September 22, 2018

মাটি খুঁড়ে ফেরাউনের ভাস্কর্য উদ্ধার

3c240

মাটি খুঁড়ে পাওয়া গেছে প্রাচীন মিশরের শাসক ফেরাউনের ভাস্কর্য। মিশরের রাজধানী কায়রোতে মাটি খুঁড়ে দুটি ভাস্কর্য উদ্ধার করা হয়েছে। প্রত্নতাত্ত্বিকরা জানিয়েছেন ভাস্কর্য দুটি খ্রিস্টপূর্ব এক হাজার বছর পূর্বের। বর্তমান সময় থেকে তিন হাজার বছরের পুরনো এ ভাস্কর্যটি যেখানে পাওয়া গেছে সে স্থানে প্রাচীন মিশরের হেলিওপোলিস শহরের রাজধানী ছিল বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার কায়রোর মাত্তারিয়া জেলা থেকে ভাস্কর্যগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। জার্মানি ও মিশর পরিচালিত যৌথ এক প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানে ওই ভাস্কর্য দুটি উদ্ধার করা হয়। অনুসন্ধানে অংশ নেয়া মিশরীয় দলের প্রধান আয়মান আসমায়ি জানান, ভাস্কর্য দুটি প্রাচীন হেলিওপোলিস শহরের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। শহরের অনেক বাসিন্দা এর পূজা করত এবং এই ভাস্কর্যটিকে প্রাচীন মিশরীয়দের সূর্য দেবতা হিসেবে তারা বিশ্বাস করত। অনুসন্ধানে অংশ নেয়া জার্মান দলপ্রধান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা পুরো মূর্তিটি মাটির নিচ থেকে তোলার চেষ্টা করছি। এর পর এটি অন্য জায়গায় নিয়ে সংস্কার করা হবে।’

ভাস্কর্যগুলোর একটি উদ্ধার করা হয়েছে প্রাচীন মিশরের শাসক দ্বিতীয় রামসেসের মন্দিরে প্রবেশদ্বারের সামনে থেকে। আট মিটার উচ্চতার এই ভাস্কর্যটি কোয়ার্টজ পাথর দিয়ে খোদাই করা। অনেক পুরনো হওয়ায় ভাস্কর্যটি কার তা শতভাগ নিশ্চিত হতে পারেননি বিশেষজ্ঞরা। তবে এটি দ্বিতীয় রামসেসের আদলে তৈরি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চুনাপাথর দিয়ে তৈরি অপর ভাস্কর্যটি সেতি-২-এর। মিশরের ১৯তম রাজবংশের সময়ে এ ভাস্কর্যটি তৈরি করা হয়েছে বলে ধারণা করছে প্রত্নতাত্ত্বিকরা। ইতিহাস থেকে জানা গেছে, ১৯তম রাজবংশ ১৩১৪ খ্রিস্টপূর্ব থেকে ১২০০ খ্রিস্টপূর্বের মধ্যকার সময়ে মিশরকে শাসন করেছে। দ্বিতীয় রামসেস ৬৬ বছর সেখানকার শাসক ছিলেন। তিনি খ্রিস্টপূর্ব ১২৭৯ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ১২১৩ পর্যন্ত মিশরকে শাসন করেছেন।

উল্লেখ্য, ফেরাউনের লাশ বর্তমানে মিশরের একটি জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। প্রতি বছর অসংখ্য পর্যটক তার লাশ দেখতে মিশরে ভীড় করে থাকেন।

Related posts