September 22, 2018

মালয়েশিয়ায় নির্যাতিত সেই তুহিন রেজা দেশে!

জাহিদুর রহমানঃ মুক্তিপণের জন্য মালয়েশিয়ায় আটকে রেখে নির্যাতন করা সেই তুহিন রেজা দেশে ফিরেছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে নিজ খরচে মালয়েশিয়ায় থেকে ঝিনাইদহে আসেন তিনি। ঝিনাইদহে এসে বুধবার দুপুরে তুহিন সদর হাসপাতালে ভর্তি হন।

এ সব তথ্য জানান তুহিন রেজার মা রোকেয়া খাতুন। তিনি জানিয়েছেন মুক্তিপণ আদায়ের জন্য ছেলে তুহিন রেজার দুই পা ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। সে এখন হাটতেও পারছে না। দালালরা বলেছিলো মালয়েশিয়া থেকে আনা ও চিকিৎসার সব খরচ তারা বহন করবে। কিন্তু তারা উঁকি মেরেও দেখেনি।

ঘটনার সাথে জড়িত আলোচিত দালাল মাহফুজুর রহমান বল্টুকে পুলিশ গত ২১ আগষ্ট আটক করে। তারপর দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হওয়ায় দালাল বল্টুকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

মধুহাটী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জুয়েলের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তার মধ্যে তুহিন রেজাকে দেশে ফিরিয়ে আনা ও বিদেশে যাওয়ার খরচ দেওয়ার সমঝোতা হয়। কিন্তুু দালালরা এখন কোন খোঁজ নিচ্ছে না।

উল্লেখ্য ২০১১ সালে লিবিয়া যাওয়ার জন্য এলাকার দালাল মহামায়া গ্রামের মধু, আসাদ, বেজিমারা গ্রামের মাহফুজুর রহমান ওরফে পল্টু ও তোরাব আলির কাছে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করে তুহিন।

দুই বছর ধরে ঘোরানোর পর দালালরা জানান, লিবিয়ার আবস্থা ভাল নয়। সাড়ে ৪ লাখ টাকা হলে ইরাক বা কাতারে পাঠানো হবে। এরপর ফ্লাইটের নামে তুহিনকে দফায় দফায় ১৬ বার ঢাকায় নিয়ে রাখা হয়।

সর্বশেষ একই খরচে তুহিনকে ২০১৬ সালের ১৪ জুলাই মালয়েশিয়ায় পাঠিয়ে দেয়। মালয়েশিয়ায় পৌছানোর পর দালালচক্র তুহিনকে আটকিয়ে পরিবারের কাছে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। দাবিকৃত টাকা না পেয়ে তুহিনকে দফায় দফায় নির্যাতন করে।

কোন উপায়ন্ত না পেয়ে তুহিনের দরিদ্র বাবা গরু ও মাঠের জমি বিক্রি করে দেড় লাখ টাকা পরিশোধ করেন। এরপর তুহিনের নিকট আরো দশ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে না পারাই তিন তলা বাড়ির ছাদ থেকে ফেলে হত্যার চেষ্টাও করা হয়।

এতে তুহিনের দুই পা ভেঙ্গে যায়। দেশে ফিরে পঙ্গু তুহিন জানান, তার উপর নির্যাতনের বিচার চান তিনি।

মহেশপুর ইছামতি নদীতে অজ্ঞাত লাশ !
ঝিনাইদহ মহেশপুর উপজেলার বাঘাডাঙ্গা খোসালপুর সীমান্তে ইছামতি নদীতে ভাষমান লাশ দেখা যায়। পতাকা বৈঠকে কোন পক্ষ লাশ গ্রহন করেনি।

বিজিবি ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে বাঘাডাঙ্গা বিওপির অধীনে খোসালপুর সীমান্তে ইছামতি নদীতে একটি লাশ দেখতে পেয়ে বিজিবি-কে খবর দেয় এলাকাবাসী।

বিজিবি’র বাঘাডাঙ্গা ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার আব্দুল ওয়াদুদ জানান, তারা দেখতে পায় একটি লাশ কলার ভেলাই বাধা। মুখে ও গায়ে আগুন দেওয়া এবং ধুতি পড়নে আছে। এই দেখে তাদের মনে হয়েছে লাশটি মুখ-আগুনে করে নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছে।

এ বিষয়ে কুমারী ক্যাম্পের সাথে বেলা ২টায় পতাকা বৈঠক করলে ভারতে পক্ষ থেকে লাশ নিতে অস্বীকৃতি জানায়। ৬০/৭৮আর পিলার কাছে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকে বিএসএফের পক্ষে কুমরী ক্যাম্পের এস.আই রাজেস কুমার ও বাংলাদেশের পক্ষে বাঘাডাঙ্গা বিওপির নায়েক সুবেদার আব্দুল ওয়াদুদ স্ব-স্ব পক্ষে নেতৃত্ব দেন।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত লাশটি নদীতে ভাসছিল। ৫৮বিজিজি’র সিও লেঃ কর্নেল তাজ জানান, উক্ত লাশটি ভারতের মধ্য থেকে কেউ নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছে বলে তাদের ধারনা।

ঝিনাইদহে “আর আত্মহত্যা নয় ” নাটক ম স্থ !

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সহযোগিতায় নাটক “আর নয় আত্মহত্যা” রচনা ও নির্দেশনায় অংকুর নাট্য একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন জুলিয়াস এর পরিবেশনায় ও শোভা এনজিওর তত্ত্বাধানে ২৮ আগষ্ট’ থেকে ০১ সেপ্টেম্বর’২০১৬ পর্যন্ত ০৫ (পাঁচ) দিন ব্যাপী ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নাটকটি ম স্থ করা হয়।

নাটকে অভিনয় করেন অংকুরের ১৩ জন অভিনেতা ও অভিনেত্রী-মোঃ খসরুজ্জামান বাবু, মোঃ লিমন হোসেন, রোম্মান আহমেদ বিদ্যুৎ, মোঃ বিল্লাল হোসেন, ওহিদুজ্জামান অনিক, রোমান আহমেদ, সোহেল রানা, মোঃ রাব্বি, ফারলানা আক্তার এ্যানি, ঋতু খাতুন, শান্তা খাতুন, রমা চট্টোপাধ্যায় ও তাসলিমা আক্তার তিন্নি।

এই নাটকটি পরিবেশনের সময় ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষিকাবৃন্দ, ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সাংস্কৃতিক কর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পরবর্তীতে নাটকটি উপভোগকারী দর্শকগণ অভিমত ব্যক্ত করেন আত্মহত্যা প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক নাটক “আর নয় আত্মহত্যা” ঝিনাইদহ জেলার আত্মহত্যা প্রতিরোধের জন্য জেলার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, হাট-বাজারে এবং জনবহুল এলাকায় বেশি বেশি ম স্থ হওয়া প্রয়োজন। এটা ঝিনাইদহ জেলার জন মানুষের দাবী।

 

Related posts