April 21, 2019

মন্ত্রীর কথা কি শুধুই ফাঁকাবুলি হচ্ছে ?

ঢাকাঃ  তেলের দাম দাম কমলেও বাসভাড়া কমেনি। জ্বালানি তেলের দাম লিটারে এক টাকা কমলে বাসের ভাড়া কিলোমিটার প্রতি এক পয়সা কমবে বলে জানিয়েছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। মন্ত্রী কথা এখন শুধুই ফাঁকাবুলি। বাসভাড়া কমানোর কথা এখন কেউই বলছে না।

সর্বশেষ যখন ডিজেলের দাম লিটারে সাত টাকা বাড়ানো হয় তখন বাস ভাড়া বাড়ানো হয় কিলোমিটার প্রতি ১০ পয়সা। অর্থাৎ তেলের দাম এক টাকার বিপরীতে কিলোমিটার প্রতি ভাড়া বাড়ে প্রায় দেড় পয়সা। কিন্ত ঢাকা শহরে কিলোমিটার প্রতি ১ টাকা বাড়িয়েছে পরিবহন মালিকরা। এখন আর তারা বাসভাড়া কমানোর কথা বলছেন না। এখন বাস ভাড়া কমানোর কথা বললে, পরিবহণ মালিক ও শ্রমিকরা বলেন, আমাদের গাড়ি গ্যাসে চলে তাই কমানোর কথা ভাবছি না। ঢাকা শহরে কিছু গাড়ি গ্যাসে চললেও দূরপাল্লার কোন গাড়িই গ্যাসে চলে না।

অকটেন ও পেট্রোলের দাম লিটারে কমেছে ১০ টাকা আর ডিজেল ও কেরোসিন কমেছে প্রতি লিটারে তিন টাকা করে। অথচ তেল চালিত কোনো গণপরিবহনই ভাড়া কমায়নি নগরীতে। উল্টো বাসচালক ও কন্ট্রাক্টরদের খোঁড়া যুক্তিতে অতিষ্ঠ হচ্ছেন যাত্রীরা।

বাসযাত্রী রহিম শেখ বলেন, ‘গ্যাস-তেলের দাম বাড়া-কমাতে আমাদের কোনো যায় আসে না। তেলের দাম কমলে ওদের (বাস মালিক) লাভ। আমরা দেখি, তেলের দাম এক আনা বাড়লে ভাড়া বাড়ে ১০ আনা। কিন্তু কমলে কারোর খবর থাকে না। সরকারের উচিত, মোড়ে মোড়ে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে এদের বিচার করা’।

রোববার (২৪ এপ্রিল) মধ্যরাত থেকে কার্যকর হয়েছে জ্বালানি তেলের পুনর্র্নিধারিত মূল্য। দাম কমায় পরিবহন ভাড়া কমবে আশা করে সোমবার (২৫ এপ্রিল) সকাল থেকে পথে নেমেছিলেন নগরবাসী। কিন্তু আগের বর্ধিত হারের ভাড়াই আদায় করা হচ্ছে যাত্রীদের কাছ থেকে।

মিরপুর থেকে নারায়ণগঞ্জগামী পরিবহন হিমাচল। এ পরিবহনের অধিকাংশ বাসই তেলে চলে। অথচ তেলের দাম কমায় এ পরিবহনগুলোকে এখন গ্যাস চালিত পরিবহন বলে দাবি করছেন চালক-সুপারভাইজার-সহকারীরা। প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবারও ৬০ টাকা ভাড়া আদায় করেছে যাত্রীর কাছ থেকে। মিরপুর-১০ নম্বর থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত ভাড়াও অন্যান্য দিনের মতো ২৫ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

গুলিস্তান মোড়ে হিমাচল পরিবহনের যাত্রী সুজন আকন্দ বলেন, ‘প্রতিদিন যা কাটে আজও তাই কাটছে। ওরা (বাস মালিক) তো মাস্তান, তেলের দাম কমালো কারোর যায়-আসে না। ওদের কথা বলে লাভ নেই’।

অন্য বাসগুলোও তেল চালিত হয়েও গ্যাস চালিত পরিবহন বলে দাবি করা হচ্ছে। যেমন শিকড় পরিবহনের কিছু বাস তেল চালিত হলেও এর শ্রমিকরা তা বলতে নারাজ। এ পরিবহন মিরপুর থেকে যাত্রাবাড়ী রুটে ৩২ টাকা ভাড়া আদায় করছে। জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে বাসে উঠলেই আদায় করা হচ্ছে ২৫ টাকা ভাড়া। মিরপুর চিড়িয়াখানা থেকে কেরানীগঞ্জে চলাচল করে দিশারী পরিবহন। এটিও প্রেসক্লাব থেকে বাসে উঠলেই ২৫ টাকা ভাড়া আদায় করছে।

শিকড় পরিবহনের সুপারভাইজার কাদের বলেন, ‘আমাদের সব গাড়ি গ্যাসে চলে। গ্যাসের তো দাম কমেনি। তাহলে আমরা কেন ভাড়া কমাবো? আমাদের ত্যালের কোনো গাড়ি নেই’।

মিরপুর শ্যাওড়াপাড়া পেট্রোল পাম্পে মোটরসাইকেল চালক জাহাঙ্গির হোসেন বলেন, গড়ে দৈনিক দুই লিটার অকটেন লাগে। এতে প্রতিদিন ২০ টাকা সেভ হচ্ছে। এ উদ্যোগ নেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ।

মঙ্গলবার সকাল থেকে রাজধানীর মিরপুর, শ্যামলী, ফার্মগেট এবং মহাখালী এলাকার গণপরিবহনগুলোতে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা গেছে, যাত্রী পরিবহনে ভাড়ার কোনো হেরফের নেই। আগের মতোই সিটিং সার্ভিসগুলোতে গাদাগাদি করে লোক উঠানো হচ্ছে। ভাড়া আগের মতোই নেয়া হচ্ছে। মাঝেমধ্যে কন্ট্রাকটারের সঙ্গে কথার কাটাকাটি হয় আবার কিছুক্ষণ পর থেমে যায়।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/২৫ এপ্রিল ২০১৬

Related posts