February 16, 2019

ভূমিহীনের টাকা মেম্বারের পেটে!

zakir p2
তোফায়েল হোসেন জাকির, স্টাফ রিপোর্টার : ভূমিহীন পরিবারে জন্ম মজিবর রহমানের। বয়স প্রায় ৫০ ছুঁইছঁই করছে। পেশায় এক জন কুলি শ্রমিক। তার বাবা বিসা শেখ কয়েক বছর আগে মারা যান। বাবার কোনো অর্থ-সম্পদ কিংবা জমি-জমা না থাকায় মজিবর রহমান পৈত্রিক সুত্রে ভূমিহীন। গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর শহর সংলগ্ন বাসিন্দা মজিবর। তবে তার গ্রাম কিংবা বাড়ির ঠিকানাবিহীন বলা চলে। বর্তমান মাথা গোঁজার ঠাই হিসেবে সাদুল্যাপুর কেন্দ্রীয় কোবরস্থান ঘেষে আবু মিয়ার জমিতে টিনসেড ঘর তুলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কোনমতে বসবাস করে আসছে। দিন আনে দিন খায় মজিবর। তার স্ত্রী রুপালী বেগম জানান, স্বামীর শারিরীক অবস্থা তেমন ভাল নয়। দীর্ঘদিন ধরে নানা রোগে ভুগছে। একারণে কুলির সর্দাররা তাকে কাজে দিতে চায়না। তব্ওু পেটের তাগিদে নানা আঁকুতি জানিয়ে কাজ নেয় মজিবর। তবে অসুস্থ্যজনিত কারণে একদিন বিছানায় পড়ে থাকলে উপোষ থাকতে হয় পরিবারারে সকলের। টাকার অভাবে দুমুঠো অন্ন যায়না তাদের পেটে।
এদিকে মজিবর রহমান তার পরিবার নিয়ে স্বাভাবিক পরিবেশে বসবাস করতে সরকারের আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর নেয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো ঘর পায়নি মজিবর। একপর্যায়ে কথা হয় বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা সদস্যা শান্তনা বেগমের সাথে। মজিবরকে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ দেবে বলে জানায় শান্তনা। তবে ফ্রি নয়। শান্তনা বেগমের দাবী ২৫ হাজার টাকা। কথামতে রাজী হয় মজিবর। আশা এনজিও থেকে ঋণ গ্রহন ও স্থানীয় দাদনের টাকা নিয়ে শান্তনার হাতে তুলে দেয় নগদ ২৫ হাজার টাকা। যেন মজিববর রহমানের মুখে খুসির বন্যা। কারণ, পাকা বাড়িতে বসবাস করতে পারবে। ব্যবহার করতে পারবে মানসম্মত টয়লেট-বাথরুম। এনিয়ে খুসি অন্ত নেই মজিবরের পরিবারের। বেশ বেদনাভরা মোনকে বিতাড়িত করে হাস্যেজ্জ্বল মুখে পাকা ঘরের আশায় ঘুরতে থাকে শান্তনা বেগমের পিছে। এ ধারা অব্যহত রেখে হঠাৎ শান্তনা বেগম ফের মজিবরের নিকট টাকার দাবী করেন। এতে বিপাকে পরে মজিবর। একদিকে সুদের টাকার লাভের ঘানি, অন্যদিকে আবারও টাকার দাবী। যেন চোখে শষ্যফুল দেখতে শুরু করলো মজিবর। টাকা যোগারের ব্যর্থর কথা শান্তনাকে জানায়। কিন্তু আবারও টাকা না দিলে ঘর বরাদ্দ দেয়া সম্ভব নয় বলে শান্তনা বেগম জানিয়ে দেয় মজিবরকে। zakir p1

সম্প্রতি মজিবর রহমান নিরুপায় হয়ে প্রদানকৃত ২৫ হাজার টাকা শান্তনার নিকট ফেরৎ চায়। কিন্তু অর্থলোভী শান্তনা বেগম কিছুতেই মানতে রাজী নয়। শান্তনা বেগম মজিবরকে সাফ জানিয়ে দেয় যে, গ্রহীত ২৫ হাজার টাকা জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে ব্যয় করা হয়েছে। তোকে টাকা ফেরৎ দিতে পারবো না। এমনকি আশ্রয়ণ প্রকল্পেও ঘর বরাদ্দ দেয়াও সম্ভনয় বলে জানান শান্তনা বেগম। তবুও টাকা ফেরতে দাবি নিয়ে শান্তনার নিকট ঘুরতে থাকে মজিবর। এভাবে মাসের পর মাস অতিবাহীত হলেও মজিবরকে টাকা ফেরৎ দেয়নি শান্তনা। এছাড়াও একই ভাবে ফুলু মিয়া নামের আরেক ভুমিহীনের নিকট ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন শান্তনা বেগম।
এদিকে নিজের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে মজিবর ও ফুলু মিয়ার পরিবারকে প্রায়ই হুমকী-ধামকী দিয়ে আসে শান্তনা। একপর্যায়ে মজিবরের স্ত্রী রুপালী বেগমকে বেধরক মারপিট করে শান্তনা ও তার লোকজন। এবিষয়ে মজিবর রহমানের প্রতিবেশী মৃত গোলজার রহমানের ছেলে ফুলু মিয়া এগিয়ে আসলে তাকে লাঞ্চিত করেন। শুধু তায় নয়, নিজের অপবাদ ঢাকতে মজিবর ও ফুলু মিয়ার গংদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন শান্তনা বেগম ও তার আরেক প্রতিবেশী ইয়াসমিন বেগম। এভাবে মজিবর ও ফুলু মিয়াকে নানা হয়রানীসহ কোনঠাসা করে রেখেছে। একটু মুখ খুললেই যেন হত্যার হুমকীর সম্মুখিন হচ্ছে মজিবর ও ফুলু মিয়া। পর বাধ্য হয়ে সাদুল্যাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ করেছেন মজিবর ও ফুলু মিয়া।
এ বিষয়ে বনগ্রাম ইউপি সদস্যা শান্তনা বেগমের জানতে চাওয়া হলে তিনি ওইসব ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, মজিবর রহমান ও ফুলু মিয়ার সঙ্গে আমার বিরোধ চলে আসছিল। এ বিষয়ে আমি আদালতে মামলা দায়ের করি। এ মামলাকে কেন্দ্র করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা রটনা ছড়াচ্ছে বলে শান্তনা বেগম জানান।
সাদুল্যাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রহিমা খাতুন বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে। একই কথা জানালেন ইউপি চেয়ারম্যান শাহীন সরকার।

Related posts