November 19, 2018

মাকে দেশে ফিরতে দিছেন না তারেক !

                                              খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান

দেশে ফিরলে অচিরেই তাকে জেলে পাঠানো হবে এমন আশংকা থেকে তারেক রহমান বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে দেশে ফিরতে দিচ্ছেন না। আপাতত মাকে দেশে ফিরতে বারণ করছেন। কিন্তু খালেদা জিয়া তারেকের সাথে একমত নন। এ মতভিন্নতার কারণেই খালেদা জিয়ার লন্ডন সফর দীর্ঘায়িত হচ্ছে। লন্ডন ও ঢাকার একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

এদিকে দু’সপ্তাহের জন্য ব্যক্তিগত সফরে গিয়ে দু’মাস লন্ডনে থাকায় দলের সর্বস্তরে হতাশা বিরাজ করছে। কানাঘুষা চলছে আসলে কোন পথে যাচ্ছে দেশের অন্যতম বৃহত রাজনৈতিক প্লাটফরম বিএনপি। সরকারি দলের নেতারা খালেদা জিয়ার দীর্ঘ লন্ডন সফর নিয়ে নানা কটাক্ষমুলক বক্তব্য দিচ্ছেন। কেউ বলছেন-খালেদা জিয়ার আর ফিরবেন না। সর্বশেষ শেখ সেলিম রোববার বলেছেন-লন্ডন থেকে না আসলে তাকে ধরে এনে বিচার করা হবে। এসব বক্তব্যের কোন যুতসই উত্তরও আসছে না বিএনপি থেকে। বিএনপি’র মত বিশাল জনসমর্থনপুষ্ট দল এখন একজন আসাদুজ্জমান রিপনের ব্রিফিং নির্ভর হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, তারেক রহমান যুক্তি দেখাচ্ছেন যে, তার মা দেশে ফিরলে জেলে বন্দী করা হবে এবং তার পর দলকে তছনছ করে ফেলা হবে। তখন দেশে আর দলের কোন অভিভাবক থাকবে না। তা চেয়ে বরং নিরাপদে বিদেশে থেকেও দলের নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব হবে। তবে খালেদা জিয়া পুত্রের এই মনোভাবের সঙ্গে দ্বিতম করে বলেছেন, দলীয় নেতাকর্মীদের বিপদে রেখে প্রবাসে নিরাপদ জীবন তার কাম্য নয়। দেশে ফিরে যে কোন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে তিনি প্রস্তত আছেন। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস তাকে জেলে পুরে নেতাকর্মীদের থেকে বিচ্ছিন্ন কররেও তিনি জনবিচ্ছিন্ন হবেন না, বরং তার ও দলের প্রতি জনগণের সহানুভূতি বাড়বে এবং সরকারের জন্য তা বুমেরাং হবে।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়া ব্যক্তিগত সফরে লন্ডন পৌঁছান। সেখানে দু’ সপ্তাহ অবস্থান শেষে তাঁর দেশে ফেরার কথা থাকলেও ইতিমধ্যে তা কয়েক দফা পেছানো হয়েছে। ব্যক্তিগত এই সফরে খালেদা জিয়া তাঁর বড় ছেলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসায় অবস্থান করছেন। ছোট ছেলে মরহুম আরাফাত রহমানের স্ত্রী ও দুই মেয়ে সেখানে রয়েছেন।

লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খালেদা জিয়া আপাতত ২০ নভেম্বরের আগে দেশে ফিরছেন না, এটা নিশ্চিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নেতা বলেন, ২০ নভেম্বর খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানের জন্মদিন। পরিবারের চাপাচাপিতে তিনি ছেলের জন্মদিন পালনের জন্য ফেরার সময় বিলম্বিত করেছেন। তবে ২৫ নভেম্বরের মধ্যেই তিনি দেশে ফিরবেন। বিএনপির আরেক নেতা দাবি করেন, ২০ নভেম্বরই খালেদা জিয়া দেশের উদ্দেশে রওনা দেবেন। পরদিন তিনি দেশে পৌঁছাবেন।

দীর্ঘ দুই মাস অবস্থানকালে খালেদা জিয়া একান্ত পারিবারিকভাবেই সময় পার করেছেন। এ সময়ে তাঁর এক চোখের ছানি অপারেশন এবং হাঁটুর চিকিতসা হয়েছে। লন্ডনে আসার এক সপ্তাহের মাথায় খালেদা জিয়া গত ২৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্যপ্রবাসীদের সঙ্গে একটি ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে হাজির হন। এরপর ১ নভেম্বর যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত একটি নাগরিক সভায় বক্তব্য দেন তিনি। এ ছাড়া খালেদা জিয়া অন্য কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেননি।

১ নভেম্বরের এক সভায় খালেদা জিয়া বলেন, তাঁর পরিবারের লোকেরা তাঁকে যেতে দিতে চায় না। ওরা চায় তিনি আরও কিছুদিন তাদের সঙ্গে সময় কাটান। কিন্তু দেশের যে অবস্থা, তাঁকে দ্রুত দেশে ফিরতেই হবে। তিনি সেদিন আগের চেয়ে বেশ সুস্থ এবং ভালো আছেন বলে জানিয়েছিলেন।

যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক বলেন, ছোট ছেলে আরাফাত রহমান মারা যাওয়ার পর বড় ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে খালেদা জিয়ার এই সফরে প্রথম সাক্ষাত হয়েছে। তাঁর ছোট ছেলের পরিবারও এখানে বসবাস করছে। ফলে বেশ কয়েক বছর পর তিনি পরিবারের সবাইকে একসঙ্গে পেয়েছেন। স্বাভাবিকভাবে তাঁর পরিবার তাঁকে ছাড়তে চাইছে না। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ তাঁর জন্য অপেক্ষা করছে। তাই তিনি খুব শিগগির দেশে ফিরবেন।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪.কম/রিপন/ডেরি

Related posts