September 26, 2018

মাদাগাস্কারের অদ্ভূত সব জীবজন্তু!

হলিউডের এনিমেশন মুভি মাদাগাস্কার সিক্যুয়াল যারা দেখেছেন তারা ইতিমধ্যে মাদাগাস্কার সম্পর্কে জেনে গেছেন। ২০০৫ সালে মুক্তি পেয়েছিল এই সিরিজের প্রথম মুভি মাদাগাস্কার ওয়ান। চার বন্ধু জিরাফ, সিংহ, পেঙ্গুইন আর জেব্রার নিউইয়র্কের এক চিড়িয়াখানা থেকে পালানো নিয়ে গড়ে ওঠেছিল এই ছবির কাহিনী। এটি ব্যবসাসফল হওয়ায় একে একে নির্মিত হয়েছে মাদাগাস্কার টু আফ্রিকা (২০০৮) ও মাদাগাস্কার থ্রি মোস্ট ওয়ান্টেড ইউরোপ (২০১২)। এখন চলছে চতুর্থ সিক্যুয়ালের কাজ। সে যাক। ছবিতে অদ্ভূত সব জীবজন্তু দেখতে পেয়েছেন দর্শকরা। কিন্তু জেনে অবাক হবেন, এদের অনেকগুলো কিন্তু বাস্তবেও রয়েছে। এদের দেখা মিলবে আফ্রিকার দক্ষিণ পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলের দেশ মাদাগাস্কারেই। টমোটে ব্যাঙ, উড়ন্ত শেয়াল, নীল কাউয়া, সূচালো ঠোটের সাপ এসবই রয়েছে এ দেশে। মাদাগাস্কারের বিচিত্র সব জীবজন্তু নিয়েই আমাদের এ আয়োজন।

সরু মুখের বেজি

এরা কিন্তু আমাদের দেশের বেজিদের মত নাদাস নুদুস হয়না। দেখতে অনেকটা কাঠবেড়ালির মতই হালকা পাতলা। এর রয়েছে লম্বা সরু ঠোট। যে কারণে এদের নাম ন্যারো স্ট্রাইপ মংগুজ বা সরু মুখের বেজি। কি বলছেন কাঠবেড়ালির সঙ্গে এদের পার্থক্য কি? কাঠবেড়ালির মত এরা তৃণভোজী নয়। এদের পছন্দ কাচা মাংস।

পিল পোকা

অসংখ্য পাওয়ালা এই পোকাটি দেখতে আমাদের দেশের কেন্নোর মত। বিপদ দেখলে এরা নিজেদের গুটিয়ে ফেলে। তখন পোকাটিকে দেখতে লাগে বলের মত। এর শরীরের দুটি সারিতে রয়েছে অসংখ্য পা। ছোট বড় নানা আকারের হতে পারে। কমলা লেবুর সাইজের পিলপোকাও আছে। পিল মিলিপেড পোকাদের বাস মাদাগাস্কারের জঙ্গলে।

সুচালো নাকের সাপ

আপনি কি সাপ ভয় পান? তাহলে আর মাদাগাস্কারে যেয়ে কাজ নেই। কেননা এখানে রয়েছে নানা জাতের সাপ। তবে সুখের কথা হচ্ছে এদের কোনোটাই তেমন বিষাক্ত নয় তবে দেখতে বেশ অদ্ভূত। এরকমই এক বিচিত্র জাতের হচ্ছে সুচালো নাকওয়ালা সাপ। ইংরেজিতে যাকে বলে স্পেয়ার নোজড স্ন্যাক। এ সাপের মাথাটি অনেকটা পাতার মত দেখতে বলে এর আর এক নাম মালাগাসি লিফ নোজ স্ন্যাক। শুকনো কিংবা রেইন ফরেস্ট দু ধরনের জঙ্গলেই এর দেখা মিলবে। লম্বায় দেড় থেকে দু ফুট লম্বা হয়ে থাকে। শান্ত জাতে এ সাপটি গাছের ডালে ঝুলে থাকতেই বেশি পছন্দ করে। বিরক্ত না হলে এরা কাউকে কামড়ায় না।

উড়ন্ত শেয়াল

কি ভাবছেন, এই শেয়াল কি সত্যি সত্যিই উড়তে পারে! হুম, তাহলে তো এদের আস্ত দুখানা ডানা থাকতে হবে! কিন্তু যা ভাবছেন তা নয়। এটি আসলে বাদুর। যদিও সাধারণ বাদুর নয়-আকারে অনেক বড়। উড়ন্ত অবস্থায় দেখতে অনেকটা শেয়ালের মত হয় বলেই এর নাম ফ্লায়িং ফক্স বা উড়ন্ত শেয়াল।

টমেটো ব্যাঙ

মনে করে দেখুন তো শেষবার কবে আপনি টমোটো ব্যাঙ দেখেছেন? না, আপনি কখনোই দেখেননি। কেননা এর বাস মাদাগাস্কারের গভীর জঙ্গলে। দেখতে লাল হয় এবং সবসময় ফুলে থাকে বলেই এর নাম টমেটো ব্যাঙ। তবে ছোটবেলায় দেখতে এরা অত লাল থাকে না। তখন খানিকটা হলুদ মত দেখতে হয়। যত বয়স হতে থাকে ততই বাড়তে থাকে রঙের জেল্লা। এদের পেটের দিকটা বেশি লাল হয়। কিছু কিছু টমেটো ব্যাঙের গলায় কালো ছোপ দেখা যায়। এ জাতের ব্যাঙরা ৬ থেকে ৮ বছর পর্যন্ত বাঁচে। পুরুষদের চেয়ে মাদী ব্যাংঙগুলো চার ইঞ্চি বেশি লম্বা হয়ে থাকে। সাধারণত পুরুষগুলো ২ থেকে ৩ ইঞ্চি এবং নারী ব্যাঙগুলো চার ইঞ্চি লম্বা হয়। স্বাভাবিক কারণেই পুরুষদের তুলনায় নারী ব্যাঙগুলো বেশি লাল হয়ে থাকে।

ব্লু কাউয়া

এরা কিন্তু দেখতে মোটেও কাকের মত নয়। তবুও এর নাম নীল কাউয়া হল কেন আমি নিজেও তা বুঝতে পারছি না। সুদর্শন এ পাখির লেজের দিকটা বরং অনেকটা ফিঙে পাখির মত। আপনি যদি বার্ড ওয়াচার হন তবে অবশ্যই ব্লু বা নীল কাউয়া দেখতে মাদাগাস্কার ছুটে যেতে চাইবেন। কেননা বিশ্বের অন্য কোনো অঞ্চলে এদের দেখা মিলবে না। কোকিল গোত্রের এ পাখিটির বাস দেশটির উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে। ৪৮-৫০ সেন্টিমিটার অব্দি লম্বা হয়ে থাকে। তবে মেয়ে পাখিগুলো একটু বেশিই লম্বা হয়।

কমেট মথ

বিশ্বের সবচেয়ে বিরক্তিকর পতঙ্গ হচ্ছে কমেট মথ। এরা আলো খুব পছন্দ করে। তাই তো আমাদের চারপাশে এসে ভিড় জমায়, বিরক্ত করে। মাদাগাস্কারের এই পতঙ্গটি আট ইঞ্চি পর্যন্ত লম্ব হয়ে থাকে। বর্ণিল রংয়ের এই মথটি ঝাঁক বেঁধে উড়তে পছন্দ করে। আর ধূমকেতুর মত দেখতে বলেই এর নাম কমেট মথ।

ব্রুকেশিয়া চ্যামেলন

ক্ষুদ্রাকৃতির লেমুরের মত ছোট আকারের সরীসৃপের জন্যও প্রসিদ্ধ মাদাগাস্কারের খ্যাতি আছে। কুমির জাতীয় এ সরীসৃপের নাম ব্রুকেশিয়া চ্যামেলন। মাত্র এক ইঞ্চি লম্বা হয়ে থাকে এই প্রাণিটি। এটি বিশ্বের সবচাইতে ছোট সরীসৃপ। সাধারণত: এরা বাদামি রংয়ের হয়ে থাকে। তবে এদের স্বক্ষে দেখতে পাওয়া অত সহজ নয়। কেননা এরা থাকে দুর্ভেদ্য জঙ্গলে যেখানে যাওয়া বেশ কষ্টসাধ্য।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/মেহেদী/ডেরি

Related posts