December 14, 2018

মালয়েশিয়ায় দুই বাংলাদেশিকে হত্যা

840

বৃহস্পতিবার রাতে মালয়েশিয়ার একটি পাহাড় থেকে দুই বাংলাদেশি যুবককের গলা মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে  নিহতদের স্বজনদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে। তাদের গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে বলে তাদের পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন।

নিহতরা হচ্ছেন- কালকিনি উপজেলার নতুন চরদৌলত খান গ্রামের চুন্নু খানের ছেলে মো. রাসেল খান (৩০) ও রমজানপুর এলাকার শাহজাহান খানের ছেলে বিজয় খান (২২)।

গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন মিলন জানান, প্রায় ৮ বছর আগে রাসেল খান মালয়েশিয়া যান। তিনি সেখানে নির্মাণ শ্রমিকদের ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছিলেন। তার পরিবারের সদস্যরা তাকে (ওসি) জানান, গত ২৮ নভেম্বর মোটরসাইকেলযোগে কাজে যাওয়ার সময় রাসেল ও বিজয়কে অপহরণ করা হয়। পরে মালয়েশিয়া থেকে রাসেলের পরিবারের কাছে ফোনে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা।

ইসলামী ব্যাংক টেকনাফ শাখার আনসার উল্লাহ নামে ব্যক্তির ২১৩৩৮ হিসাব নাম্বর দেয়া হয়। রাসেলের পরিবার মুক্তিপণ বাবদ কালকিনি উপজেলার গৌরনদীর টরকী বন্দর শাখা থেকে ৫ লাখ টাকা পাঠায় ওই একাউন্টে। কিন্ত অপহরণকারীরা ২৯ নভেম্বর থেকে রাসেলের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। রাসেলের পরিবার বিষয়টি কালকিনি পুলিশকে জানায়। তারা (কালকিনি পুলিশ) মুক্তিপণের টাকা পার্শ্ববর্তী গৌরনদী উপজেলার টরকী বন্দর শাখা থেকে পাঠানোর অজুহাত দেখিয়ে গৌরনদী পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলে।

রাসেলের ভাই শিহাব এ ঘটনায় বরিশাল আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত গৌরনদী থানা পুলিশকে মামলাটি গ্রহণ করে তদন্তের নির্দেশ দেন।

এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গৌরনদী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম জানান, গত বুধবার টেকনাফ থেকে মুক্তিপণের ৫ লাখ টাকা পাঠানো একাউন্টের মালিক আনসার উল্লাহকে (২৭) গ্রেফতার করা হয়। রহস্য উদঘাটনে তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাওয়া হয় বৃহস্পতিবার।

এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে মামলার বাদী শিহাব তাকে জানায়, মালয়েশিয়ার একটি পাহাড় থেকে তার ভাই রাসেল ও বিজয়ের গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

ওসি বলেন শিহাব আরো জানায়, রাসেলের মালয়েশিয়া প্রবাসী প্রতিবেশীরা সেখানকার পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছে।

মালয়েশিয়া পুলিশ ইউনুস ও সাকেরসহ তিন বাংলাদেশিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং মরদেহের সন্ধান দেয়। আর তাদের দেয়া তথ্যমতে অভিযান চালিয়ে গলাকাটা মরদেহ দুটি উদ্ধার করে মালয়েশিয়া পুলিশ। ইউনুস ও সাকেরসহ আটক তিনজনের বাড়ি টেকনাফ জেলায়।

নিহত রাসেলের ভাই শিহাব জানান, ৮ বছর আগে তার ভাই মালয়েশিয়ায় যান। জিম্মি অবস্থায় গত ২৯ নভেম্বর দুপুরে তার ভাই রাসেলের সঙ্গে শেষ কথা হয়। বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়ায় থাকা তার চাচা সোহরাব খান ফোনে রাসেল ও বিজয়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ঘাতকরা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ও মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত। তার ভাই রাসেল ও বিজয়ের মরদেহ দেশে আনতে সরকারের সহযোগিতা চাইবেন বলে জানান শিহাব।

অপরদিকে, নিহতদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে। ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছে শোকার্ত দুই পরিবার।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts