September 23, 2018

মানসিক জ্বর হতে পারে মাছেরও !

মাছ

বিরল পরিস্থিতিতে মাছের ‘মানসিক জ্বর’ হতে পারে, যাতে শরীরের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পায়। একে মাছের আবেগ ও চেতনার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করেছেন বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

মাছ নিয়ে যৌথভাবে গবেষণাটি সম্পাদন করেছে স্পেনের বার্সেলোনা বিশ্ববিদ্যালয় ও যুক্তরাজ্যের স্টারলিং অ্যান্ড ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়।

গবেষণার জন্য জেব্রাফিশ যাতে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি পড়ে, এমন পরিবেশ তৈরি করা হয়। এতে ওই মাছের শরীরের তাপমাত্রা ২-৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যায়।

এ প্রতিক্রিয়া মানসিক জ্বর নামে পরিচিত, যা কোনো প্রাণী অনুভব করলে তার প্রভাব ফুটে ওঠে মুখে। এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে স্তন্যপায়ী প্রাণী, পাখি ও বিশেষ ধরনের সরীসৃপের মধ্যে এ ধরনের মানসিক জ্বর দেখা গেছে।

গবেষণায় ৭২টি জেব্রাফিশকে সমান দুই ভাগে ভাগ করা হয়। বৃহৎ ট্যাংকে পরস্পর সংযুক্ত খুপরিতে মাছগুলোকে রাখা হয়, যেখানে তাপমাত্রা ছিল ১৮-৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। নিয়ন্ত্রিত মাছগুলোকে এমন জায়গায় ছেড়ে দেয়া হয়, যেখানে ছিল তাদের উপযোগী তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

মাছের আরেক দলকে নেটের মধ্যে রাখা হয়, যেখানে তাপমাত্রা ছিল প্রায় ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং তাদের জন্য কঠিন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়। পরে মুক্ত করে দিলে মাছগুলো উচ্চতাপমাত্রার দিকে ধাবিত হয়। এটাই মাছের মানসিক জ্বরের প্রমাণ বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

গবেষণার ফলাফল চমকপ্রদ উল্লেখ করে বার্সেলোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সোনিয়া রে বলেন, ‘মাছের মধ্যে প্রথমবারের মতো মানসিক জ্বরের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা তাদের চেতনার উপস্থিতি জানান দেয়।’

তবে এ গবেষণার ফল নিয়ে অনেকে সন্দেহ পোষণ করেছেন। তাদের মতে, যেহেতু মাছের মস্তিষ্কে সেরিব্রাল কর্টেক্স নেই, সেহেতু তাদের চেতনাও থাকতে পারে না।

Related posts