September 22, 2018

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদে চাকুরী, আটক ১৯ পুলিশ!

পাবনা থেকে নরেশ মধুঃ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদে চাকুরী নেওয়ায় ১৯ পুলিশ কনেস্টবলকে আটক করেছে দুদক।

দুদক, সমন্বিত পাবনা জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোঃ আবু বকর সিদ্দিক ও উপসহকারী পরিচালক, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ আবুল কালাম আজাদ এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, সোমবার বিকেল ৪টায় পাবনা শহরের চাঁদাখাঁর বাঁশতলা এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়েছে।

আটককৃত পুলিশ কনেস্টবলরা হচ্ছেন, সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি থানার চর জকনালা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক মন্ডলের ছেলে আইয়ুব আলী (কনস্টেবল নং-২৯৮৫৫), আদাচাকি গ্রামের কোরবান মোল্লার ছেলে কামরুল ইসলাম (কনস্টেবল নং ২৬৬৬), দেলোয়া কান্দি গ্রামের সানাউলালাহ শেখের ছেলে আব্দুল কুদ্দুস শেখ(কনস্টেবল নং ২৯৫৪০) চর মেঠুয়ান গ্রামের শহিদ আলীর ছেলে আলী আব্বাস(কনস্টেবল নং-২৯০৮৩), ব্রাম্মন গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে মো: আলী(কনস্টেবল নং-২৯৯১৯), আদাচাকি গ্রামের আনাসার আলীর ছেলে সবুজ মিয়া(কনস্টেবল নং-২৬৩১), কাজিপুড়া গ্রামের সাইদুল ইসলামের ছেলে আবু হানিফ(কনস্টেবল নং ২৬৩০), আগনুকালী গ্রামের শুকুর শেখের ছেলে সাইফুল ইসলাম(কনস্টেবল নং-২০৫৯২), কোণাবাড়ি গ্রামের আব্দুল বারির ছেলে ফেরদৌস(কনস্টেবল নং-১৫০৯১), চর রাইয়পুর গ্রামের শাহাদত হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম(কনস্টেবল নং-১৪২৮০), ধুলগাগড়াখালি গ্রামের আজাহার আলীর ছেলে হায়দার আলী(কনস্টেবল নং-২৯৪৬০), লক্ষীপুর গ্রামের আব্দুস ছাত্তারের ছেলে বুদ্ধি মিয়া(কনস্টেবল নং-২৭৫৯), তেয়াশিয়া গ্রামের গোবিন্দ সরকারের ছেলে সুমন সরকার(কনস্টেবল নং-২৭৪৬), বিশ্বাসবাড়ি গ্রামের সুজাবত আলীর ছেলে শহিদুল ইসলাম(কনস্টেবল নং-২৯৯৬৩), চরমেটুয়ানি গ্রামের ইউনুস আলরি ছেলে আব্দুল আওয়াল(কনস্টেবল নং-২৪৬০৯), চর মধ্য মেটুয়ানি গ্রামের গনি সরকারের ছেলে আমিনুল ইসলাম(কনস্টেবল নং-২৩০৬২), দক্ষিণ বানিয়াগাতি গ্রামের রজব আলীর ছেলে আলামিন(কনস্টেবল নং-২৯২৭৪), বয়রাবাড়ি গ্রামের সানাউল্লাহ মন্ডলের ছেলে সোহেল রানা(কনস্টেবল নং-২০৭০২) ও বয়রাবাড়ি গ্রামের সোনাউল্লাহ মন্ডলের ছেলে সুমন আহমেদ( কনস্টেবল নং-২০৮৮১)।

উপপরিচালক আবু বকর সিদ্দিক জানান, একটি চক্রের সাথে যোগসাজশে বিশ্বাস ভঙ্গ, প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে মুক্তিযোদ্ধার ভূয়া জাল সনদ দিয়ে মুক্তিযোদ্ধার কোঠায় পুলিশ বিভাগে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে ভর্তি ও যোগদান করার অপরাধে ২০১৪ সালের ৬ নভেম্বর সিরাজগঞ্জ পুলিশ লাইনের রিজার্ভ অফিসার-২ এসআই নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে সিরাজগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় পাবনা-সিরাজগঞ্জ সমন্বিত দূর্নীত দমন কমিশন পাবনাকে। দীর্ঘদিন মামলার তদন্ত শেষে পুলিশের চাকুরি নেয়া ১৯ কনস্টেবলকে আটক করা হয় সোমবার। দুদক উপপরিচালক আবু বকর সিদ্দিক বলেন, আটককৃতরা প্রত্যেকে সিরাজগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। তাদেরকে আটকের পর পাবনার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে। পাবনার আদালত থেকে সিরাজগঞ্জ আদালতে তাদের স্থানান্তর করা হবে বলে দুদক সূত্র নিশ্চিত করে। দুদক সূত্র আরও জানায়, এই মামলায় মোট আসামী করা হয়েছে ৪০ জনকে। তন্মধ্যে ২০ জন ভূয়া জাল মুক্তিযোদ্ধা সনদের মালিক ও ওই সনদে চাকুরি নেওয়ার বিরুদ্ধে। ১৯ জনকে আটক করতে পারলেও আরও একজন কনস্টেবল পলাতক রয়েছেন। এছাড়াও পর্যায়ক্রমে ভূয়ার জাল মুক্তিযোদ্ধা সনদধারীদের আইনের আওতায় এনে সারাদেশে এই জাল প্রতারক চক্রকে সনাক্ত করা হবে বলেও দুদক কর্মকর্তা জানান।

Related posts