September 19, 2018

‘মানবতার মুক্তির জন্য শ্রী কৃষ্ণের অর্ভিভাব অপরিহার্য্য ছিল’

 

অজিত কুমার দাশ হিমুঃ বিশ্বময় যখন অনাচার-অবিচারে ভরে গিয়েছিল, ঠিক তখনই কংসের কারাগারে ভগবান শ্রী কৃষ্ণের অভিভাব ঘটে। তাই আজ শ্রী কৃষ্ণের দীক্ষায় দিক্ষিত হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে অশুভ শক্তিকে প্রতিহত করতে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে একত্রিত হতে আহবান জানান।

২৫ আগষ্ট বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় সারাবিশ্বের ন্যায় কক্সবাজারেও শ্রী শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমীর র‌্যালীর উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ আলী হোসেন এ আহবান জানান।

তিনি আরও বলেন, একজন কংস, একজন জরাসন্ধ কে ধ্বংসের জন্য শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে। শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব একটি শিক্ষণীয় ঘঠনা। সৎ ব্যক্তিদের পরিত্রাণ, দুস্কৃতিকারীর বিনাশ ও মঙ্গলময় জীবনের সংগঠন-ই শ্রীকৃষ্ণ তাৎপর্য।

জেলা জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ সভাপতি সাবেক মেয়র রাজবিহারী দাশ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত র‌্যালীত্তোর সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, জেলা পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ, অধ্যাপক সোমেশ্বর চক্রবর্তী, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এডভোকেট রনজিত দাশ, সাধারণ সম্পাদক বাবুল শর্মা, পৌর আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল কর, কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি এডভোকেট আমজাদ হোসেন, অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খৃীষ্টান ঐক্য পরিষদ জেলা সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক প্রিয়তোষ শর্মা চন্দন, জেলা জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ সাধারণ সম্পাদক সুনিল কান্তি দত্ত, সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সভাপতি দীপক দাশ, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট বাপ্পী শর্মা, খুরুশকুল ইউপি চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন, ধলঘাটা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল হাসান, র‌্যালীতে উপস্থিত ছিলেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আশীষ কান্তি ধর, হাসপাতাল সড়ক হিন্দু কমিউনিটি নেতা সুবির পাল, মধু দে, কনক দাশ, স্বপন দাশ প্রমুখ।

শ্রীকৃষ্ণের অভির্ভাব সম্পর্কে কক্সবাজারস্থ রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের পোরহিত পন্ডিত বিজয় কৃষ্ণ চক্রবার্তী বলেন, হিরণ্য কৈশিপু, শিশু পাল ও কংসদের মত অত্যাচারী রাজার তান্ডব যেন সমগ্র পৃথিবীকে পাপভরে ভারাক্রান্ত করিয়া তুলিল। মৃত ব্যক্তির কোন সৎকারের ব্যবস্থা ছিল না। অন্ধকার কূপে অথবা নদীর জলে নিক্ষেপ করিত। বিদেহী আত্মার ক্রন্দনে প্রেতপূরী ভয়াবহ রূপ ধারণ করিতে লাগিল। প্রতিটি জন্মই দানব ও রাক্ষস চরিত্রগত হয়ে পৃথিবী আরও অন্ধকার পুরীতে পরিণত হয়। নারী জাতিকে দাসী বৃত্তিতে বাধ্য করা হত। মুষ্টিমেয় সৎ মানব মানবীরা অসহায় পরিণতির জন্য কোন প্রকার উপাসনা বা প্রার্থনা করিতে পারিত না। নীরব ক্রন্দন ছাড়া কোন উপায় ছিল না। এই নীরব ক্রন্দন যেন মধু সূদনের কর্ণভেদ করিল। শ্রী ভগবান পৃথিবীকে পাপভার মুক্ত করিবার জন পৃথিবীতে সাধু সজ্জনদের প্রতি

দৈববাণী প্রেরণ করিলেন-

“যদা যদাহি ধর্ম্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারতঃ।
অভ্যহামধর্ম্মস্য তদাতনং সৃজামহ্যম ॥
পরিত্রানায় সাধূনাং বিনাশায়-চ দুষ্কৃতাম।
ধর্ম্ম সংস্থাপনার্থায় সম্ভাবামি যুগে যুগে ॥”

শ্রী শ্রী গীতা।
যখন ধম্মের উপর কোন গ্লানি আসে, অধর্ম্মের অভ্যুত্থান ঘঠে তখনই আমি সৎ ব্যক্তির পরিত্রাণের জন্য, দুষ্কর্ম্ম নাশের জন্য যুগে যুগে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হই। বসুদেবের মত সাধকের প্রার্থনা ছিল সমগ্র পৃথিবীকে পাপভারমুক্ত করা। এইরূপ সাধকের কাছে ভগবান প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হইলেন। তিনি দেবকীর অষ্টম গর্ভে জন্ম গ্রহণ করিবেন।

তিনি আরও বলেন, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি। অনেককাল পূর্বে দ্বাপর যুগে মথুরায় কংসের কারাগারে ভাদ্র মাসের কৃষ্ণ পক্ষের অষ্টমী তিথিতে বসুদেব দেবকীর সন্তানরূপে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আবির্ভূত হইয়াছিলেন। সেই আবির্ভাব তিথি জন্মাষ্টমী নামে হিন্দুধর্ম্মে একটি ধর্ম্মীয় অনুষ্ঠান বা উৎসব হিসাবে প্রতিপালিত হচ্ছে।

জন্মাষ্টমী উৎসবের তাৎপর্য সম্পর্কে ধর্মগ্রন্থ হতে জানা যায়, প্রায় পাঁচ হাজার বছরের অধিককাল আগে মথুরার উৎপীড়ক রাজা কংসের কারাগারে ভয়ংকর আতংকজনক এক পরিস্থিতিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটেছিল। জন্ম রহিত হলেও ভগবানের জন্ম হয়।
এদিকে জন্মাষ্টমীর উৎসবকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারের প্রশাসন ছিল কঠোর। নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ছিল লক্ষনীয়। উদ্ভোধনী অনুষ্ঠান শেষে জেলা জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে জেলার বিভিন্ন এলাকা হতে আগত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অংশগ্রহনের মাধ্যমে বর্ণাঢ্য র‌্যালী কক্সবাজার শহরের গোলদীঘির পাড় হতে শুরু হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে গোলদীঘির পাড়ে এসে শেষ হয়।

Related posts