান, কালু ও শিহাবকে পলাতক উল্লেখ করে দেশত্যাগে তাদের বিরুদ্ধে রেড এল্যার্ট জারি করে। তাদের ছবিসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দেশের সব বিমান, নৌ ও স্থলবন্দরে পাঠানো হয়েছে। যা দেশের অনলাইন গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হয়েছে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে মিতু হত্যার নেতৃত্বদানকারী মুছা সিকদারের স্ত্রী পান্না আক্তার ঢাকাটাইমসকে বলেন, মুছা তো পুলিশের হেফাজতে আছে। গত ২২ জুন ভোরে মুছাকে বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় পুলিশ। পুলিশের হাতে আটক নবীর মাধ্যমে কৌশলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

তিনি বলেন, ২২ জুন ভোরে পুলিশ যখন আমাদের বন্দরের নতুন বাসায় আসে। তখন মুছা বাসায় ছিল না। কোথায় আছে জানতে চাইলে আমি বলি জানি না। তখন পুলিশ কর্মকর্তারা আমার ফোনটি নিয়ে নেয়। ওই ফোন দিয়ে নবী ফোন করে মুসাকে। বলে আমরা ঝামেলায় আছি তুই তাড়াতাড়ি তোর বাসায় আয়। কিছুক্ষণ পর মুসা বাসায় আসে। এরপর পুলিশ কর্মকর্তারা নবী ও মুসাকে নিয়ে চলে যায়। এরপর তার আর খোঁজ নেই। আমরা জানি সে পুলিশ হেফাজতে আছে, তাই অন্য কোথাও তাকে আমরা খুঁজিনি।

কিন্তু হঠাৎ গতকাল বুধবার পুলিশ তাকে পলাতক দেখিয়ে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করল কেন? মুছা তাহলে কোথায়? মুছাকে কি তাহলে গুম করে ফেলা হয়েছে। নাকি ক্রসফায়ার করা হয়েছে। এ কথা বলে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। 

একইভাবে রাশেদ এর ছোট ভাই সাহেদ ঢাকাটাইমসকে বলেন, মুছাকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ আমার বড় ভাই রাশেদকে চট্টগ্রামের বোয়ালখালি থেকে গ্রেপ্তার করে। বড় ভাই আসলে অপরাধী কিনা আমি জানি না। তবে পুলিশ যখন নিয়ে গেছে তখন আমরা ভয়ে চুপ করে থাকি। এখন রাশেদকে পলাতক বলে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় আমরা চিন্তিত।

সাহেদ বলেন, আমার ভাই যদি মিতু হত্যায় জড়িত থাকেন তাহলে তার বিচার হোক। কিন্তু সেটা দেশের প্রচলিত আইনেই হোক। বিচারের কাঠগড়ায় তাদের না তুলে পুলিশের হেফাজতে থাকা একজনকে হঠাৎ পলাতক দেখিয়ে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো কেন। তাহলে কি তাকে ক্রসফায়ারে মেরে লাশ গুম করে ফেলা হয়েছে। নাকি এ ফন্দি-ফিকির করে পুলিশ কোন কৃতিত্ব অর্জনের চেষ্টা করছে।

একই কথা বলেছেন, শাহজাহান ও কালুর পরিবারের সদস্যরাও। উভয়ের পরিবারের স্বজনদের দাবি, শাহজাহান ও কালুকে পুলিশকে গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু পুলিশ তাদের পলাতক বলছে কেন, এ প্রশ্নে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্বজনরা। শুধু তাই নয়, দুশ্চিন্তায়ও পড়েছেন উভয় পরিবারের সদস্যরা।

শুধু খুনি পরিবারে নয়, পাঁচ জনের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় চট্টগ্রামের গণমাধ্যমকর্মী ও সচেতন মহলের মাঝেও বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে। কারণ গত রবিবার ওয়াসিম ও আনোয়ারকে মিতু হত্যায় জড়িত বলে গণমাধ্যমে দেয়া তথ্যের সময় আরও দুয়েকজনকে গ্রেপ্তার রয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রাপলিটন পুলিশের কমিশনার ইকবাল বাহার।

এই দুয়েকজনের নাম তিনি না বললেও তখন থেকে চাওড় হতে থাকে মুছা, নবী ও মনিরসহ আরো কয়েকজন গ্রেপ্তার হওয়ার কথা। এছাড়া মুছাসহ গ্রেপ্তার আসামিদের সামনে কথাও বলেছেন এসপি বাবুল আক্তার। এরপর মঙ্গলবার নবী ও মনিরকে গ্রেপ্তারের তথ্য প্রকাশ করলেও বুধবার পুলিশ মিতু হত্যা নেতৃত্বদানকারী মুছা, রাশেদ, শাহাজাহন, কালু ও শিহাবকে পলাতক উল্লেখ করে দেশত্যাগে রেড এলার্ট জারি করেন। যা সতিই বিস্ময়ের।

সচেতন মহলের প্রশ্ন, মূলত মিতু হত্যার মূল খুনিকে আড়াল করার জন্যই কি হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্বদানকারী মুছা সিকদারসহ অন্য আসামিদের পলাতক দেখিয়ে গুম করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান ঢাকাটাইমসকে বলেন, মামলার স্বার্থে পুলিশ নানা কৌশল নেয় ঠিকই। মিতু হত্যা মামলায়ও এ রকম অনেক কৌশল আছে বৈ কি। তবে পুলিশ যাই করুক মামলার স্বার্থে করছে। মিতু হত্যা মামলার সঠিক তদন্তের স্বার্থেই করছে। এ মামলার প্রকৃত খুনিদের বিচার হবেই এটা ধরে রাখেন।

উৎসঃ   dhakatimes

Related posts