September 19, 2018

ভাসমান হাঁসের খামারে দারিদ্র ঘোচাতে চায় নাইচ মিয়া

tp 3
তোফায়েল হোসেন জাকির, গাইবান্ধাঃ পানির উপরে ভাসমান হাঁসের খামার। হাঁস ভেসে চলছে খাল-বিলের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তরে। ঘরের ভিতরের হাঁসের খামারের খাদ্য সহ নানা উপকরণ। খাল-বিলের পালে পালে হাঁসের চলাচল এমনি এক ব্যািতক্রম হাঁসের খামার গড়েছেন গাইবান্ধা জেলার সাদুল্যাপুর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের বড় জামালপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের কলেজ পড়–য়া ছেলে সামিউল ইসলাম নাইচ (২০)। এর সহযোগিতায় রয়েছেন নাইচের মা লাভলী বেগম। বাবা রফিকুল ইসলাম পেশায় একজন অটোরিকশা চালক। তিন ভাইয়ের মধ্যে সামিউল ইসলাম নাইচ বড়। সাদুল্যাপুর ডিগ্রী কলেজের এইচএসসি’র ২য় বর্ষের ছাত্র নাইচ মিয়া। অপর দুই ভাই মানিক মিয়া জামালপুর মজিদিয়া দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ও এমরান মিয়া জামালপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণিতে অধ্যায়নরত। নাইচ মিয়ার বাবার পাঁচ সদস্যর সংসার। শুধুমাত্র বসত ভিটা ছাড়া আর কোন সহায় সম্পদ নেই। tzp 1বাবা রফিকুল ইসলাম স্ত্রী-সন্তানদের অণ্যবস্ত্র ও লেখাপড়ার খরচ যোগাতে চরম হিমসিম খেতে হয়। এদিকে কলেজ পড়–য়া যুবক নাইচ মিয়া দরিদ্রের কষাঘাত থেকে রেহাই পেতে নানা ফন্দি আটেন। গত বছর পার্শ¦বর্তি চিকনী গ্রামের তৌহিদুলের হাঁসের খামারকে অনুকরণ করে নাইচ মিয়া। কিন্তু অর্থাভাবে সেই অনুকরণ ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম। এসময় মা লাভলী বেগম নিত্যদিনের মুষ্টির চাউল বিক্রি করে প্রথমে ৫০টি হাঁসের বাচ্চা দিয়ে ভাসমান পদ্ধতিতে খামারের কার্যক্রম আরম্ভ করেন। প্রথম দফায় লাভের মুখ দেখেন নাইচ মিয়া।
নিজের জমি-জমা ও পুকুর না থাকলেও বাড়ির সামনে চিকনীর খাল-বিলে এ রকম ভাসমান হাঁসের খামার গড়ে তুলে লাভবান হতে চলছেন নাইচ মিয়া। তিনি জানান, নিজের বেকারত্ব ঘোচাতে এবারে খাকি ক্যাম্বেল জাতের ৫শ হাঁসের বাচ্চা দিয়ে চিকনীর বিলের উপর ভাসমান এ খামারে হাঁস পালন শুরু করেন তিনি। নিজের পকেটে কোন টাকা-পয়সা না থাকলেও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে হাঁসের বাচ্চা কিনে খামারের খাদ্য সামগ্রী কেনেন। এরপর আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। বর্তমানে খামারে তার হাঁসের সংখ্যা ৫ শতাধিক। খামারে বাচ্চা উঠানোর ৬০ থেকে ৭৫ দিন লালন-পালন করার পর হাঁসগুলো বিক্রি করেন। এতে বাচ্চা ক্রয়, খাদ্য ও ওষুধ বাবদ ব্যয় প্রায় ৩০/৩৫ হাজার টাকা। যা বিক্রি করেন ৭০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা আয় করে থাকেন। নাইচ মিয়া বলেন, সারাদিন খাল-বিলের পানিতে খাদ্য খেতে পারে বলে হাঁসের খাবারের পিছনে খুব বেশি খরচ করতে হয় না। tzp 2এ দিয়েই ভালো ভাবে সংসার চলছে বলে তিনি জানান। তবে খামারের প্রসার ঘটাতে সরকারের সহযোগীতা কামনা করছেন তিনি।
ওই এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, নাইচ মিয়ার হাঁস পালনের এ উদ্যোগ একেবারেরই ব্যতিক্রম। প্রতিদিন অনেক মানুষ পানির উপর ভাসমান এ খামার দেখতে আসে। আর খামারের হাঁস সারা বিলে দল বেঁধে, বেঁেধ ঘুর বেড়ায়, আদার খায়। এতোগুলো হাঁস একসাথে দেখলেও ভালোলাগে। পাশ্ববর্তী গ্রামের যুবক মেহেদী হাসান জানান, আমি পানির উপর ভাসমান হাঁসের খামার দেখতে এসেছি। আমার ইচ্ছে আছে এ বছরই এরকম একটি খামার গড়ার।
এ বিষয়ে সাদুল্যাপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, জলাশয়ের একই পানিতে মাছের সাথে প্রাকৃতিক খাবার দিয়ে হাঁস পালন করলে মাছ দ্রত বড় হয়। মাছের জন্য আলাদা খাবার খুব একটা দেয়ার প্রয়োজন হয় না। এতে করে মৎস্য জীবিরা লাভবান হবেন।tzp 4
সাদুল্যাপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা আব্দুর হাই জানান, বড় জামালপুর গ্রামের যুবক সামিউল ইসলাম নাইচের ভাসমান হাঁসের খামারটি আমি পরিদর্শন করবো। এটি একটি ভালো উদ্যোগ। এ পদ্ধতিতে হাঁসের জন্য বাড়তি খাবার না দিয়েও হাঁস পালন করা যায়। আমাদের উপজেলায় এরকম অনেক ছড়া ও বিল রয়েছে। যেখানে স্বপ্ল খরচে হাঁস চাষ করে বেকারত্ব সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি প্রচুর আয় করা সম্ভব।

Related posts