April 25, 2019

মা-জাতির থেঁতলানো মুখচ্ছবি-দোষ কি শুধু স্বামীর?

রাজু আহমেদ
সম্প্রতি দেশের গণমাধ্যমে নারী নির্য্যাতনের ভয়াবহ চিত্র অঙ্কিত হয়েছে । এসকল পাষন্ডতার বেশিরভাগ ঘটেছে যৌতুককে কেন্দ্র করে । স্বামীর অত্যাচারে মারাত্মকভাবে জখমী এ নারীর চিত্র গোটা মানুষের বিবেকবোধকে নাড়া দিয়েছে । এটা কি করে মনুষ্যসূলভ আচরণ হতে পারে ? সংবাদ মাধ্যমের মাধ্যমে জানা গেছে, জখমী নারীর বিবাহ হয়েছিল প্রেমের পরিণতিতে । নরপশুরূপী পাষন্ড, প্রেমিকার শরীরের যৌতুকের দাবীতে কি করে অত্যাচার করলো-তা স্বাভাবিক ভাবনায় ধরা দেয় না । যৌতুকের কারণে নারী নির্য্যাতনের এমন ভয়াবহ চিত্র গোটা দেশজুড়ে । এর কতগুলো সংবাদ মাধ্যমে আসে আর বাকীগুলো হারিয়ে যায় চার দেয়ালের বন্দী খোপে ।

ঈদের ছুটিতে বাড়ি গিয়ে আবিষ্কার করলাম, আমাদের গ্রামে বেশ কয়েকজন ঘটকের উদ্ভব হয়েছে । যাদের কাজ পাত্র-পাত্রী পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ ঘটিয়ে নতুন সংসারের সূচনা করিয়ে দেয়া । ঘটকের ভূমিকার বিনিময়ে সেই গাছের লাঠির বিশাল ছাতা আর রঙিন পাঞ্জাবীর যুগ অবশিষ্ট নাই । পাঁচশ টাকা দিনমজুরির যুগে সামান্য ছাতা-পাঞ্জাবীর জন্য কে বাড়ি বাড়ি দৌড়ায় । তাই কন্যাপক্ষকে থেকে যে যৌতুক আদায় করা যাবে তার শতকরা দশভাগ তাদের প্রাপ্য-হোক সে নগদ অর্থ অথচ গহনা ! এদের সাথে আলাপ করে শুনলাম এরা থানা থেকে নিবন্ধিত অর্থ্যাৎ নির্ধারিত সময়ে এরা থানায় কিছু অর্থও পরিশোধ করে । এই যদি হয় গ্রামের চিত্র তবে থেঁতলানো মুখচ্ছবির প্রকাশ না ঘটে বিকল্প কি ?

যৌতুক লোভী স্বামী নরপশু-অত্যাচারি হয়ে স্ত্রীকে মারধর করলে তার দায় কি শুধু স্বামী ওপর বর্তায় ? কন্যাপক্ষের পরিবার কিংবা আইন প্রয়োগের ব্যার্থতা কি মোটেও দায়ী নয় । ভালো জামাই জোগাড় করার জন্য মেয়ের সাথে টাকার অঙ্কটা বৃহৎভাবে উত্থাপণ করে মেয়ের অভিভাবক পক্ষ কি তাদের কন্যার কপালে নির্য্যাতনের রাস্তাকে সুগম করে দেয়না ? পৃথিবীতে এমন কোন মানুষরূপী জানোয়ার আছে যার অর্থ লোভ নাই ? যে পুরুষ বিবাহের বিনিময়ে পাত্রীর পক্ষ থেকে অর্থ গ্রহন করতে পারে তাকে মানুষ বলতে হবে এমন দায় পড়েছে কার ? যে ব্যক্তি যৌতুক গ্রহন করার জন্য বিবাহ করে তার কাছে মেয়ে দিতে হবে কেন ? দেশে কি ছেলেরে আকাল পড়েছে ? মেয়ের যা যোগ্যতা তার তিন ধাপ ডিঙিয়ে ভালো বরকে কয়েক লাখ টাকা যৌতুক না দিয়ে সমপর্যায়ের ছেলে কাছে মেয়ে বিবাহ দিলে সে দম্পতি বহুগুন সূখেই থাকবে । স্বীকৃত যে, অর্থ মানুষকে লোভী বানায় । অকর্মণ্য যখন শ্বশুড়ের পক্ষ থেকে যৌতুক হিসেবে কিছু অর্থ পায় তখন আরো বাড়তি অর্থ পাওয়ার বাসনা তো তার থেকে অস্বাভাবিক আচরণ নয় । যে পুরুষ যৌতুক নিয়ে বিবাহ করে, সে পৃথিবীর সকল নিকৃষ্ট কাজ অনায়াসেই করতে পারে । যৌতুক গ্রহন আর বিষ্টা ভক্ষণে তো খুব বেশি পার্থক্য নাই ।

যৌতুক প্রতিরোধে দেশে লম্বা লম্বা আইন আছে কিন্তু তার বাস্তবায়ন কতটুকু ? যারা যৌতুক প্রতিরোধে আইন করছে তারাই যৌতুককে অন্য মোড়ক পড়িয়ে লেনদেন সারছে । অবৈধ অর্থের লেনদেনে নিগৃহীত দোষী সাব্যস্ত আর অত্যাচারি নির্দোষ প্রমাণের দৃষ্টান্ত এই সমাজে ভুরি ভুরি । কোন ধরণের সচেতনা দ্বারাই যৌতুক প্রতিরোধ করা যাবে না যতদিন যৌতুক প্রতিরোধকল্পে প্রণীত আইনগুলো আরও কঠোর ও পূর্ণ বাস্তবায়ন করা না হবে । মা জাতির থেঁতলানো মুখচ্ছবি সমাজ-সভ্যতাকে ততদিন উপহার হিসেবে গ্রহন করতে হবে যতদিন মানুষের মধ্যে মনুষ্যত্ত্বের সঠিক শিক্ষা এবং কঠোরতা পরিলক্ষিত না হবে । জামাইকে আদর করে একখানা মোটর সাইকেল কিনে দিয়ে যদি ভাবেন আপনার মেয়ে এবং জামাই হাওয়া খেয়ে বেড়াবে…..তার কিছুদিন পরেই যে জামাই মেয়েকে মাইক্রো নিতে বলবে না তার গ্যারান্টি কোন গ্রহের কোন জীব আপনায় দিলো…..।

লেখক ও কলমালিস্ট।

ইহা লেখকের একান্ত ব্যক্তি গতমত,প্রকাশক দায়ী নহে।

Related posts