September 26, 2018

মানুষ বেঁচে আছে ঘাসের রুটি খেয়ে!

তামিলনাড়ু থেকেঃ ভারতে একদিকে প্রবল বন্যায় ডুবছে তামিলনাড়ু রাজ্য আরেকদিকে ভারতেরই আরেকটি রাজ্য উত্তরপ্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা পুড়ছে তীব্র খরায়। ওই এলাকার বহু গ্রামবাসী বেঁচে আছে শুকনো ঘাসের বীজ আর ঘাসের তৈরি রুটি খেয়ে। উত্তরপ্রদেশের ঝলসে যাওয়া এলাকা বুন্ডেলখণ্ডের এমন খবরই তুলে ধরেছে দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

এনডিটিভি জানিয়েছে, গত প্রায় এক মাস ধরে বিপর্যস্ত তামিলনাড়ুর দিকে ঘুরে আছে সংবাদমাধ্যম। এতে প্রায় অলক্ষ্যেই খরায় বিধ্বস্ত উত্তরপ্রদেশ। রাজ্যের ৭৫টি জেলার মধ্যে ৫০টিকে এরই মধ্যে খরাকবলিত বলে ঘোষণা করা হয়েছে। গত বুধবার এনডিটিভি এ রকমই একটি ক্ষরাপীড়িত জেলার গ্রাম বুন্ডেলখণ্ডের ললিতপুর জেলার লালওয়াড়ির চিত্র প্রচার করে।

জানা গেছে, পরপর তিন বছর পর্যাপ্ত ফসল ফলেনি এই গ্রামে। দুইবার অনাবৃষ্টি এবং মাঝের বছরে অকালবৃষ্টিতে করুণ অবস্থা দরিদ্র গ্রামবাসীর। কৃষিভিত্তিক এই গ্রামের অনেক মানুষ এখন কেবল মাঠের শুকনো ঘাস খেয়ে বেঁচে আছে। অন্য সময়ে যে ঘাস আর এর বীজ পশুখাদ্য, এখন সেই ঘাসের বীজ পাথরে পিষে মাখা হচ্ছে আটার মতো করে। তারপর এর সবুজ মণ্ডকেই রুটির মতো চেহারা দিয়ে চুলায় সেঁকে বা ভেজে গলধঃকরণ করতে হচ্ছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদক জানিয়েছেন, গ্রামবাসীর এখন আরেকটি খাবার নদীর ধারের সামাই ঘাস। সেটাকেই তুলে এনে পানি, তেল আর লবণ দিয়ে বানানো হচ্ছে তরকারি। এই ঘাস এবং ঘাসবীজের রুটি-সবজি খাচ্ছে গ্রামের শিশুরাও। যারা একটু ‘ধনী’ তাঁরা একটু লেবু চিপে বা আচার দিয়ে খাচ্ছে এই অখাদ্য। এনডিটিভির প্রতিবেদকের দাবি‚ এই খাবার অখাদ্যের চেয়েও খারাপ।

অর্থনীতিবিদদের মতে‚ এই দুর্ভিক্ষ যতটা না প্রাকৃতিক কারণে‚ তার চেয়ে বেশি মানুষের তৈরি। কারণ এই খরাকবলিত এলাকায় গত তিন বছর তীব্র খরা হলেও নেওয়া হয়নি কোনো প্রশাসনিক উদ্যোগ । বেশির ভাগ গ্রামবাসীরই নেই রেশন বা বিপিএল কার্ড। আর তাই অখাদ্য-কুখাদ্য খাওয়া ছাড়া আর গত্যন্তর নেই তাঁদের সামনে।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts