November 16, 2018

ভোটকেন্দ্র পাহারা দিন—রিজভী

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, পৌরসভা নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিরোধীদলের এজেন্টদের ভোট কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা প্রদানসহ সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

বুধবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।

রিজভী বলেন, গাজীপুর জেলার শ্রীপুর পৌরসভায় সাংবাদিকদের গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে তাদের বাড়িতে বাড়িতে হানা দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও রাজশাহীতে দৈনিক দিনকাল এবং এটিএন নিউজের সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নির্বাচনে বেশ কিছু পৌরসভায় ভোটকেন্দ্র থেকে বিএনপির এজেন্টদের বের করে প্রকাশ্যে নৌকায় সিল মারার অভিযোগ করেন রিজভী।

তিনি বলেন, ‘পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে শুরু থেকে আমাদের আশঙ্কার বৈশিষ্ট সকাল থেকে ফুটে উঠেছে। বেশ কিছু পৌরসভায় প্রশাসনের সহায়তায় নৌকায় সিল মারা হচ্ছে। ধানের শীষের এজেন্টদের মারধর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হচ্ছে। অনেক জায়গায় ক্ষমতাসীনরা ত্রাসের সৃষ্টি করে সাধারণ ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।’

রিজভীর বলেন, গাজীপুরের শ্রীপুরে সাংবাদিকদের বাড়িতে বাড়িতে পুলিশ হানা দিচ্ছে। লক্ষ্মীপুরে কাল রাত থেকে নৌকায় ভোট দেয়া হচ্ছে। রায়পুর, নাটোর, বরগুনার বেতাগী, পাথরঘাটা, ঝালকাঠি, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ, নোয়াখালী, জামালপুর সদর, মূলাদী, ফেনী, যশোর, চাঁদপুরের কচুয়া, চট্টগ্রামের রাউজানসহ বেশ কিছু জায়গায় ধানের শীষের এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে।

রাজশাহী জেলার পুটিয়া উপজেলা, লক্ষীপুর জেলার রায়পুর পৌরসভার ১,৩,৫,৬ নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা কেন্দ্র দখল করে গতরাত থেকেই ব্যালট পেপারে সিল মারছে অভিযোগ করে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, নাটোর সদরে ধানের শীষ প্রতীকের পোলিং এজেন্টকে মারধর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এ ছাড়াও বরগুনার পাথরঘাটা, ঝালকাঠি জেলার ১,২, এবং তিন নং ওয়ার্ড, মৌলভীবাজার , নোয়াখালী জেলার ১,৩,৪, ও ৫ নং ওয়ার্ড, লাকসাম, মাদারীপুর, জামালপুর, ফেনী জেলার দাগনভূঁইঞা এবং বরিশাল জেলায় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা গুলি ও বোমাবাজি করে ভোট কেন্দ্র ঘিরে রেখেছে এবং ত্রাস সৃষ্টি করেছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, আওয়ামী সরকার রাষ্ট্রযন্ত্রকে কাজে লাগিয়ে তাদের ঐতিহ্য অনুযায়ী কল্পনাতীত গুণ্ডামি ও জালিয়াতির সাহায্যে অতীতে যেমন নির্বাচনগুলোকে তামাশায় পরিণত করেছিল এবারও সেই লক্ষণগুলো সকাল থেকেই দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।

নির্বাচনে দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিট্রেটরাও শাসক দলের তাণ্ডবের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে অভিযোগ করে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, সরকার এই নির্বাচন পুরোপুরি জালিয়াতির উপর সাজাতে চাচ্ছে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের শেষ রেশটুকুও বিলীন করে দেয়া হবে কিনা এটা নিয়ে সংশয়ে প্রকাশ করছে জনগণ।

নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনকে জালিয়াতির ওপর না সাজিয়ে সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করুন। যেসব জায়গায় কেন্দ্র দখল হয়েছে সেসব জায়গায় পূনরায় ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা করুন।’

এ সময় তিনি সকল বাধা অতিক্রম করে ভোট শেষ এবং ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে থাকা এবং পাহারা দেয়ার আহ্বান জানান।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts