November 16, 2018

মাসব্যাপী অবরোধেও কাতারের জৌলুস কমেনি এতটুকু

Captureএশিয়া ::কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবরোধ সত্ত্বেও গ্যাসসমৃদ্ধ উপসাগরীয় ছোট্ট দেশ কাতারের চোখ ঝলসানো মল ও বিলাসবহুল হোটেলগুলোতে অবরোধের চিহ্ন খুব কমই চোখে পড়ছে। কাতারের ওপর জল, স্থল ও আকাশপথে আরব দেশগুলোর এই অবরোধ চলছে প্রায় এক মাসের বেশি সময় ধরে।

ছোট্ট এই দেশটি কীভাবে এত বড় একটা সংকট মোকাবেলা করছে, এবার সেদিকে নজর দেয়া যাক।

কাতার মূলত তার দেশের বিশাল অর্থ-সম্পদ ও প্রতিবেশী বন্ধুদের সহযোগিতায় সৌদি জোটের চাপিয়ে দেয়া অবরোধ কাটিয়ে উঠেছে। গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে, কাতার বিশ্বের শীর্ষ ধনী রাষ্ট্র। মাথাপিছু আয়ের দিক দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে ধনীদেশগুলোর অন্যতম এটি। ফলে কাতারি জনগণ প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর নাগরিকদের চেয়ে গড়পড়তাভাবে বেশি ধনী।

কাতারের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর শেখ আবদুল্লাহ বিন সৌদ আল থানি জানিয়েছেন, দেশটির রয়েছে ৩৪০ বিলিয়ন বা ৩৪ হাজার কোটি ডলারের রিজার্ভ। এছাড়া নিউইয়র্ক ও লন্ডনের মতো বড় শহরগুলোর আন্তর্জাতিক বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলোতে কাতারের রয়েছে বিশাল অংকের বিনিয়োগ।

অত্যাধুনিক কাপড়ের দোকানগুলোত গ্রীষ্মকালের উপযোগী হাল ফ্যাশনের পোশাক দেদারসে বিকোচ্ছে। মুদি দোকানগুলো ইউরোপ ও তুরস্কের মাংস ও পনিরে ঠাসা। এছাড়া মাত্র এক মাস আগে অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশটির প্রধান বন্দর দিয়ে ৪ হাজার ৩০০টি গাড়ি ও ভেড়া আমদানি করা হয়েছে।

ডব্লিউ ও সেন্ট রেজিসের মতো বিলাসবহুল হোটেলগুলো চব্বিশ ঘণ্টা বিভিন্ন ধরনের সুস্বাদু খাবার পরিবেশন করছে। দর্শনার্থী ও পর্যটকদের জন্য উপচে পড়ছে কোমল পানীয়।

রাজধানী দোহায় আগের মতোই ভিড় জমাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নামিদামি লোকজন। ভিড় জমাচ্ছে বিভিন্ন ফুটবল দলের খেলোয়াড়েরা। গত সপ্তাহেই দোহার একটি জমকালো মলে ভক্তদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন বিখ্যাত ফুটবল দল বার্সেলোনার খেলোয়াড় জেরার্ড পিকে, সার্গিও বাসকেটস ও জর্ডি অ্যালবা। এখানেই অনুষ্ঠিত হবে ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট।

কেনাকাটা করতে আসা বদর জেরান নামে কাতারের একজন নাগরিক বলেন, ‘আমরা কোনো পার্থক্য অনুভব করছি না। সর্বত্রই একটা উৎসব উৎসব পরিবেশ মনে হচ্ছে।’

জুন মাসের শুরুর দিকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সন্ত্রাসবাদ ও উপসাগরীয় দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগে কাতারের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করে কাতারকে একঘরে রাখার পদেক্ষপ নেয় সৌদি আরব, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিসর। সন্ত্রাসবাদ সমর্থনের অভিযোগ অস্বীকার করে কাতার তার প্রতি অবরোধ আরোপের নিন্দা জানায় এবং সৌদি জোটের অবরোধকে কাতারের সার্বভৌমত্বের প্রতি আক্রমণ বলে অভিহিত করে।

সৌদি আরবের সঙ্গে কাতারের একমাত্র স্থলবন্দরও বন্ধ করে দেয় রিয়াদ। ফলে উদ্বিগ্ন কাতারি জনগণ খাদ্য সংকটের আশঙ্কায় মুদি দোকানগুলোতে ছুটে যায়। মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায় আমদানিকৃত সব ধরনের খাদ্যদ্রব্য। কাতার তার নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অর্ধেকই আমদানি করত সৌদি আরব থেকে। তবে দোকানগুলো দ্রুতই পুনরায় ভরে ওঠে। মধ্যপ্রাচ্যে সৌদির সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান ও তুরস্ক কাতারকে প্রয়োজনীয় সব খাদ্য সরবরাহ করছে।

অবরোধের মধ্যদিয়ে আরব দেশগুলো আসলে কাতারের সরকারে একটি পরিবর্তন আনতে চায়। তবে দেশটির ৩৭ বছর বয়সী আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির প্রতি কাতারি জনগণের ব্যাপক সমর্থনের কারণে তাদের সে আশা স্পষ্টত ধুলোয় মিশে গেছে।

দেশটির সব গাড়ি ও বড় বড় বিলবোর্ডগুলোতে লেখা, ‘আমরা সবাই তামিম। আমরা সবাই কাতার।’

Related posts