September 26, 2018

ভারতে ব্যান্ডউইথ রফতানি শুরু!

অবশেষে বাংলাদেশ বাণিজ্যিকভাবে ভারতে ব্যান্ডউইথ রফতানি শুরু করেছে। প্রাথমিক অবস্থায় ১০ জিবিপিএস (গিগাবাইট পার সেকেন্ড)। এই পরিমাণ ব্যান্ডউইথ রফতানি করে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) বছরে ১২ লাখ মার্কিন ডলার আয় করবে। দেশে বাড়তি মূল্যবান ব্যান্ডউইথ ফেলে না রেখে ভারতে রফতানি করার উদ্যোগ নেয় সরকার। বিষয়টি মন্ত্রিপরিষদে অনুমোদনের কয়েক মাসের মধ্যে এটি কার্যকর হলো।

বিটিসিএল আখাউড়া-আগরতলা সীমান্তের জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ স্থাপন করেছে। বাংলাদেশ অংশের কেবল স্থাপনের কাজ বিটিসিএল নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয়েছে। আখাউড়া সীমান্তে একটি বেইস স্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে। এখান থেকেই ব্যান্ডউইথ রফতানির সংযোগ দেয়া হয়েছে ভারতে। জিরো পয়েন্ট এলাকায় বিএসএনএল (ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটেড) বিটিসিএলের অপটিক্যাল ফাইবারের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে বাণিজ্যিকভাবে ব্যান্ডউইথ নিচ্ছে। সংযোগ স্থাপনের বিষয়টি দুই দেশের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী হয়েছে। বাংলাদেশ-ভারত জিরো পয়েন্ট এলাকায় ৫০ মিটার দূরত্বের সংযোগ দুই দেশের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে স্থাপন করা হয়েছে।

বিটিসিএল সূত্র জানিয়েছে, দুই দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে গত ১৬ নবেম্বর সংযোগ স্থাপন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। ওই দিন বিটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম ফখরুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী আখাউড়া সীমান্তের জিরো পয়েন্টে অপটিক্যাল ফাইবার স্থাপনকাজটি পরিদর্শন করেন। তার সঙ্গে ছিলেন বিটিসিএলের জিএম (ট্রান্সমিশন) শাহীদুল আলম এবং মার্কেটিং প্রধান কবির হাসান প্রমুখ। এর আগে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানির চাহিদা অনুযায়ী দেশে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ সরবরাহের পর উদ্বৃত্ত ব্যান্ডউইথ ভারতে রফতানির লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার সিদ্ধান্ত নেয়। এই ব্যান্ডউইথ রফতানি প্রক্রিয়ায় বিটিসিএল দেশের অভ্যন্তরে ফাইবার অপটিক লিংক তৈরি করেছে। প্রাথমিকভাবে ১০ গিগাবাইট পরিমাণ ব্যান্ডউইথ রফতানির কথা থাকলেও পরবর্তীতে ধাপে ধাপে তা ৪০ গিগাবাইট পরিমাণ ব্যান্ডউইথ রফতানি করা যাবে। পর্যায়ক্রমে ৪০ গিগাবাইট ব্যান্ডউইথ রফতানি করা হবে।

বিএসসিসিএল জানিয়েছে, ভারতের ব্যান্ডউইথ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বিএসএনএল তাদের জটিলতা কাটিয়ে উঠে ব্যান্ডউইথ নেয়ার কাজ শুরু করেছে। কথা ছিল গত ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যান্ডউইথ রফতানি শুরু করা হবে। পরে বিএসএনএলের অনুরোধে সময় বাড়িয়ে করা হয় ১৫ সেপ্টেম্বর। ওই সময়ও তারা ব্যান্ডউইথ নিতে পারেনি। আবার তারা তারিখ পরিবর্তন করে ১৫ নবেম্বর করে। এই সময়েও তারা ব্যান্ডউইথ নেয়ার কাজটি শেষ করতে পারেনি। সর্বশেষ বিএসএনএল ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশ থেকে ব্যান্ডউইথ নেবে বলে জানায়। প্রাথমিক অবস্থায় ১০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ লিজ দেয়া হবে ভারতকে।

এই পরিমাণ ব্যান্ডউইথ রফতানি করে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) বছরে ১২ লাখ মার্কিন ডলার আয় করতে পারবে। প্রতি মেগাবাইটের দাম ধরা হয়েছে ৯ দশমিক ৫ থেকে ১০ মার্কিন ডলার। পর্যায়ক্রমে ব্যান্ডউইথের পরিমাণ ৪০ জিবিপিএস পর্যন্ত বাড়ানো হবে। ৪০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ রফতানি করা গেলে বছরে ৪৮ লাখ মার্কিন ডলার আয় করা সম্ভব হবে। ভারতের বিএসএনএলের সঙ্গে তিন বছরের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।

বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন বলেন, কিছুদিন আগে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে একটি মেইল পাঠানো হয়েছিল। তাতে বলা হয়, নির্ধারিত দিনে তারা ব্যান্ডউইথ নিতে পারছে না। পরে বিষয়টি নিয়ে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তারা বলেছে, বাংলাদেশ সীমান্তে অবস্থিত ব্যাকহোলে কেবল নেয়ার জন্য ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে অনুমতি পাওয়া যায়নি। কয়েকদিনের মধ্যে ওই অনুমতি পাবেন বলে বলা হয়। ভারতের সীমান্ত থেকে ৫০ মিটার দূরে আমাদের ব্যাকহোল স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। আমাদের দিক থেকে যে কোন সময় ব্যান্ডউইথ রফতানি করার প্রস্তুতি রযেছে। ভারতীয় কোম্পানি জটিলতা কাটিয়ে উঠতে পারলেই আমাদের কাছ থেকে ব্যান্ডউইথ নিতে পারবে।

এখন সেই জটিলতা কাটিয়ে ভারত আমাদের কাছ থেকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যান্ডউইথ নিচ্ছে। ভবিষ্যতে ব্যান্ডউইথের পরিমাণ আরও বাড়ানোর মতো সুবিধা রাখা হয়েছে। যে ধরনের কেবল স্থাপন করা হয়েছে তাতে এই কেবলের মাধ্যমে ৪০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ রফতানি করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশের এ ব্যান্ডউইথ ভারতের অসম, ত্রিপুরা, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, মণিপুর ও অরুণাচল রাজ্যে ব্যবহার হবে। ব্যান্ডউইথ রফতানির জন্য কারিগরি প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত ২৫ আগস্ট বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) সঙ্গে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিসিএল) সার্ভিস লেভেল এগ্রিমেন্ট (এসএলএ) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বিটিসিএল থেকে ব্যাকহোল সার্ভিস গ্রহণই এ চুক্তির উদ্দেশ্য। এতে স্বাক্ষর করেন বিটিসিএলের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিএসসিসিএলের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক। একটি প্রতিষ্ঠান কেবল স্থাপন এবং আরেকটি প্রতিষ্ঠান ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করবে।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts