November 15, 2018

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঠাকুরগাঁওয়ের গণমানুষের ডিসি আব্দুল আওয়ালের বদলি প্রত্যাহার করুন

FB_IMG_1519564693512

তানভীর হাসান তানু: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জানিনা এই চিঠি কোন দিন কোন কালে আপনার দৃষ্টিগোচর হবে কি না। তবুও লিখছি, কারন আপনার কাছে ঠাকুরাঁওয়ের গণমানুষের দাবীটা জানানোর একটা চেষ্টা তো অন্তত করেছি এটাই একজন মফস্বলের ক্ষুদ্র সংবাদকর্মী হিসেবে আমার জন্য সবচেয়ে বড় সান্তনা।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দেশের ২২ জন জেলা প্রশাসকের রদ-বদলের প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। সেই প্রজ্ঞাপনে ঠাকুরগাঁওয়ের গণমানুষের মানবিক ডিসি হিসেবে পরিচিত আব্দুল আওয়ালকেও যশোর জেলা প্রশাসক হিসেবে বদলির আদেশ জারি করা হয়েছে।

এই আদেশ জারির বার্তা শুনে ঠাকুগোঁওয়ের মানুষের হৃদয়ে ভাটা পেয়েছে। বদলির বার্তা শুনে শোকাহত হয়েছে জেলার সাধারণ মানুষ। জারিকৃত আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে ফুঁসে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ব্যবহারকারীরা। সকলে এই মানুষটিকে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নের ও মানবিকতার ধারা অব্যাহত রাখার জন্য আকুল আবেদন করছেন।

তাই অবশেষে বাধ্য হলাম “ঠাকুরগাঁওয়ের মানসিক শিক্ষক” হিসেবে পরিচিত ডিসি আব্দুল আওয়ালের কিছু মানবিক বিষয় গুলো আপনাকে জানানোর জন্য। আমি এটুকু অবগত আমার এই লেখনির আপনার কাছে পৌছেবে না আবার আপনি জারিকৃত প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার করবেন না। কারণ আপনি সিদ্ধান্ত নিতে কখনই ভুল করেন না। কিন্তু আপনি চাইলেই যে ঠাকুরগাঁওয়ে ডিসি আব্দুল আওয়ালের বদলি প্রত্যাহার করে জেলার ১৭ লক্ষ মানুষের হৃদয়ে জায়গাটুকু করে নিতে পারবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এই দেশ ক’দিন আগেও দেশ ছিল না। পাকিস্থানের একটি প্রদেশ ছিল মাত্র। আপনার বাবা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজের জীবন বাজি রেখে পাকিস্থানের সেই পূর্ব প্রদেশটিকে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট ‘বাংলাদেশ’ নামে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। উনার স্বপ্ন ছিল, সাড়ে সাত কোটি মানুষের স্বাধীনতা, শোষণ বঞ্চনা থেকে মুক্তি ও আত্মসম্মানের সহিত শান্তিতে বেঁচে থাকার অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। আল্লাহর অশেষ কৃপায় এক সাগর রক্ত ও লাখে লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে উনার সেই স্বপ্নের অর্ধেক পূরণও হয়েছিল। বাংলার সাড়ে সাত কোটি মানুষ শোষণ বঞ্চনা থেকে মুক্ত হয়ে পূর্ণ স্বাধীনতা পেয়েছিল। বিজয়ের পরবর্তী ধাপ হিসেবে তিনি সাড়ে সাত কোটি মানুষের সুখ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অবতীর্ণ হোন। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, সেই সংগ্রামের সফলতার মুখ দেখার আগেই এই দেশেরই স্বাধীনতা বিরোধী কিছু বেঈমান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। কিন্তু বাংলাদেশ গণমানুষের সেবার জন্য আল্লাহ আপনাকে বেঁচে রেখেছেন আমাদের মাঝে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, রাষ্টের মূলনীতি পরিবর্তন করে বঙ্গবন্ধুর ধর্ম নিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক স্বপ্নের সোনার বাংলাকেও ঘুরিয়ে দেয়া হয়েছিল উল্টো রথে। আমি সে দিকে আর নাই গেলাম। আজ আপনি বাংলাদেশের একজন সফল প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশের গন্ডি পেরিয়ে আজ আপনি বিশ্বনেতাদের শীর্ষস্থানে। আজ আপনি বিশ্বমানবতার কণ্ঠস্বর। বাংলাদেশের স্বপ্ন আশা সব কিছু আপনাকে ঘিরেই। আপনি বাঙালীর আশা-আকাংখার প্রতীক। আপনি বাংলাদেশের উন্নয়নের নেতা। দেশের প্রতিটি জেলায় আপনার উন্নয়নের ছোঁয়ায় আজ বাংলার মানুষ স্বপ্ন দেশ দেখছে আপনার পিতার সোনার বাংলাদেশ। সেই লক্ষ্যই তো আপনি গড়ে তুলেছেন ‘জনসেবার জন্য প্রশাসন’। আপনার ইতোমধ্যে পূরণের জন্য ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল কাজ করে চলেছেন নিরলস ভাবে। অল্প কিছুদিনের মধ্যে গণমানুষের মাঝে আপনার সোনার বাংলা গড়া বার্তা পৌঁছে দিতে পেরে হয়েছেন “মানবিক জেলা প্রশাসক” আব্দুল আওয়াল।

দেশের প্রতিটি জেলা প্রশাসনের অফিসে গেলেই বড় অক্ষরে লেখা থাকে ছন ‘জনসেবার জন্য প্রশাসন’। ঠাকুরাঁওয়েও এই লেখাটি ব্যতিক্রম নয়। মাঝে মধ্যেই ভাবতাম আসলেই কি ‘জনসেবার জন্য প্রশাসন’? সাধারণ মানুষ যখন অভিযোগ করে কোন কাজে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে গেলে হয়রানি স্বীকার হতে হয়। যা ছিল নিত্য দিনের ঘটনার মত। এক সময় সাধারণ মানুষ এটা স্বাভাবিক বিষয় বলে মনে করে নিয়েছিল ঠাকুরগাঁওয়ে।
কোন ভুক্তভোগী মানুষ সমস্যার কথা বলতে গেলে দেশের জেলা প্রশাসকের সাথে দেখা করতে গিয়ে কত যে হয়রানি স্বীকার হয়েছে তা শুধু ওই ভুক্তভোগী মানুষটিই জানেন।

ঠাকুরগাঁওয়ে গত ১০ বছরে কয়েকজন জেলা প্রশাসকের রদ-বদল হয়েছে। সেই সমেয়ে অনেক মানুষ জেলা প্রশাসকের কাছে সমস্যার কথা বলতে পেড়েছে, অনেকের সমাধানও হয়েছে। আর বেশির ভাগ ভুক্তভোগী মানুষ কথা বলার সুযোগ সৃষ্টি হয়নি বলেও অনেকের অভিযোগও রয়েছে।

সংবাদকর্মী হিসেবে যখন কোন ভুক্তভোগী মানুষের কথা শুনি মাঝে মাঝেই মনে হতো জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের ভবনের দু’তলায় সিঁড়ির উপরের বাক্যটি ‘জনসেবার জন্য প্রশাসন’ মনে হয় সত্য নয়!

কিন্তু ঠাকুরগাঁওয়ে এখন আমার কেন জানি মনে হচ্ছে আসলেই ‘জনসেবার জন্য প্রশাসন’। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উপরোক্ত কথা বলার কারণ গুলো হলো, বছর খানেক আগে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহন করে আব্দুল আওয়াল নামে একজন বিনয়ী ব্যক্তি। দায়িত্ব গ্রহনের পর প্রথমেই তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের সকল পেশাজীবি মানুষের সাথে মত বিনিময় সভা করেন। ঠাকুরগাঁওয়ে সমস্যা, সম্ভাবনা, উন্নয়নসহ বিধিত বিষয় নিয়ে পরামর্শ নেন।

একজন সংবাদকর্মী হিসেবে কোন এক মতবিনিময় সভায় আমারো উপস্থিত থাকার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। ওই সভায় সংবাদকর্মী হিসেবে বক্তব্যে“এইটুকুই বলেছিলাম স্যার মাঝে মধ্যে আপনাকে একটু সাক্ষাতকারের জন্য বিরক্ত করবো, সেই সুযোগটি দিয়েন”। উনি বলেছিলেন, আমার দরজা সকল মানুষের জন্য খোলা। কথাটি শুনে মনে মনে হাসি পাচ্ছিলো! কারণ এর আগেও অনেক ডিসি সাহেব বলেছিলেন এমন কথা।
তারপর পর থেকে জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল ঠাকুরগাঁওয়ের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন শুরু করেন। কিছুদিনের মধ্যেই ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের প্রেমে পরে যান “যেটি তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিজ ফেসবুকে মত প্রকাশ করেছেন।” তারপর তিনি ঠাকুরগাঁওয়ে উন্নয়ন, সম্ভাবনা, সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ শুরু করেন। সাপ্তাহিক ছুটির দিন যে কোন স্কুলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাসও নেন। এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে জেলায় সাধারণ মানুষের মাঝে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন তিনি।

ঠাকুরগাঁওয়ের কোন মানুষ যখন সমস্যার কথা গুলো বলার জন্য জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়ালের কাছে যান, এখন আর ফিরে এসে বলেন না “ডিসি সাহেবের সাথে দেখা করতে পারলাম না”। বর্তমানে কারো কাছে জানতে চাইলেই বলেন ডিসি সাহেবের মত ভাল, নম্র, ভদ্র, বিনয়ী, নির্ভীক, সৎ মানুষ এ জেলা কখনো দেখিনি। যা দেশের অন্য জেলা প্রশাসক বা সরকারি উদ্বতন কর্মকর্তা করেন কি না আমার জানা নেই ?

আব্দুল আওয়াল ঠাকুরগাঁওয়ে দায়িত্ব গ্রহন করার পর জেলায় বড় কোন ঘটনা, হত্যা, সড়ক দূর্ঘটনাসহ বিভিন্ন সমস্যার সমুক্ষিন হলে তাৎক্ষনিক উনার উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। যা বিগত সময়ে কোন প্রশাসনের বড় কর্মকর্তাদের চোখে পড়েনি। কোন ঘটনায় যখন জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল ছুটে যান তখন সাধারণ মানুষও অবাক হয়ে বলেন, কেমন ডিসি উনি একটু সমস্যা হলেই সবখানে। এর আগে তো কাউকে এমন ভূমিকায় দেখিনি কখনো।

গত বছরের ১১ আগষ্ট ঠাকুরগাঁওয়ে হঠাৎ প্রবল বর্ষণের কারণে বন্যায় প্লাবিত হয় ঠাকুরগাঁও পৌর শহরসহ বিভিন্ন উপজেলায় কয়েক শতাধিক এলাকা। প্রবল বর্ষনের কথা শুনে তাৎক্ষনিক শহরের যে সকল নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়। সেইসব পরিবারের কাছে ছুটে যান তিনি। নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য পরামর্শ দেন, অনেকে কথা শুনে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান তখনই। আবার অনেকেই বাড়ির প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে রাজি হয়নি। সেইদিন রাত ৩ টা পর্যন্ত বন্যায় প্লাবিত মানুষের পাশে গিয়ে থাকার আশ্রয় ও সাহস জাগিয়েছিলেন তিনি।

কিন্তু রাত ভোর প্রবল বর্ষনে ঘর থেকে আশ্রয় কেন্দ্রে না আসা ৩ শতাধিক মানুষ বিপদে পড়ে যান। পানিবন্দী ঘরের মধ্যে থেকে যান।
১২ আগষ্ট ভোর থেকেই জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল নিজেই প্লাবিত এলাকা থেকে মানুষ উদ্ধার কাজে লেগে পড়েন। তাঃক্ষনিক ভাবে ফায়ার সার্ভিস ও সাধারণ মানুষ জেলা প্রশাসকের সাথে বন্যায় কবলিত মানুষকে উদ্ধার করতে শুরু করেন। দুপুরের পড়েই হঠাৎ আবারো পানির স্রোত বাড়তে শুরু করে তখন। এর প্রায় দুই শতাধিক মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও উদ্ধার কাছে অংশগ্রহন কারী সাধারণ মানুষ।
ঠাকুরগাঁওয়ে এর আগেও এমন প্রাকৃতিক দূর্যোগের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু প্রশাসনিক তৎপরতা এবারের মত কখনোই লক্ষ্য করা যায়নি বলে সাধারণ মানুষ অভিমত প্রকাশ করেছেন।

গত বছরের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের পাশে সরকার রয়েছেন বলে তাদের অনুপ্রাণিত করতে কৃষকের সাথে তিনি নিজেই কাঁদা মাখা ক্ষেতে ধানের চারা রোপন করেছেন। কৃষকের সাথে কাঁদা মাটিতে জেলা প্রশাসক ধানের চারা রোপন করার এলাকার সাধারণ কৃষক অবাক হয়েছেন।

ছেলের বউয়ের কাছে ভাত চেয়েছিলেন ঠাকুরগাঁও হরিপুর উপজেলার ডাঙ্গীপাড়া গ্রামের শতর্বষী তসলিমা খাতুন। এ কথা ছেলে দবির উদ্দিন জানতে পেরে লাঠি দিয়ে মাকে মারধর করেন। লাঠির আঘাতে তসলিমার বাম চোখ থেঁতলে যায়। পরদিন সকালে জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল ওই ‘মা’ কে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। দীর্ঘ চলিøশ দিন চিকিৎসার পর সুস্থ করে আবার বাড়িতে পৌছে দেন তিনি। এ সময় বৃদ্ধা মায়ের জন্য নিজস্ব তহবিল থেকে একটি বাড়ি নির্মান করেন দেন ডিসি আব্দুল আওয়াল।

সম্প্রতি বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার নির্জন মাঠে ভরদূপুরে মানসিক ভারসাম্যহীন অজ্ঞাত এক নারী যমজ সন্তানের জন্ম দিলেন। দুটি শিশুর মধ্যে একজনের নিথর দেহ পড়ে রয়েছে মায়ের পাশে। আরেকজন চিৎকার করে কান্না করছে। শিশু দুটির পাশে রক্তাক্ত শরীর নিয়ে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে রয়েছে তাদের মা। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসক জীবিত শিশুটিকে বাঁচাতে তৎপর হয়ে উঠেন এবং ইউএনওকে দ্রুত শিশুটি ও তার মাকে সদর হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জেলা শহর থেকে ঘটনাস্থলের দূরত্ব প্রায় ২২ কিলোমিটার এবং শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক ভেবে সিভিল সার্জনকে নিজের গাড়িতে তুলে নেন এবং একটি অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ঘটনাস্থলের দিকে রওয়ানা দেন জেলা প্রশাসক। পরে হাসপাতালে ভর্তি করে মা ও শিশুর জীবন বাঁচান তিনি।

দেশের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা যদি আন্তরিক ভাবে সকল সমস্যা ও প্রাকৃতিক দূযোর্গে এভাবেই এগিয়ে আসেন তাহলে দেশে যেন কোন দূর্ঘটনা থেকে সাধারণ মানুষ অনেকাংশে মুক্তি পাবে আমার মতে।
কিন্তু আমার দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রভাবের কারণে সরকারি কর্মকর্তারা নানা রকম অনিয়নের পথে পা বাড়ানোর জন্য দায়ী। আমলাদের মনের মধ্যে জনসেবা করার ইচ্ছে থাকলেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে নানা ভাবে বাঁধার মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।

এই রাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশের আমলাদের টার্গেট দায়িত্ব পালন নয়, বরং কর্তৃপক্ষকে তুষ্ঠ রেখে সুবিধামত লোভনীয় পোস্টিং ও প্রমোশন হাসিল করে অর্থ বিত্তের মালিক ও রাজধানীতে বাড়ি-গাড়ির মালিক বনে যাওয়া। বিসিএস ক্যাডার সার্ভিসের আমলাদের প্রমোশন এখন সিনিয়রইটি বা যোগ্যতার ভিত্তিতে হয় না বরং তাদেরই প্রমোশন ও লোভনীয় পোস্টিং হয় যারা ন্যায়-অন্যায়, বিচার-বিশ্লেষণ না করে ক্ষমতাসীনদের তুষ্ঠ রাখতে পারে।

আসুন না স্বচ্ছ রাজনৈতিক ও আমলাদের সঠিক দায়িত্ব পালনে সকলে একযোগে কাজ করি। দেখবেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর “সোনার বাংলা” গড়তে বেশিদিন সময় লাগবে না। আমার বিশ্বাস আমার দেশ একদিন “সোনার বাংলাদেশ” হিসেবে বিশ্বে মানচিত্রে স্থান লাভ করবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সেজন্য ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়ালের বদলির জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে নামটি প্রত্যাহার করে মানবিক মানুষটিকে জেলা গনমানুষের জন্য আর কিছুদিন কাজ করা সুযোগ দিন। আপনার একটু আন্তরিকতায় দেশের সকল সরকারি কর্মকর্তাদের যদি জনগনের জন্য কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হয় তাহলে আপনার পিতার স্বপ্ন একটি সুন্দর রাষ্ট্র, সোনার বাংলা গড়তে সময়ের ব্যাপার মাত্র।
দেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাচ্ছে দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই শ্লোগানের সাথে ঠঅকুরগাঁওবাসী শতভাগ একমত, কারণ দেশে প্রযুক্তির উন্নয়ন হচ্ছে। বিদ্যুৎ আজ দেশের ঘরে ঘরে প্রায় পৌঁছেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে এবং হচ্ছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ ও ডিজিটাল সুবিধা পাচ্ছে। আজ ডিজিটালের ছোঁয়ায় ঘরে বসেই মোবাইলের মাধ্যমে সেই কাজটি করতে পারছে শিক্ষার্থীরা। দেশে শিল্পায়নের উন্নয়ন হচ্ছে, যার ফলে কর্মসংস্থান বাড়ছে এবং দারিদ্র্য বিমোচন হচ্ছে। তা ছাড়া যুব উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে যুব কর্মসংস্থান হচ্ছে। এক কথায় প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে। তাই আপনার উন্নয়নের গতি অব্যাহত রাখার জন্য ঠাকুরগাঁও জেলার মানুষের দাবিটি আপনিই একমাত্র পূরণ করতে পারেন মানবিক মানুষটির বদলি প্রত্যাহার করে।

পরিশেষে এটুকুই বলি, এমন জেলা প্রশাসক ঠাকুরগাঁওবাসী আর কোনো জনমে পাবে কীনা জানি না? তবে উনার চলে যাওয়ার দিন ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের কান্নায় আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠবে।

তানভীর হাসান তানু
গণমাধ্যমকর্মী, ঠাকুরগাঁও।
০১৭৫৫৫৩৭৩৬১

Related posts