September 26, 2018

ভারতে মন্দিরে অগ্নিকাণ্ডে ১০৬ জন নিহতের কারন উদঘাটন

স্টাফ রিপোর্টঃ ভারতের কেরলা রাজ্যের পুত্তিনগাল মন্দিরে রোববার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১০৬ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরো সাড়ে ৩শ মানুষ। রোববার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে নববর্ষের উৎসবের প্রস্তুতির সময় এ আগুনের সুত্রপাত হয়। আগুনে দগ্ধ মানুষের সাড়ে তিন শ’। তাদের আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ভারতীয় গণমাধ্যম ও বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।

স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছে, নববর্ষের উৎসব উপলক্ষে ওই মন্দিরে জড়ো করা আতশবাজির স্তূপে ভোরের দিকে এ আগুন লাগে। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে মন্দিরটিতে নববর্ষের উৎসব শুরু হওয়ার কথা ছিল। মালায়ালাম পঞ্জিকা অনুয়ায়ী, মেদাদ মাসের প্রথম দিন নববর্ষ উদযাপন করে এ রাজ্যের অধিবাসীরা। বর্ষ শুরুর এ দিনটি ওই রাজ্যে বিশু উৎসব হিসেবে পরিচিত।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানিয়েছে, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। প্রায় আড়াই ঘন্টা চেষ্টার পর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে উদ্ধার কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। তারা জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।

বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারণা স্থগিত রেখে মন্দিরে ছুটে যান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ওমেন চণ্ডী। এক টুইট বার্তায় আগুনে হতাহতের ঘটনায় শোক জানিয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন।

কেরালা পুলিশের প্রধান টিপি সেনকুমার গণমাধ্যমকে বলেছেন, নিহতের অনেকে শরীর এতটাই পুড়ে গেছে যে তাদের সনাক্ত করা দুরুহ হয়ে পড়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিস্ফোরণের বিকট শব্দে মন্দিরে কয়েক কিলোমিটারে এলাকা কেঁপে উঠে। মন্দিরে কাছাকাছি বাস করা জয়শ্রী হরেকৃষ্ণ জানান, ‘বিস্ফোরণে মন্দিরের বিশাল খণ্ড বাতাসে উড়ছিল। কয়েকখণ্ড আমার বাড়ির আঙ্গিনায় এসে পড়ে।’ রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেস চেনিথালা মন্দিরে আগুনের এ ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, আতশবাজি উৎসব চলাকালে অসাবধনাবশত মন্দিরে আগুন লেগে যায়। প্রশাসনের নির্দেশ অগ্রাহ্য করে ওই উৎসবের আয়োজন করেছিল মন্দির কর্তৃপক্ষ।

হিন্দুস্থান টাইমস পত্রিকাটি জানাচ্ছে, ওই উৎসবের সময় মন্দিরে জড়ো করে রাখা আতশবাজির গাদায় গিয়ে স্ফূলিঙ্গ পড়লে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। অথচ কোল্লপম জেলার কালেক্টর শিনামল বলছেন, তিনি মন্দির কর্তৃপক্ষকে কোনোরকম আতশবাজির আয়োজন না করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু তারা প্রশাননের সেই নির্দেশ গ্রাহ্য না করেই আতশবাজির উৎসব শুরু করেছিল।

এদিকে মন্দিরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারবর্গকে দুই লাখ এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার রুপি ক্ষতিপূরণ প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে অগ্নিকাণ্ডে আহতদের সকল খরচ রাজ্য সরকার বহন করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন কেরালা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ওমেন চণ্ডী।

Related posts