November 19, 2018

‘মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা রক্ষা করা ইরান-তুরস্কের ধর্মীয় দায়িত্ব’

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কঃ  ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা দু’দেশেরই ধর্মীয় দায়িত্ব। এ সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানও উপস্থিত ছিলেন।

তেহরান ও আঙ্কারার মধ্যে সহযোগিতা বিষয়ক আটটি চুক্তি সইয়ের পর প্রেসিডেন্ট রুহানি ইয়েমেন, সিরিয়া ও ইরাক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে বলছেন, এ দেশগুলোতে চরম নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা ইরান, তুরস্কসহ সমগ্র মুসলিম বিশ্বের স্বার্থের জন্য জরুরী। এ সংবাদ সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরান ও তুরস্ক এ অঞ্চলের কোনো দেশেরই বিভাজন চায় না এবং তারা চায় হত্যা ও যুদ্ধ বন্ধ হোক, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়া হোক এবং এ অঞ্চলের দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশী শক্তির হস্তক্ষেপও বন্ধ হোক।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান ও তুরস্ক এ অঞ্চলের দু’টি গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম দেশ। নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় তেহরান-আঙ্কারার বিরাট ভূমিকা রয়েছে। আঞ্চলিক নানা বিষয়ে ইরান ও তুরস্কের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে তারা শত্রুদের ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে সক্ষম। পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার এবং বিরাজমান সমস্যা সমাধানে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠায় ইরান অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত ওআইসি’র শীর্ষ সম্মেলনেও ইরান নিজ অবস্থান ঘোষণা করে বলেছে তারা কখনই মুসলিম দেশগুলোর বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করবে না। কোনো কেনো মুসলিম দেশ দখলদার ইসরাইলের প্রতি সমর্থন জানালেও এবং তাদের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড সত্ত্বেও ইরান তাদের প্রতি বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া, ইরান এ অঞ্চলের সব দেশকে নিয়ে মুসলিম ঐক্য জোরদারের চেষ্টা করছে।

বর্তমানে ওআইসি’র সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে তুরস্ক। তাই দেশটি মুসলিম ঐক্য জোরদারে ভূমিকা রাখবে বলে সবার প্রত্যাশা যাতে উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদের কবল থেকে মুসলিম জাতিগুলো নিষ্কৃতি পায়। বিশ্লেষকরা বলছেন, শিয়া ও সুন্নি মাজহাবের ঊর্ধ্বে উঠে মুসলিম ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তাদের মতে, একমাত্র ঐক্যের ছায়াতলেই মুসলিম উম্মাহ যেকোনো সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারবে এবং ওআইসি’র বর্তমান সভাপতি হিসেবে তুরস্ক এ ক্ষেত্রে অবদান রাখতে পরে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ঐক্য ও সংহতি অনেকটা জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ইরাক ও সিরিয়ায় উগ্র ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ড সমগ্র পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করে তুলেছে। শত্রুরা মুসলমানদের বিভিন্ন গ্রুপকে একে অপরের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়ে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এ ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা ওআইসি’র গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এবং মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য এ কাজকে আরো সহজ করে দিতে পারে।

শান্তি, নিরাপত্তা ও সুন্দর জীবন যাপন সব মুসলিম জাতির আকাঙ্ক্ষার বস্তু। তাই মুসলমানদের উচিৎ হবে না ওআইসির সদস্য কয়েকটি দেশের বিভেদকামী নীতির অনুসরণ করে চলা।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/১৭ এপ্রিল ২০১৬/রিপন ডেরি

Related posts