November 15, 2018

মার্চেই দলীয় প্রতীকে ৬০০ ইউপি নির্বাচন

ঢাকাঃ  দলীয়ভাবে পৌরসভা ভোটের পর এবার দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। গত নভেম্বরে এ সংক্রান্ত আইন সংসদে পাস হয়েছে। চলতি বছরের মার্চের শেষের দিকে ৬০০ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। গতকাল নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ। তিনি বলেন, মার্চের শেষ দিকে ইউপি নির্বাচন করতে হবে আমাদের। এ লক্ষ্যে যথাসময়ে তফসিল (ফেব্রুয়ারিতে) দিতে হবে। কয়েক ধাপে ইউপি নির্বাচন করার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, আইনের আলোকে নির্বাচন বিধি ও আচরণবিধি চূড়ান্ত করে তফসিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

পর্যায়ক্রমে বাকি ইউপির ভোট করতে হবে। এদিকে দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বিধিমালা সংশোধন করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। এ লক্ষ্যে একটি খসড়া বিধিমালা প্রস্তুতের কাজ চলছে। দু-একদিনের মধ্যে খসড়া বিধিমালা ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। ইসি সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে ৪ হাজার ৫৫৩টি ইউনিয়ন পরিষদের তালিকা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী নির্বাচন উপযোগী ইউনিয়ন পরিষদগুলো যাচাই-বাছাই চলছে। মঙ্গলবার এ নির্বাচনে বিধি-বিধান নিয়ে বৈঠক করেছে কমিশন। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী দলীয় প্রতীকে কেবলমাত্র চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন হবে। অন্য পদে নির্বাচন হবে নির্দলীয় ভিত্তিতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে নির্বাচন আচরণবিধি ও বিধিমালার খসড়া প্রস্তুতির কাজ শেষ করে কমিশন সভায় উত্থাপন করেছে।

শিগগিরই কমিশনের সভায় অনুমোদনের পর তা ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ বলেন, সংশোধনী আইনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে বিধিমালা সংশোধন করা হবে। এ সপ্তাহেই নির্বাচনী বিধি ও আচরণবিধির সংশোধনী ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। ইসি সূত্রে জানা গেছে, খসড়ায় নির্বাচন কমিশনাররা তাদের মতামত দিয়েছেন। ইসির খসড়ায় দেখা গেছে, চেয়ারম্যান পদে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারবে। তবে একটি ইউনিয়নে একজনের বেশি প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া যাবে না। দলীয় মনোনয়নের বাইরে প্রার্থী হলে তা স্বতন্ত্র হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়নের বিষয়টি এখনও অস্পষ্ট।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে যেসব শর্ত পূরণ করতে হয় সেগুলো এখনও চূড়ান্ত করতে পারেনি ইসি। ইসির উপসচিব পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা জানান, পৌর নির্বাচনের মতো ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। বিষয়টি নিয়ে কমিশনে আলোচনা হচ্ছে। এদিকে পৌর নির্বাচনের মতো ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মন্ত্রী-এমপিসহ ভিআইপিদের প্রচারণায় অংশগ্রহণের সুযোগ থাকছে না। খসড়া বিধিমালার ২(১৪) অনুচ্ছেদে ভিআইপিদের সংজ্ঞায় প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রী, চিফ হুইপ, ডেপুটি স্পিকার, বিরোধী দলীয় নেতা, সংসদ উপনেতা, বিরোধী দলীয় উপনেতা, প্রতিমন্ত্রী, হুইপ, হুইপ উপমন্ত্রী বা তাদের সমমর্যাদার কোনো ব্যক্তি, সংসদ সদস্য ও সিটি করপোরেশনের মেয়রকে রাখা হয়েছে।

তবে বিষয়টি নিয়ে একজন নির্বাচন কমিশনার দ্বিমত পোষণ করেছেন। নির্বাচন কমিশনার মো. আবু হাফিজ মতামত দিয়েছেন, ‘প্রস্তাবিত বিধিমালার ২(১৪) পরিবর্তনের সঙ্গে একমত নই। উল্লিখিত পজিশনগুলো সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে পজিশনে পরিবর্তন আসে। সিটি মেয়রের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হলেও পজিশন দল সংশ্লিষ্ট। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বলতে প্রেসিডেন্টসহ বিচারপতি, নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য আরও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ বোঝাবে।’ আরেক নির্বাচন কমিশনার মো. আবদুল মোবারক ভিআইপিদের মধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যানদের অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব করেছেন। ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং সর্বশেষ পৌরসভা নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের জন্য রাখা ‘অবমাননাকর’ প্রতীক বাদ দেয়া হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের লিখিত নির্দেশে নতুন করে ১০টি প্রতীক সংযুক্ত করা হয়েছে।

খসড়ায় সংরক্ষিত নারী আসনের প্রতীকে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে সংরক্ষিত নারী আসনের প্রতীকগুলো ছিল- কড়াই, গলার হার, চিরুনি, জবাফুল, নূপুর, পাউরুটি, পেনসিল কাটার, বিড়াল, বেগুন ও স্কুল ব্যাগ। এবার সংরক্ষিত আসনের সদস্যদের প্রতীক হিসেবে জন্য কলম, ক্যামেরা, তালগাছ, জিরাফ, বই, বক, মাইক, হেলিকপ্টার ও সূর্যমুখী ফুল রাখা হয়েছে। এছাড়া এতে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের কার্যক্রম, দলীয় প্রার্থীর মনোনয়ন দেয়ার বিধান, প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতা নির্ধারণ, নির্বাচনী ব্যয় ও উৎসের বিবরণীর ক্ষেত্রে নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এ মাসেই কমিশন সভায় অনুমোদন হলে আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের।

গত নভেম্বরে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন সংশোধন করে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে এবং সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্য পদে নির্দলীয় নির্বাচনের বিধান করা হয়। আগামী ৩১শে জানুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর হালনাগাদ তালিকা দিয়েই এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ফলে বিগত পৌর নির্বাচনে ভোট দিতে না পারলেও আগামী ইউপি নির্বাচনে অর্ধ কোটি নতুন ভোটার ভোট দেয়ার সুযোগ পাবেন। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৫০০ কোটি টাকা।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts