November 18, 2018

মাদারীপুর সদরে চলছে ৬ষ্ঠদিনের কর্মবিরতি; চরম ভোগান্তিতে রোগিরা

Madaripur 27-04-16 (Doctors work abstention continues for six days)অজয় কুন্ডু, মাদারীপুর প্রতিনিধি: মদারীপুর সদর হাসপাতালে চলছে ছষ্ঠ দিনের কর্মবিরতি। কবে নাগাদ কার্যক্রম সাবেক আকারে ফিরে আসবে তার সু-নিদিষ্ট খবর যেন কারও কাছে নেই। ডাক্তারদের প্রশ্ন করলেই একই উত্তর আমাদের দাবী না মানলে সদর হাসপাতালের কার্যক্রম কোনমতেই শুরু হবে না। আর এর পরিপেক্ষিতে অসহায় রোগিরা পড়েছে চরম ভোগান্তিতে। তাদের আশা কবে শুরু হবে সদর হাসপাতালের কর্যক্রম।
গত শুক্রবার থেকে অবহেলায় রোগি মৃত্যুর অভিযোগে চিকিৎসকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে কর্মবিরতি অব্যাহত রেখেছেন চিকিৎসকরা।
আজ বুধবার মাদারীপুর সদর হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, হাসপাতালের বহির্বিভাগ বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে টিকিট কাউন্টার, বিনা মূল্যে ঔষধ বিতরণের কেন্দ্রসহ চিকিৎসকদের কক্ষও। তবে পরোনো ভর্তিকৃত রোগিদের চিকিৎসা চলছে। জরুরী বিভাগে সীমিত পরিসরে গুরুতর রোগিদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
Madaripur 27-04-16 (Doctors work abstention continues for six days)

হাসপাতালে অসহায় রোগীদের আনাগোনা খুব কম। গত পাঁচদিন সদরে এসে অধিকাংশ রোগিরা ফিরে গেছেন। আবশেষে অসহায় গরীব দিন-মজুরীদের উপায় না পেয়ে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হয়ে যেতে হয়েছে শহরের নামী-দামী বেসকারী হাসপাতলগুলোতে। ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবা নিতে অসহায়দের দিগুন পরিসরে টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে।
সদর হাসপাতালের বুধবার বেলা ১২টায় সদর উপজেলার খাগদী গ্রামের এক মা রোকসানা আক্তার তার অসুস্থ্য সন্তানকে চিকিৎসা সেবা দিতে এসেছিলেন বহির্বিভাগে। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি ভেবেছি আমার অসহায়ের কথা ডাক্তারদের বললে তারা হয়তো আমার ছেলেকে ভর্তি নিবে। কিন্তু আমি ভাবতেই পারিনি তারা আমাকে এভাবে ফিরিয়ে দেবে। আমাকে তারা অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিল। আর কোন অনুরোধই তারা শুনলো না।
মাদারীপুরের সিভিল সার্জন ডা. দিলীপ কুমার দাস বলেন, ‘চিকিৎসকদের চিকিৎসকে লাঞ্ছিত কার অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। তিনি এ বিষয় আরও বলেন, আমাদের বহির্বিভাগ বন্ধ রয়েছে। আগামী শুক্রবার এর মধ্যে দোষিরা গ্রেফতার না হলে উপরস্ত মহলের সাথে আলোচনা সভা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দাবী পূরণ করলেই ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হবে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার ভোরে মাদারীপুর শহরের কলেজ রোড এলাকার লাল মিয়া শিকদারের স্ত্রী রেনু বেগমকে গুরুতর অসুস্থ্য অবস্থায় নিয়ে আসে হাসপাতালে। এসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মাইনুল রোগিকে ব্যবস্থাপত্র দেন। এরপর কিছুসময় পর রোগি মারা যায়। এসময় চিকিৎসকে মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে দাবী চিকিৎসকের। শুক্রবার ভোরে এই রোগির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দোষিদের গ্রেফতারের দাবী জানিয়ে শুক্রবার সকাল থেকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেয় চিকিৎসকরা।

Related posts