November 21, 2018

ভোটের জন্য প্রস্তুত ইসি

আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনের প্রায় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শনিবার ২৩৪ পৌরসভায় ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় মালামাল পাঠানো শেষ করা হয়েছে। সোমবার মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে প্রার্থীদের সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা। এছাড়া নির্বাচনি এলাকায় ২৭ ডিসেম্বর রাত ১২টা থেকে ৩১ ডিসেম্বর ভোর ছয়টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

এদিকে সোমবার সকালেই মাঠে নামছে বিজিবি-র‌্যাব-পুলিশ-কোস্টগার্ড-আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় লক্ষাধিক সদস্য। এদের সঙ্গে মাঠে থাকছে ১ হাজার ২০৪ জন নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। বুধবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ২৩৪ পৌরসভা নির্বাচনে ২০টি দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মেয়র পদে ৯৪১ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছে। কাউন্সিলর পদে ৮ হাজার ৫৮৯ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ২ হাজার ৫৩৩ জন প্রার্থী রয়েছে। তবে এদের মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেয়র পদে ৬ জন এবং কাউন্সিলর পদে ৯৪ জন ও নারী কাউন্সিলর পদে ৪০ জন নির্বাচিত হয়েছেন। সাড়ে তিন হাজার ভোটকেন্দ্রের এসব পৌরসভায় ভোটার রয়েছে প্রায় ৭১ লাখ। এতে প্রায় ৩ হাজার ৫৮২টি কেন্দ্রে ৬১ হাজার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন বলে ইসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, ভোটগ্রহণের সব প্রস্তুতি শেষ করেছে কমিশন। এখন অপেক্ষা শুধু ভোটের। শনিবার নির্বাচনের ব্যালট পেপারসহ সব ধরনের নির্বাচনি মালামাল মাঠপর্যায়ে পাঠানো শেষ হয়েছে। সোমবার সকালেই মাঠে নামছে লক্ষাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। ভোটের আগে-পরে মিলে ২৮ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট চার দিন তারা মাঠে থাকবে। ইতোমধ্যে নির্বাচনি আচরণবিধি দেখভালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে রয়েছেন। ২৮ ডিসেম্বর থেকে নামছে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।

ভোটার ও ভোটকেন্দ্র : এ নির্বাচনে ৩ হাজার ৫৮২টি ভোটকেন্দ্রে ভোট হবে। এসব ভোটকেন্দ্রে বুথের সংখ্যা ১৯ হাজার ১৮৭টি। এ হিসাবে প্রতি কেন্দ্রে ১ জন করে ৩ হাজার ৫৮২ জন প্রিজাইডিং অফিসার, প্রতি বুথে ১ জন করে ১৯ হাজার ১৮৭ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং প্রতি বুথে ২ জন করে ৩৮ হাজার ৩৭৪ জন পোলিং অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে পুরুষ ভোটার ৩৫ লাখ ৮৬ হাজার ৩৫৬ জন এবং নারী ভোটার ৩৫ লাখ ৭৬ হাজার ৪০ জন। ভোট গ্রহণ করবেন ৬১ হাজার ১৪৩ জন কর্মকর্তা।

শেষ হচ্ছে সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা : আগামীকাল সোমবার মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা। ফলে প্রার্থী বা প্রার্থীর পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি সোমবার মধ্যরাত থেকে কোনো ধরনের প্রচারণা চালাতে পারবেন না। এখন শুধু প্রার্থীদের হিসাব-নিকাশ মেলানোর পালা।

নিরাপত্তার চাদরে পৌর এলাকা : সোমবার সকাল থেকেই মাঠে নামছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ইসির সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারা জানান, সবমিলিয়ে এ নির্বাচনে প্রায় এক লক্ষাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকছে। এর মধ্যে ভোটের দিন ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ২০ জন ও সাধারণ কেন্দ্রে ১৯ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্বে থাকবেন। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ নির্বাচনে বিজিবি, কোস্ট গার্ড, র‌্যাব, পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যরা নির্বাচনি মাঠে থাকছে। ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় পুলিশ, আনসার-ভিডিপি ও ব্যাটালিয়ন আনসার সার্বক্ষণিক থাকছে। এছাড়া মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে বিজিবি, র‌্যাব, এপিবিএন, কোস্টগার্ড ও পুলিশ সদস্যরা নিয়োজিত থাকছে।

নির্বাচনি মালামাল গেল ২৩৪ পৌরসভায় : মেয়র, সাধারণ ও সংরক্ষিত পদের ব্যালট পেপার, সিল, ফরম প্যাকেট ও অন্যান্য নির্বাচনি সামগ্রী শনিবার বিতরণ শেষ করেছে ইসি। এ নির্বাচনের মেয়র, সাধারণ ও সংরক্ষিত পদের ২ কোটি ১০ লাখের বেশি ব্যালট পেপার, ভোট দেওয়ার সিলসহ নির্বাচন সামগ্রী মাঠপর্যায়ে পাঠিয়েছে ইসি। গত শুক্রবার ও শনিবার গভর্নমেন্ট প্রিন্টিং প্রেস থেকে পৌরসভাভিত্তিক ব্যালট পেপার ও নির্বাচনি সামগ্রী বিতরণ করা হয় বলে জানান ইসির উপসচিব মো. সাজাহান খান। সংশ্লিষ্ট পৌরসভার রিটার্নিং কর্মকর্তার প্রতিনিধিদের মাধ্যমে নির্বাচনি এলাকায় নিরাপত্তা প্রহরায় এসব মালামাল নিয়ে গেছে। ভোটের আগের দিন সব পৌরসভায় রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রতি কেন্দ্রে নিয়ে যাবেন প্রিজাইডিং অফিসাররা।

৪৮ ঘণ্টা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা : নির্বাচনি এলাকায় ভোটের আগের রাত থেকে শুরু করে মোট ৪৮ ঘণ্টা যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মেনে ২৯ ডিসেম্বর রাত ১২টা (দিবাগত মধ্যরাত) থেকে ৩০ ডিসেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। ইতোমধ্যে এ নির্দেশনা জারি করেছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। এসব পৌরসভায় বেবি ট্যাক্সি, ট্যাক্সি ক্যাব, মাইক্রোবাস, জিপ, úিকআপ, কার, বাস, ট্রাক ও টেম্পোতে এ নিষেধাজ্ঞা থাকবে। এছাড়া নির্বাচনি এলাকায় ২৭ ডিসেম্বর রাত ১২টা থেকে ৩১ ডিসেম্বর ভোর ছয়টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে ইসি কর্মকর্তারা জানান, ইসি ও রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদিত পরিচয়পত্রধারী, নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর, জরুরি পণ্য সরবরাহ ও অন্যান্য প্রয়োজনে এ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts