September 23, 2018

মনগড়া বিদ্যুত বিল দিচ্ছে বিশ্বনাথ জোনাল অফিস

যেন জ্বালানী ও বিদ্যুৎ মন্ত্রী’র নজরে আসেন

IMG-20180905-WA0001সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার বিদ্যুত গ্রাহকদের উপর মনগড়া বিদ্যুত বিল তৈরী করে হাতিয়ে নিয়েছে প্রতি মাসে কোটি টাকা। এই উপজেলায় প্রায় ৩৭ হাজার গ্রাহক আছেন। প্রতিটা গ্রাহকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিটার দেখে বিদ্যুত ব্যবহার রিডিং লিখে নিয়ে আসতে হয়। কিন্তু বিদ্যুত কর্মকর্তা বাড়িতে না গিয়ে মনগড়া বিদ্যুত বিল তৈরী করে অতিরিক্ত বিল আদায় করে প্রতি মাসে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিশ্বনাথ নতুন বাজারের জামাল নূর একটি বাসার মালিক- তিনির মিটার হিসাব নং- ৮৬৪-১৩৮০। তাদের বিদ্যুত বিলের কাগজে লেখা গত ২১ জুলাই ২০১৮ থেকে ২৯৬৩৫ ইউনিট ছিল- ১৯ আগস্ট ২০১৮ বিদ্যুত ব্যবহার করা হয়েছে ২৯৯৬০ ইউনিট পর্যন্ত। তার মানে ২১ জুলাই থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত মোট ৩২৫ ইউনিট বিদ্যুত ব্যবহার করা হয়েছে। আজ ৪ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ ১৫ দিন পর বিদ্যুতের মিটার সরজমিন দেখা যায়- ২৯৮৪৫ ইউনিট চলতেছে। এখন প্রশ্ন- যে দিন মিটার দেখে লিখে গেছে আজ থেকে ১৫ দিন পূর্বে। তাহলে তাদের লেখা ২৯৯৬০ ইউনিট থেকে আরো ১৫ দিনে ১৫০ ইউনিট বেড়ে যাওয়ার কথা, এখানে তাদের হিসাব থেকে ১১৫ ইউনিট কমে ২৯৮৪৫ ইউনিট এলো কি করে? এভাবে অতিরিক্ত ইউনিট বাড়িয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এরকম অভিযোগ আরো অনেক পাওয়া গেছে ।

ধারণা করা যাচ্ছে, যদি ৩৬ হাজার গ্রাহকের মধ্যে ১০ হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে ১০০ ইউনিট অতিরিক্ত করে বিদ্যুত বিল নিলে, ১ইউনিট= ৫ টাকা হলে× ১০০ইউনিট= জন প্রতি গ্রাহক ৫০০ টাকা × ১০০০০ গ্রাহক হলে= ৫০০০০০০/= পঞ্চাশ লক্ষ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে যদি কোনো গ্রাহক অভিযোগ করেন- কর্মকর্তারা বলেন- ভুল হয়ে গেছে, সংশোধন করে দিচ্ছি। আমার জানামতে ৯৯% গ্রাহক অভিযোগ করেন না। কারণ- এসব দূর্নীতি খেয়াল করেননি। সরল মনে বিশ্বাস করে তাদের বিলের কাগজে লেখা মতো নিজের অজান্তেই বিদ্যুত বিল পরিশোধ করে যাচ্ছেন।

ইদানিং নতুন আরেকটি অভিযোগ পাওয়া গেছে- বর্তমান বিলের সাথে গত ২০০৯ সাল থেকে বিভিন্ন সালের বকায়া বিল দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে অনেক গ্রাহক বেখেয়াল বিল পরিশোধ করে যাচ্ছেন। যারা খেয়াল করে দেখেছেন, তারা বিদ্যুত অফিসে অভিযোগ করায় কর্মকর্তারা ভুল হয়েগেছে বলে সংশোধন করে দিচ্ছেন।

গত এক বছর যাবত নতুন আইন দেখা যাচ্ছে- কোন গ্রাহক যদি গত দুই মাসের মধ্যে বিদ্যুত বিল পরিশোধ করতে পারেনি, বর্তমান মাসের বিল আসার পূর্বে ব্যাংকের মাধ্যমে বিল পরিশোধ করে দিয়েছেন, দেখা গেছে বর্তমান বিলের সাথে গত এক মাসের বিল সংযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এতে অনেকে বেখেয়ালে আবার দ্বিতীয়বারের মতো বিল পরিশোধ করে যাচ্ছেন। যারা খেয়াল করেছেন- তারা অফিসে এসে সংশোধন করে ঐ একমাসের বিল পরিশোধ করে যাচ্ছেন।

এমনিতেই বিদ্যুত বিল ৪ গুণ বেড়ে যাওয়াতে সাধারণ গ্রাহকরা ভোগান্তি তে পরতে হচ্ছে। গত বছরের যাদের বিল আসতো ৫০০ টাকা, বর্তমানে বিল আসছে ২০০০ হাজার টাকা। এর মধ্যে বিভিন্ন কায়দায় দূর্নীতি করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিতেছে বিদ্যুত কর্মকর্তারা। এর হিসাব কে দেখবে?

মো. ফজল খান, সাংবাদিক ও আহবায়ক- বাঁচাও বাসিয়া নদী ঐক্য পরিষদ।

Related posts