November 15, 2018

মাদকের আগ্রাসন প্রতিরোধে আশা জাগাচ্ছেন চাঁদপুর পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার পিপিএম

DSCN1510এ কে আজাদ,চাঁদপুর : পত্রিকার পাতা অথবা টিভি খুললেই আজকাল অহরহ দেখা যায় মাদকাসক্ত ছেলের হাতে মা- বাবা খুন মাদক নিয়ে খুনাখুনিসহ ঘৃন্য-বর্বর নানা খবর। অথচ এই ছেলেকে নিয়ে বাবা- মা কতই না স্বপ্ন দেখতো। এ জাতীয় খবরগুলো মানুষের কাছে এখন অনেকটাই গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে। কেউ কেউ পড়ে একটু দীর্ঘশ্বাস ফেলে, কেউ বা এড়িয়ে যায় এসব সংবাদগুলো,ক্রমেই সমাজও যেন এসব খবরকে মেনে নিতে শুরু করেছে। কিন্তু নেশার এই মরনদণ ছোবল থেকে সমাজ, বিশেষতঃ যুব সমাজকে বাঁচানোর দ্বায় আমাদের সবার।অথচ আমরাও যেন দেখেও না দেখার ভান করে এড়িয়ে যাই, যেন অসাহয়ত্বের কাছে আত্মসমর্পনকারীর ভূমিকায় অবতির্ণহই। অথছ এই মাদক সুক্ষ্ম চুপিসারে পথভ্রষ্ট করে দিচ্ছে আমাদের আগামীর পথ চলার ভবিশ^তের তরুণ সমাজকে,ক্রমেই অধঃপতন আর ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে তাদের। সারা দেশে আগামীর ভবিশ^তরা যখন মাদকের আগ্রাসনে ধ্বংসের দিকে ধাবিত ঠিক সেই মূহুর্তে, চাঁদপুরে মাদকের আগ্রাসন প্রতিরোধে আশা জাগাচ্ছেন চাঁদপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার পিপিএম। সদাহাস্যজ্জল পুলিশ সুপার শামসুন্নাহর চাঁদপুরে যোগদানের পর থেকে মাদক, সন্ত্রস,জঙ্গিবাদসহ বাল্যবিবাহমুক্ত করতে জেলার একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছেন। আর এর ফল পেতে শুরু করেছে চাঁদপুরের জনগন। অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। কোথাও কোন মাদকের ব্যবসা কিংবা সেবনের খবর পাওয়া মাত্রই তিনি কখনো একা কখনোবা পুলিশ সদস্যদের নিয়ে হানা দিচ্ছেন সেই সব জায়গা গুলোতে। শুধু তাই নয়, জেলার প্রতিটা উপজেলায়-উপজেলায় প্রামে গঞ্জে জেলাশহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে মাদক বিরোধী সাইনবোর্ড, ব্যানার- ফেষ্টুন স্থাপন করেছেন তিনি। কমিউনিটি পুলিশিংএর মাধ্যমে পাড়া,মহল্লায় দিন-রাত পাহাড়া বসিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রনের চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রায় প্রতিদিনই স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী,সাংস্কৃতিক কর্মী, স্কাউট সদস্যদের সাথেনিয়ে নিজে তাদের সাথে কাঁধে-কাঁধ মিলিয়ে পুলিশের ভ্যানেকরে মাদক, সন্ত্রাস,জঙ্গিবাদসহ বাল্যবিবাহমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য জেলার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছেন। সুধু তাই নয় স্কুল-কলেজ মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাস,জঙ্গিবাদ বাল্যবিবাহ ও মাদকের কুফলের উপর শিক্ষার্থীদের সচেতন করে তোলার জন্য, সভা

chandpur pic-1

সমাবেশ,সেমিনার,সিস্পোজিয়াম করে যাচ্ছেন অনবরত।
কোথাও শিল্পিদের গানের মাধ্যমে,কোধাও নাটিকার মাধ্যমে আবার কোধাও কোথাও শিশুদের আবৃত্তি ও বক্তব্যের মাধ্যমে মাদকের বিরুদ্ধে প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাট-বাজার,পাড়া,মহল্লা, অলি,গলি, যেখানেই লোক সমাগম একটু বেশী দেখছেন সেখানেই গাড়ীটি থামিয়ে প্রচারনা শুরুকরে দেন তিনি। হঠাৎ রাস্তায় গাড়ী থামিয়ে রিস্কা চালক,ভ্যান চালক,অটো চালক সবার সাথে মিশেযান তিনি। নারী,শিশু,বৃদ্ধা নির্যাতনের খবর যেখানেই শুনছেন সেখানেই ছুটে চলেন তিনি। সাধারন মানুষ এসপি শামসুন্নাহারকে কাছে পেয়ে মনের নাবলা কথাগুলো মন খুলে বলে ফেলেন। এযেন অ-সাধারনের মাঝে সাধারনকে খুঁজে পান মানুষ ।
নিজ সন্তানসহ পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশী কেউ মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়লে তাকে ভয়াবহ এ নেশা থেকে ফিরিয়ে আনতে সমাজের প্রত্যেককে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। এই সচেতনতা টুকু সমাজের মাঝে চড়িয়ে দিতে দিন রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তিনি। লক্ষ একটাই আগামী দিনের দেশের চালিকা শক্তি যুব সমাজকে মাদকের কড়াল গ্রাস থেকে রক্ষাকরা।
এ বিসয়ে পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার পিপিএম’এর সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন, মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি। বিভিন্ন কারণে এদেশের ছাত্র, তরুন ও যুব সমাজ মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়ছে। যারা আগামীতে দেশের উন্নয়নে নেতৃত্ব দেবে তারা যদি মাদকাসক্ত ও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পরে তাহলে দেশের কাংক্ষিত উন্নয়ন কখনো সম্ভব নয়। আপনার আমার সন্তান কিংবা পরিবারের কোন সদস্য, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশী মাদকে জড়িয়ে পড়লে তাকে ভয়াবহ এ নেশা থেকে ফিরিয়ে আনতে সমাজের প্রত্যেকটি মানুষের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।
মাদক প্রতিরোধে প্রথমেই পরিবার থেকে আন্দোলন শুরু করতে হবে, তাহলে সমাজ ও দেশটাকে মাদকমুক্ত করা যাবে অন্যথায় আমরা আবারো পিছিয়ে যাব হাজার বছর। আমাদের সকলের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এই প্রয়াসটুকু সৃষ্টির মাধ্যমে সমাজে কিছুটা পরিবর্তন আনতে পাড়লেও হয়তো আগামীদিনের দেশের কর্ণধার যুব সমাজকে মাদক থেকে দূরেরেখে দেশের উন্নয়নের এই ধারাকে অব্যহত রাখতে পারবো আমরা। কারন দেশটাতো আমাদের সকলেরই তাই লক্ষ একটাই আগামী দিনের দেশের চালিকা শক্তি যুব সমাজকে মাদকের কড়াল গ্রাস থেকে রক্ষাকর।

Related posts